১৯ নভেম্বর ২০১৮

সেই তামিমির ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল

সেই তামিমির ওপর আবারো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরাইল - সংগৃহীত

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক ফিলিস্তিনি তরুণী অহেদ তামিমি ও তার পরিবারের ওপর বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তেল আবিব। ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রায় দুই মাস পর এ নিষেধাজ্ঞা দিলো ইসরাইল। ইসরাইলের এক সেনাকে থাপ্পড় মারার জন্য তাকে আট মাস জেল খাটতে হয়েছে।

তুরস্কের সরকারি বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে শুক্রবার তামিমির বাবা বাসিম তামিমি বলেন, তার পরিবার জর্দান হয়ে ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা করেছিল। এ সফরে তাদের ফিলিস্তিনি আন্দোলন নিয়ে কিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ তাদেরকে জানিয়েছে যে, ইসরাইলকে না জানিয়ে তামিমির পরিবার বিদেশ সফর করতে পারবে না। বাসিম তামিমি জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালেই তাদের ইউরোপ সফরে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অহেদ তামিমি ইরান সফরেরও পরিকল্পনা করেছিলেন।

ইরানের ইংরেজি ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল প্রেসটিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অহেদ তামিমির বাবা বলেছেন, তার মেয়েকে ইসরাইল বিদেশ সফরের ব্যাপারে এই ভয়ে বাধা দিয়েছে যে, তারা মনে করে ইসরাইলের শত্রুদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক করে অহিদ তামিমি মধ্যপ্রাচ্যকে খণ্ডবিখণ্ড করা সংক্রান্ত ইসরাইলের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।

অহেদের বাবা আরো বলেন, তার মেয়েকে ইসরাইল বিদেশ সফরের বিষয়ে বাধা দিচ্ছে এই কারণে যে, অহেদ তামিমি মানবতার জন্য একজন অ্যাম্বাসাডর হয়ে গেছে এবং তার প্রতি তেল আবিবের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সহানুভূতিকে ইসরাইল ভয় পায়।   

গত ডিসেম্বর মাসে অধিকৃত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলের বর্বর সেনারা আটক করেছিল ফিলিস্তিনের ১৭ বছর বয়সী এ তরুণীকে। সে সময় তামিমি ইসরাইলের দুই সেনার মুখে থাপ্পড় মারেন এবং সেই ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভাইরাল হয়ে পড়ে। তার বিরুদ্ধে সেনাদের ওপর হামলা, উসকানি দেয়া এবং ইসরাইলি সেনাদের কাজে বাধা দেয়াসহ ১২টি অভিযোগ আনা হয়। ইসরাইলি আদালত তাকে আট মাসের কারাদণ্ড দেয় এবং গত ২৯ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ইসরাইলের সেনারা এর আগেও কয়েকবার অহেদ তামিমির পরিবারের সদস্যদের আটক করেছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আগ্রাসন রুখে দেয়ার জন্য তার বাবা ও ভাইকে আটক করা হয়। এছাড়া, ইসরাইলি বাহিনী ২০১২ সালে অহেদ তামিমির চাচা রুশদি আত-তামিমিকে গুলি করে হত্যা করে। ১৯৯৩ সালে ইসরাইলের পুলিশ অহেদ তামিমির ফুফু বাসিমা আত-তামিমিকে পিটিয়ে হত্যা করে। ওইদিন বাসিমা তার ছেলের বিচারকার্য দেখার জন্য ইসরাইলের আদালতে গিয়েছিলেন।

 

লড়াইয়ে বিজয়ী হচ্ছে ফিলিস্তিনি বীর কন্যা তামিমি

আনাদোলু এজেন্সি, আলজাজিরা ও এবিসি নিউজ, ২৬ জুলাই ২০১৮

দখলদারদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবশেষে বিজয়ী হতে চলেছে ফিলিস্তিনি বীর কন্যা আহেদ আল-তামিমি। নতুন প্রজন্মের এক বীরপ্রতীক হিসেবে ফিলিস্তিনের কাছে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ানো তামিমি আগামী রোববার মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। ফিলিস্তিনিদের জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে ওঠা তামিমির মুক্তি পাচ্ছেন এমন সংবাদে ফিলিস্তিনিদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ সংগ্রামের আইকন প্রতিবাদী তামিমিকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও। ‘রেডিয়েন্স অব রেসিসটেন্স’ নামের চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালে নির্মিত। এখানে আহেদ আল-তামিমির ১৪ বছর বয়সের গল্প বলা হয়েছে। তখন তিনি তার নয় বছর বয়সী বান্ধবী জেনা আজাদকে নিয়ে কাজ করতেন। এই দুইজন ফিলিস্তিনিদের কাছে কনিষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবেও পরিচিত। এক ঘণ্টার স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন, আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা জেসি রবার্ট। এখানে দুইজন তরুণ প্রতিবাদকারীর চোখ দিয়ে ফিলিস্তিনি-ইসরাইল দ্বন্দ্বকে উপস্থাপন করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির বর্ণনায় লেখা হয়েছে, ফিলিস্তিনি কিশোররা প্রতিদিন কিভাবে তাদের জীবন অতিবাহিত করছে এবং দেশটির নতুন প্রজন্ম কিভাবে নির্যাতনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। 


অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দুই হানাদার সেনাকে চড় ও লাথি দেয়ার ঘটনায় তাকে কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছিল। ১৭ বছর বয়সী এ তরুণীর বাবা  বাসেম আল তামিমি এ তথ্য জানিয়েছেন। আহেদের বাবা বাসেম আল তামিমি বলেন, তার মেয়ে ১৯ আগস্ট মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মুক্তির দিন এগিয়ে আনা হয়েছে।বিশেষ মূল্যায়নে ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ কারো কারা মেয়াদ কমিয়ে আনতে পারেন। গত মার্চে দেশটির সামরিক আদালত তাকে আট মাসের সাজা দিয়েছেন।

ফিলিস্তিনিরা জানিয়েছেন, সাড়ে ছয় হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলের কারাগারে আটক রয়েছেন। যাদের মধ্যে সাড়ে তিনশর বেশি শিশু। বিচারের সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ১৭ বছরের এ সাহসী কিশোরী বলেছিল, আমিই হানাদার সেনাদের চড়িয়েছি, লাথি দিয়েছি। অবৈধ দখলদারদের অধীনে কোনো ন্যায়বিচার হতে পারে না। একটা অবৈধ আদালতে আমাদের বিচার চলছে।  

এর পর ইসরাইলি আদালত আহেদকে আট মাসের কারাদণ্ড ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করেছিল। ইসরাইলি আইনজীবী লাস্কি আইনি প্রক্রিয়াকে প্রহসন আখ্যা দিয়ে জানিয়েছিল, আহেদের মতো অন্য ফিলিস্তিনি তরুণদের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ থেকে দূরে রাখতেই তাকে এমন শাস্তি দেয়া হয়েছে। 

কারাগারে আহেদ পড়াশোনা করে সময় কাটায় বলে জানিয়েছিলেন তার বাবা। তিনি বলেছিলেন,  তামিমিকে আট মাসের কারাদণ্ড প্রদান ও ১৪০০ ডলার জরিমানা করা পুরোপুরি অবিচার। ফিলিস্তিনিদের দমন করতেই এই সাজানো বিচারের আয়োজন করা হয়েছে। তার মেয়ে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়েছে এ জন্য যে, তাকে তিন বছর কারাদণ্ড দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছিল। 

এত আলোচিত এই ঘটনাটি হচ্ছে- ফিলিস্তিনি কিশোরী আহেদ তামিমি তাদের বাড়ির প্রবেশপথের কাছে দাঁড়ানো দুই ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে যান কোঁকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী। সেনাদের কাছাকাছি গিয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বলেন তিনি। কিন্তু ওই দুই সেনা তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর ওই দুই সেনাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু সেনারা কোনো তোয়াক্কা না করায় এক সেনার গালে সজোরে থাপ্পড় বসিয়ে দেন তিনি। এ দৃশ্য কেউ একজন মোবাইল ফোনের ক্যামেরা ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিওটি। এ ভিডিওকে ঘিরে ফিলিস্তিনি কিশোরীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদমাধ্যমগুলো।

 থাপ্পড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা মাসহ ওই কিশোরী আহেদ ও তার ২১ বছর বয়সী চাচাতো বোন নূর নাজি আল তামিমিকে গ্রেফতার করে। আহেদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ, মোবাইল ও বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় তামিমির পরিবারের লোকজনকে সেনারা মারধরও করে।

 


আরো সংবাদ