২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

‘একজন তো আমার জীবন নরক করে তুলেছিল’

‘একজন তো আমার জীবন নরক করে তুলেছিল’ - সংগৃহীত

প্রধানত যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে পালানো লোকজনের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার জন্য ফরাসী দাতব্য প্রতিষ্ঠান এমএসএফ বিশ্বজুড়ে বেশ খ্যাতি কুড়িয়েছে। বাংলাদেশেও রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বহুদিন ধরে কাজ করে এমএসএফ।

কিন্তু স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানেরই কিছু সাবেক নারী কর্মী বিবিসির একটি সংবাদ-ভিত্তিক অনুষ্ঠানে স্পর্শকাতর কিছু তথ্য ফাঁস করেছেন। তারা বলেছেন, আফ্রিকায় এমএসএফের কর্মীরা দেদারসে স্থানীয় যৌনকর্মীদের ব্যবহার করতো।

এই সাবেক নারী কর্মীদের একজন তারই এক সিনিয়র সহকর্মীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ওষুধের বদলে সেক্স পাওয়া সহজ।’


এমএসএফ জানিয়েছে কোনো ধরনের ‘নির্যাতন, হয়রানি অথবা দুর্বলতার সুযোগ নেওয়া’ কোনোভাবেই এই প্রতিষ্ঠানে সহ্য করা হয়না, এবং প্রতিষ্ঠানের কঠোর আচরণবিধিতে যৌনকর্মী ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

যেসব সাবেক কর্মী এই তথ্য ফাঁস করেছেন তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের ভয়, ভবিষ্যতে দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদেরকে হয়তো কালো-তালিকাভুক্ত করতে পারে।

সাবেক এক এমএসএফ কর্মী, যিনি প্রতিষ্ঠানের লন্ডন অফিসে কাজ করেছেন, বলেন তিনি একজন সিনিয়র কর্মীকে দেখেছেন কেনিয়াতে কাজ করার সময় তিনি এমএসএফের কর্মীদের বাসস্থানেই মেয়েদের নিয়ে আসতেন। তিনি ছিলেন একজন ‘শিকারি পুরুষ’।

‘ঐ মেয়েদের অনেকেই ছিল কমবয়সী, তারা যৌনকর্মী বলে বিস্তর গুজব ছিল। আমারই এক সহকর্মী যিনি ঐ বাড়িতে থাকতেন বলেছেন, এই কাজ নিয়মিত হতো।’

সাবেক ঐ এমএসএফ কর্মী বলেন, ‘আমার মনে হয়েছে, কিছু সিনিয়র কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করতেন। তারা সেখানে বহুদিন ধরে ছিলেন, এবং পশ্চিমা দেশ থেকে আসা মানুষ হিসাবে তারা তাদের মর্যাদার সুযোগ নিতেন। প্রায়ই দেখা যেত বয়স্ক এবং মাঝ-বয়সী লোকগুলো খুবই অল্পবয়সী স্থানীয় মেয়েদের সাথে পার্টি করছে।’

এমএসএফের অন্য এক সাবেক নারী কর্মী, যিনি মধ্য আফ্রিকায় এইচআইভি প্রকল্পে কাজ করেছেন, দাবি করেন, স্থানী যৌনকর্মীদের ব্যবহার হরহামেশাই হতো। ব্যবহার করা কনডম উদ্ধার হয়েছে অনেকবার।

‘একজন বয়স্ক সহকর্মী বাড়িতে (যেখানে এমএসএফ কর্মীরা বসবাস করতেন) একজন এক নারীকে এনে উঠিয়েছিলেন। সবাই জানতো ঐ নারী একজন যৌনকর্মী, কিন্তু তিনি তাকে মেয়েবন্ধু হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিতেন এবং রাতের পর রাত তার সাথে কাটাতেন।’

‘চোখের সামনে ঘটেছে এসব। আমি আমার আরেক সহকর্মীকে দেখেছি এক যৌনকর্মীকে নিয়ে টয়লেটে ঢুকছে। আমি ঐ মেয়েতে চিনতাম। সে একটি বারে কাজ করতো। সে আমাকে পরে বলেছে, আমার ঐ সহকর্মীর সাথে পয়সা নিয়ে সেক্স করেছে।’

ঐ কর্মী আরো অভিযোগ করেনে, তিনি নিজেও সহকর্মীদের হাতে যৌন-হেনস্থার শিকার হয়েছেন। ‘একজন তো আমার জীবন নরক করে তুলেছিল। একবার আমি কয়েক সপ্তাহের জন্য ছুটি থেকে ফিরে দেখি আমার ঘরে ব্যবহার করা কনডম পড়ে আছে। আমার ঐ সহকর্মী অন্যদের বলেছিল সে ইচ্ছা করে আমার ঘরে কনডম ফেলে রেখেছিল।’

এমএসএফ ইউকের নির্বাহী পরিচালক ভিকি হকিন্স বলেন, ‘অভিযোগ করার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তাদের রয়েছে, তবে সেটা যেন মানুষজন ভালোভাবে জানে এবং আস্থার সাথে তা ব্যবহার করতে পারে তার জন্য হয়তো আরো কাজ করতে হবে।’

ফেব্রুয়ারি মাসে যখন ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফামের বিরুদ্ধে বিদেশে যৌনকর্মী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল, সে সময় এমএসএফও স্বীকার করেছিল যে তারা গত বছর যৌন হেনস্থার দায়ে ১৯ জন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে।


আরো সংবাদ