০৪ মে ২০২৪, ২১ বৈশাখ ১৪৩১, ২৪ শাওয়াল ১৪৪৫
`


করোনা ভাইরাস

লক্ষণ ছাড়াই ২০০০ জনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে আক্রান্ত ব্যক্তি

-

চীনসহ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস লক্ষণ প্রকাশ করা ছাড়াই আক্রান্ত ব্যক্তি দুই হাজার জনের বেশি মানুষকে আক্রান্ত করতে পারেন। চীনে এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৫৬ জনের বেশি। অন্য দেশগুলোতে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বাংলাদেশে এখনো কোনো আক্রান্ত পাওয়া যায়নি। তবু বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আইইডিসিআর-এ একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে পর্যবেক্ষণের জন্য এবং কর্মীটোলা জেনারেল হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষসহ ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছেন, ভাইরাসটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে এবং শক্তিশালী হচ্ছে। এ ভাইরাসে চীনে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৬ জন হলেও আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজারে বেশি। অন্যান্য দেশে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে কিন্তু সংখ্যায় কম। বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী ভারত ও নেপালেও আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে কিন্তু সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত তা নিশ্চিত করা হয়নি। কেবল সন্দেহের কারণে কয়েকজনকে পরীক্ষা করা হয়েছে। চীনের শহরগুলোতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হয়েছে। হোবেই প্রদেশের উহান (যেখান থেকে প্রথম ছড়িয়েছে) শহরটি কার্যত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চীনে ইতোমধ্যে সব ধরনের বন্যপ্রাণী কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের নতুন এই প্রজাতিটির সুপ্তাবস্থা ১৪ দিন। ১৪ দিনের আগে লক্ষণ প্রকাশ করে না। কিন্তু এই ১৪ দিনে আক্রান্ত ব্যক্তি তার নিজের অজান্তেই ভাইরাসটি অন্যকে ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত একজন ব্যক্তি কমপক্ষে দুই হাজার জনকে আক্রান্ত করতে পারেন। এর আগে চীনে ছড়িয়ে পড়া সার্স করোনা ভাইরাস কেবল লক্ষণ প্রকাশ করার পর অপরকে আক্রান্ত করতে পারত। সার্স করোনা ভাইরাসে ২০০৩ সালে চীনে শতাধিক মানুষ মারা যান। এ কারণে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার শক্তি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান করোনা ভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হলে শুরুতে জ্বর হয়। পরে শুকনো কাশি হতে থাকে এবং সাত দিন পর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাদের অনেককেই হাসপাতালে নিতে হয়।
এ দিকে গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডিজি ও সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সানিয়া তাহমিনা ও আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস এখনো বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের কারণ ঘটেনি, আমরা এখনো উদ্বিগ্ন নই। তবে চীনের সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে বলে আমরা আগে থেকেই এ ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এ ব্যাপারটিকে স্বাস্থ্য অধিদফতর গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। এ কারণে শুধু করোনা ভাইরাসের ব্যাপারটি দেখার জন্য একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিদিন চীনের নির্দিষ্ট শহর থেকে আসা বিমান যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখনো কারো মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। মাত্র দু’জনকে সন্দেহের কারণে পরীক্ষা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে পাওয়া গেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা।
অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, গত শনিবার রাত পর্যন্ত এক হাজার ৭৮৩ জন যাত্রীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে আগে থেকেই তিনটি স্ক্যানার ছিল যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য। আজকে (গতকাল রোববার) আরো দুইটি হ্যান্ড স্ক্যানার বিকেলের দিকে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আরো বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আমরা এখন জানতে চেষ্টা করছি কতজন শ্বাসতন্ত্রের রোগের যাত্রী এসেছেন। বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট দেশ থেকে যতজন যাত্রী এসেছেন তাদের প্রত্যেকেরই ফোন নাম্বার ও ঠিকানা নিয়ে রেখেছি।

 


আরো সংবাদ



premium cement
‘২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার রফতানি আয় করবে পোশাক শিল্প’ প্যারিসে গুলিতে একজন নিহত, বেশ ক’জন আহত ভৌগোলিক কারণে সিঙ্গাপুরের জন্য চট্টগ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ : হাই কমিশনার গাজীপুরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে কলেজছাত্র নিহত শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বিদায় নিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী ফেনীতে চাঁদা না পেয়ে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪ বর্তমান সরকার অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত : কর্নেল অলি গণতান্ত্রিক বিষয়কে বিএনপি ফাঁদ মনে করে : ওবায়দুল কাদের বিয়ের এক সপ্তাহের মাথায় দুর্ঘটনায় স্বামী নিহত, আইসিইউতে স্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, আটক ২ টানা ৮ দফা কমার পর আবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

সকল