২৩ এপ্রিল ২০১৯

পদ্মার ভাঙ্গনে ধনী-গরিব সবাই এখন একই কাতারে

পদ্মার ভাঙ্গনে ধনী-গরিব সবাই এখন একই কাতারে - ছবি : নয়া দিগন্ত

অব্যাহত পদ্মার ভাঙ্গনে প্রতিদিনই গিলে খাচ্ছে নড়িয়া এলাকার সরকারী বে-সরকারি ভবন মূলফৎগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানসহ বহু লোকের সাজানো গোছানো ঘরবাড়ি। সোমবার রাতে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ভবনটির অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হাসপাতাল ক্যাম্পাসের একটি আবাসিক ভবনে জরুরি বিভাগ ও বহিঃ বিভাগ চালু রাখা হলেও হাসপাতালে প্রবেশের সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় ভয়ে কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে আসছে না। ফলে এ উপজেলার ৩ লক্ষাধিক লোকের স্বাস্থ্য সেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এই উপজেলার চরাঞ্চলের ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক পরিবারের নারী ও শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে চিকিৎসা ক্ষেত্রে।

স্থানীয় লোকজন সরকারের সংশ্লিষ্টদের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যত্র হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করার দাবি জানিয়েছে। এদিকে হুমকির মুখে পড়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরো ১১টি ভবন। এ ছাড়াও গত ৩ দিনে মূলফৎগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্তত ৪০টি বাড়িঘর পদ্মাগর্ভে চলে গেছে। এর আগে মুলফৎগঞ্জ বাজারের ২ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর, মসজিদ, গ্যারেজ ও পাশ্ববর্তী রাম ঠাকুর সেবা মন্দির বিলীন হয়ে গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী গত তিন মাসে নড়িয়া উপজেলার অন্তত সাড়ে ৪ হাজারের বেশি মানুষের ফসলি জমি, বাপ-দাদার কবর, বাড়িঘর ও বহুতল ভবনসহ অনেক স্থাপনা কেড়ে নিয়েছে পদ্মা। এসব ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে অনেকেই খোলা আকাশের নিচে, আবার কেউ রাস্তার পাশে বা অন্যের জমিতে খুপরি ঘর তোলে ধনি, গরিব ও মধ্যবিত্তরা একই কাতারে দাঁড়িয়েছেন। সীমাহীন কষ্টে আর চোখের পানিতে দিন কাটছে রাক্ষুসী পদ্মার ভাঙ্গনে সর্বহারা হাজার হাজার মানুষের।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ১৯৬৮ সালে নড়িয়া উপজেলা সদরের চার কিলোমিটার দুরত্বে মুলফৎগঞ্জ বাজার সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে ৩০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। ২০১৪ সালে ওই হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। হাসাপাতাল ক্যাম্পাসে জরুরী বিভাগ, বহিঃ বিভাগ ও আবাসিক ভবনসহ ১২টি পাকা ভবন রয়েছে। গত রোববার সকাল থেকে উপজেলার প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটি গ্রাস করে সর্বনাশা পদ্মা। সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে নতুন ভবনটির ৭৫ ভাগ বিলীন হয়ে যায়। এই হাসপাতালটিতে গত কয়েক দিন আগেও প্রতিদিন শত শত নারী পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা নিতে আসত। আগস্ট মাসের শেষের দিকে নড়িয়া সুরেশ্বর সড়কটি পদ্মায় বিলীন হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রোগী কমতে থাকে। এক সপ্তাহ যাবত হাসপাতালে প্রবেশপথটিও পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এর পর হাসপাতালের পিছন দিক দিয়ে একটি সরু পথে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হলেও ভাঙ্গন আতঙ্কে কোনো রোগী চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা আরো জানায়, যেভাবে পদ্মা হাসপাতালের সীমান প্রাচীর, এর পর নতুন ভবন গ্রাস করে এখন ভিতরের দিকে ঢুকছে। এ ভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ধীরে ধীরে সবকটি ভবন পদ্মায় গিলে খাবে। হাসপাতালটি নদীগর্ভে চলে গেলে নড়িয়ার ৩ লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সরে জমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনটি দ্বিখন্ডিত হয়ে অধিকাংশ পদ্মা পড়ে গেছে। পার্শ্বের ভবনগুলো নদীর তীরে রয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা থাকলেও কোনো রোগী দেখা যায়নি। হাসপাতালের সামনে দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বালু ভর্তি জিও টেক্সটাইল ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত ক্ষতিগ্রস্তরা বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। বাজারের পাকা দোকানগুলো নিজেদের উদ্যোগে ভেঙ্গে ইট ও রড সড়িয়ে নিচ্ছে।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়াম্যান ক্ষতিগ্রস্ত ঈমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, আমরা খুবই অসহায়। আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। হাসপাতালটি ভাঙ্গনের মুখে পড়ায় এ উপজেলার লোকজনের চিকিৎসা সেবা অনিশ্চি হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিরাপদ দূরত্বে হামপাতালের কার্যক্রম চালু রাখার দাবি জানাচ্ছি।
নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুনীর আহমেদ বলেন, সোমবার রাতে হাসপাতালের নতুন ভবনটির অধিকাংশ পদ্মা চলে গেছে। আমরা ভবনটি নিলামে বিক্রির জন্য মাইকিং করলেও কোনো লোক আসেনি ক্রয়ের জন্য। হাসপাতালের আরো ১১টি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। সীমিত পরিসরে জরুরি ও বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। তবে এখনো হাসপাতারের কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াছমিন বলেন, ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় হাসপাতালের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। নদীর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Bursa evden eve nakliyat
arsa fiyatları tesettür giyim
Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al
hd film izle
gebze evden eve nakliyat