০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’

রেভারেন্ড মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ওয়াশিংটনে মার্চের সময় তার "আই হ্যাভ এ ড্রিম" বক্তৃতার জন্য লিংকন মেমোরিয়ালে জড়ো হওয়া মানুষের দিকে হাত নাড়ছেন - ছবি : সংগৃহীত

আজ থেকে ৫৮ বছর আগে ৩৪ বছরের এক যুবক স্বপ্ন দেখেছিলেন সাম্যের এবং বিভেদ ও শোষণহীন সমাজের। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। স্বপ্নের কথা বলেছিলেন তার বিখ্যাত ভাষণ ‘আমার একটি স্বপ্ন আছে’ (আই হ্যাভ আ ড্রিম)।

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। সেদিন ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে এক অসামান্য ভাষণ দিয়েছিলেন মার্টিন লুথার কিং, যা সারা পৃথিবীতে ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ নামে খ্যাত। এখন পর্যন্ত পৃথিবীর ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ভাষণগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বলে বিবেচিত।

এর ঠিক ১০০ বছর আগে ১৮৬৩ সালের ১ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন। আর তার ১০০ বছর পরে লিংকনের স্মৃতিসৌধের সোপানে দাঁড়িয়ে কিং শোনান যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বপ্নের কথা। সেদিন সাদা-কালো সকল ধর্মবর্ণের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে এসে ওয়াশিংটনে সমবেত হয়েছিলেন। তাদের দাবি ছিল বর্ণবৈষম্যের অবসান। বিমান, গাড়ি, বাস, ট্রেন এবং পায়ে হেঁটে মানুষ সমবেত হন ন্যাশনাল মলে, লিংকন মেমোরিয়ালের সামনে।

এই সমাবেশে ছিলেন মানবাধিকার কর্মী জন লুইস। বক্তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ। তিনি স্মরণ করেন, সেদিন ভীষণ গরম পড়েছিল। আমি আমার ডানদিকে তাকিয়ে দেখলাম, মানুষ আর মানুষ- হাজার হাজার। আমার বাঁ দিকে দেখলাম আরো মানুষ। তাদের অনেকেই খুবই তরুণ। অনেকেই বক্তাদের দেখার জন্য গাছের ডালে চড়ে বসেছে। সামনের দিকে তাকালাম, সেদিকেও হাজার হাজার লোক। অনেকে লেকের পানিতে নেমেছে একটু ঠাণ্ডা হওয়ার জন্যে। সবাই অপেক্ষা করছে, কখন অনুষ্ঠান শুরু হবে। কিন্তু ড. কিং যখন কথা বলতে শুরু করেন তখন ক্লান্ত মানুষ যেন বিদ্যুতায়িত হন। সশ্রদ্ধ নীরবতা বিরাজ করছিল। যখন তিনি তার স্বপ্নের কথা বলতে শুরু করেন, তখন সবাই ‘আমিন’ বলে চিৎকার করে ওঠে। কিংয়ের কাছে সবাই আরো স্বপ্নের কথা শুনতে চান।

তিনি ভাষণ দানকালে শোনান বৈষম্যমূলক সমাজে আফ্রিকান-আমেরিকানদের বঞ্চনার কথা। তিনি তার স্বপ্নের আমেরিকার কথা বলেন। তিনি বলেন কীভাবে বর্ণবৈষম্য শুধু কালো আমেরিকানদের জীবনকে নয়, গোটা জাতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তারপর তিনি তুলে ধরেন ভবিষ্যতের আমেরিকা নিয়ে তার আশাবাদ, যেখানে সব আমেরিকান হবে সমান, এটাই হবে সত্যিকারের স্বপ্নের আমেরিকা।

কিংয়ের এ ভাষণ সারা আমেরিকা জুড়ে টেলিভিশনে প্রচার হয়। সে-সময়ের তিনটি প্রধান টিভি নেটওয়ার্ক (এবিসি, সিবিএস ও এনবিসি) কিংয়ের বক্তৃতা সম্প্রচার করে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক তার ভাষণ শুনেছেন। তাৎক্ষণিকভাবেই এটি ঐতিহাসিক ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই বিখ্যাত ভাষণের প্রভাবেই ১৯৬৪ সালে আমেরিকায় নাগরিক অধিকার আইন ও ১৯৬৫ সালে ভোটাধিকার আইন প্রণয়ন করা হয়।

‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ ভাষণের ৫০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও মার্টিন লুথারের উক্তি, ভাষণ ও আদর্শ মানুষকে সাহস যুগিয়ে চলেছে, অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সোমবার মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবস পালন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর ১৭ জানুয়ারি, সোমবার পালিত হচ্ছে মার্টিন লুথার কিং দিবস।
সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা


আরো সংবাদ


premium cement