Naya Diganta

চুরির অভিযোগে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলহিজলী গ্রামে চুরির অভিযোগে এক যুবককে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় বাধা দেয়ায় তার মা-বাবাকেও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নির্যাতনের শিকার যুবক অচিন্ত কুমার মন্ডল (২৫) বিলহিজলী গ্রামের অধির কুমার মন্ডলের ছেলে।

সোমবার বিকেলে এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, শনিবার রাতে একই এলাকার রেজাউলের বাড়িতে চুরির অভিযোগ রোববার রাতে এ নির্যাতন চালায় রেজাউল ও তার সহযোগীরা।

ভুক্তভুগী যুবকের মা মিতা মন্ডল বলেন, গত ৬ মার্চ দিবাগত রাতে পাশের রেজাউল ইসলাম ওরফে রেজার বাড়িতে নাকি চুরি হয়েছে। পরদিন রেজাউল, জিয়া ও ময়েন উদ্দিনসহ তাদের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে এসে হামলা করে। তারা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ছেলে অচিন্তকে ঘুম থেকে ডেকে উঠায় ও বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যেতে চায়।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ও আমার স্বামী এতে বাধা দিলে আমাদেরকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দিয়ে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এরপর আমার ছেলেকে তারা নিয়ে যায়। পরে আমার ছেলেকে রেজা তার লিচু বাগানে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে।’

মিতা মন্ডলের ভাষায়, ‘আমার ছেলে বর্তমানে মৃতপ্রায়। এর মধ্যেও তারা আবারো বাড়িতে এসে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দিচ্ছে।’

আহত অচিন্ত কুমার রোববার বিকেলে প্রথমে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অচিন্ত কুমারের মা বলেন, মারধরে আমার ছেলের পা ভেঙ্গে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে অসংখ্য ক্ষতের চিহ্ন। আমি সঠিক বিচার দাবি করছি।

রেজাউল ইসলাম রেজা বলেন, ‘অচিন্ত মন্ডল একজন চিহ্নিত চোর, আমার বাড়িতেও চুরি করেছে।’

এভাবে আইন তুলে নেয়া যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন তাকে গণধোলাই দিয়েছে।’

বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুজ্জামান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।