০৩ জুলাই ২০২০

সরকারের আয় ও ব্যয়ে ভারসাম্যহীনতা

বাজেট শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে ; সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার নিতে হচ্ছে
-

সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, ‘বিগত বছরসমূহের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়নে সাধারণত অর্থবছরের প্রথমার্ধে ধীরগতিতে চলে। অর্থবছরের শুরুর দিকে বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে যেমন ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়, তেমনি বেতন-ভাতা ব্যতীত অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মেরামত সংরক্ষণ, নির্মাণ এবং মালামাল ক্রয়/সংগ্রহের ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষ দিকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। উপরন্তু বছরেরর শেষে এসে সরকারের অপরিকল্পিত ঋণের দায়ভার গ্রহণ করতে হয়। ফলে বাজেটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় না।’
এই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জন্য এখন থেকে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও ত্রৈমাসিকভাবে বাজেট বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ করা হবে। সম্প্রতি অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান কারণ রাজস্ব আহরণ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা। জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত বাজেট সুষ্ঠুভাবে সময়মতো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অপরিকল্পিত সরকারি ঋণ এড়ানো এবং ঋণজনিত ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যায়।’
বলা হয়েছে, ‘এ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেটের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অর্থবছরের শুরুতে একটি বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা গ্রহণ, যথাযথভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বাজেট বাস্তবায়নের নিয়মিত পরিবীক্ষণ করা প্রয়োজন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ যাতে বাজেট বাস্তবায়নের একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিমালা ও পদ্ধতিসহ ফরম করা হয়েছে। উক্ত নীতিমালা ও পদ্ধতি অনুসরণে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাজেট বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন করা একান্ত জরুরি।’
রাজস্ব আহরণ পরিকল্পনার বিষয়ে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ‘২০১৯-২০২০ অর্থবছরের বাজেটে বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে ধার্যকৃত লক্ষ্যমাত্রার ভিত্তিতে কোয়ার্টারভিত্তিক রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো আইটেমের রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে মৌসুমভিত্তিক হ্রাসবৃদ্ধির রেকর্ড থাকলে তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আইটেমের বিপরীতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।’
ব্যয়ের পরিকল্পনায় পরিপত্রে নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘বেতন-ভাতাদিসহ যে সকল আইটেমের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থ সাধারণত সমানুপাতিক হারে পরিশোধ/ব্যয়িত হয়ে থাকে সে সকল আইটেমের বিপরীতে কোয়ার্টারভিত্তিক ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা সমানুপাতিক হারে নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কর্মকর্তাদের বেতনের ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। ’
প্রত্যেক মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের সব ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী প্রত্যেক কোয়ার্টারে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ প্রদর্শন করতে হবে। অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টার হতেই মেরামত ও সংরক্ষণের কাজ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এমনভাবে শুরু করতে হবে যেন অর্থবছরের বিভিন্ন কোয়ার্টারে মেরামত ও সংরক্ষণ কাজের বিল মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে পরিশোধ করা যায় এবং অর্থবছরের শেষ কোয়ার্টারে মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বিল পরিশোধের চাপ সৃষ্টি না হয়।
পরিপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, সরকারি আয়-ব্যয়ের একটি সুষ্ঠু ভারসাম্য আনার জন্য এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দেখা যায়, অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অর্থবছরের শুরুতে কাজ না করে বছরে শেষে তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু ও সমাপ্ত করে। এতে করে ব্যয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এখন থেকে বাজেট বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে করা হবে।

 


আরো সংবাদ

পাটকল শ্রমিকদের পাওনা যেভাবে শোধ করা হবে যে কারণে অনেক শয্যা খালি তবু চিকিৎসা দুর্লভ এরদোগান-ম্যাক্রোঁ দ্বন্দ্ব সংকটে ফেলছে ন্যাটোকে শিরোপাহীন মৌসুম কাটবে মেসির? হায়দার আকবর খান রনোকে দেখতে হাসপাতালে ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া জাদুঘর থাকবে না মসজিদ হবে তা ঠিক হবে আদালতে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের বিবরণী ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসাবে না ডিএনসিসি বাবার বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট খালি, দুই ভাইয়ের রাত কাটে পার্কিংয়ে খুলনায় বিএনপি নেতা গ্রেফতার হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সে বিশেষ ছাড় দিলো ডিএনসিসি

সকল

চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি অস্ট্রেলিয়ার! (১৪৬৪৫)ভারতকে জবাব দিতে সীমান্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র মোতায়েন চীনের (১৪৪৮৯)লাদাখ সীমান্তে পাকিস্তানের ২০ হাজার সেনা মোতায়েন : ফিরে ফেলা হচ্ছে ভারতকে? (১৩৫০৯)বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন (৭৪২১)দেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিল গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড (৫৮৭০)নিজেকে আক্রান্ত মনে হলে যা করবেন (৫৩৭১)রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে সিমেন্টের ঢালাই, ৯০ দিন পর উদ্ধার (৪৭২৯)চিকিৎসকদের ২০ কোটি টাকা খরচের যে হিসাব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ (৪৬০৬)সিরিয়া নিয়ে আবারো আলোচনায় তুরস্ক-ইরান-রাশিয়া (৪১৮৪)এসিডপানে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু (৩৭৯৫)