২৪ জানুয়ারি ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর দায়ে আর্মেনিয়াকে অভিযুক্ত করল আজারবাইজান

পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন পরিষ্কার করছেন এক আজারবাইজানি কর্মকর্তা। - ছবি : সংগৃহীত

নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন পেতে রাখার কারণে আর্মেনিয়াকে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালানোর দায়ে অভিযুক্ত করে জাতিসঙ্ঘের উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে আজারবাইজান। দু’পক্ষের মধ্যে সঙ্ঘাত বন্ধের পরেও আজারবাইজানের নাগরনো-কারাবাখে আর্মেনিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে অভিহিত করা হচ্ছে। সোমবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

আন্তর্জাতিক কোর্ট অব জাস্টিসকে আজারবাইজানের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলনুর মামাদভ অনুরোধ করেছেন যেন আর্মেনিয়াকে ওই পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনগুলো সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক আদালতকে এ আদেশও দিতে বলা হয় যেন আজারবাইজানকে ওউ পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনগুলোর মানচিত্র দেয়া হয়। এছাড়া আর্মেনিয়া যে জাতিগত বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক আদালতকে অনুরোধ করেছে আজারবাইজান।

সোমবার হেগভিত্তিক ওই আন্তর্জাতিক আদালতে এলনুর মামাদভ বলেন, আর্মেনিয়া জাতিগত নির্মূল অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং আজারবাইজানিদের ওপর সহিংসতাও চালাচ্ছে। আরো অপূরণীয় ক্ষতি ঠেকাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। গত বছর স্বাধীন করা অঞ্চলে (আর্মেনিয়ার দখল থেকে মুক্ত করা অঞ্চল) আজারবাইজানিরা ফিরে আসার পর তারা দেখতে পায় যে তাদের বাড়ি ও জমিতে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রাখা রাখা হয়েছে। আর্মেনিয়া এসব অঞ্চলে ল্যান্ডমাইন পুঁতে রেখেছে।

তিনি বলেন, আর্মেনিয়া এখনো আমাদেরকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনগুলোর কোনো মানচিত্র সরবরাহ করেনি। এ ল্যান্ডমাইনগুলোর মানচিত্র পেলে আমরা এগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতাম। কিন্তু, আর্মেনিয়া পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনগুলোর কোনো মানচিত্র সরবরাহ না করে আজারবাইজানের ভূ-খণ্ডে আরো ল্যান্ডমাইন পেতে রাখছে। আর্মেনিয়া কয়েক দশক ধরে আজারবাইজানিদের বিরুদ্ধে এ ধরনের জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে। এভাবে তারা এ অঞ্চলে তাদের হারানো আধিপত্য ফেরত পেতে চায়।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দু’দেশ হলো আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। গত বছর নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধে লিপ্ত হয় দু’দেশ। এ যুদ্ধে আজারবাইজান জয় পেলেও দু’দেশের ছয় হাজার পাঁচ শ’ ব্যক্তি মারা যান।

এ যুদ্ধ তখনই থামে যখন আজারবাইজানের সাথে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পশিনিয়ান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চলের কিছু অংশ এবং তার সংলগ্ন অন্য অঞ্চলগুলো আজারবাইজানকে ফেরত দেয়া হয়।

সূত্র : আল-জাজিরা


আরো সংবাদ


premium cement