১৮ নভেম্বর ২০১৮

কাতারের বিনিয়োগে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক

কাতারের বিনিয়োগে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক - সংগৃহীত

তুরস্কের অর্থনীতির সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশটিতে ১৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কাতার।

সম্প্রতি তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে এক বৈঠক শেষে এক ঘোষণায় এমনটা জানিয়েছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি বলেন, কাতার তাদের ভাই তুরস্কের পাশে থাকবে। 

সম্প্রতি তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বৈঠক করেন দুই নেতা। 

সম্প্রতি চরম মুদ্রাস্ফীতিতে ভুগছে তুরস্ক। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি পরিস্থিতি আরো খারাপ করে তুলেছে। এমতাবস্থায় প্রথম বিদেশী রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কে সফর করলেন কাতারের আমির। 

এক টুইটে তিনি বলেন, আমরা আমাদের তুর্কি ভাইদের পাশে আছি, যারা কাতার ও মুসলিম বিশ্বের পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরো বলেন, আঙ্কারায় শুক্রবার প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে আমার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার অংশ হিসেবে আমরা সেদেশে ১৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছি। তিনি আরো জানান, তুরস্কের অর্থনীতি মজবুত ও দৃঢ়। 

আলোচনায় বিনিয়োগ ছাড়াও দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা নিয়েও আলোচনা করেন তারা। 

কাতার সঙ্কট নিরসনে তুর্কি প্রচেষ্টা জোরদার
আলজাজিরা, ১৭ জুন ২০১৭

চলমান সঙ্কটের দ্রুত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চায় কাতার। আরব সঙ্কটে মধ্যস্থতা করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সফরে যাওয়া তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাভুসওগলু এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কাতার এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা চলতে দিতে চায় না।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের অংশ হিসেবে সর্বশেষ কুয়েতে আসেন কাভুসওগলু। সঙ্কট সমাধানের উদ্দেশ্যে কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল সাবাহর সাথে গত বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন তিনি। এর আগে সফর করেছেন কাতার ও তিউনিসিয়া।

কুয়েতি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে কাভুসওগলু বলেন, কাতরের কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রমাণ চান। বৃহস্পতিবার আঙ্কারার উদ্দেশ্যে কুয়েত ত্যাগের আগে তিনি বলেন, ‘আমরা সঙ্কট সমাধানের জন্য নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছি এবং এখানে সমস্যাগুলো কি তাও নির্দ্বিধায় বলছি। এখানে মূল সমস্যা কী? কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি এবং তার প্রমাণই বা কোথায়? সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের এগুলো তুলে ধরতে হবে’।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অস্ত্র ও বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হবে না। উত্তেজনা না বাড়িয়ে প্রশমনের চেষ্টায় আমাদের যত্র দ্রুত সম্ভব যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। আঙ্কারায় ফিরে আবার গতকাল শুক্রবার তার সৌদি আরব সফরে যাওয়া কথা। সৌদি সফরে দেশটির কর্মকর্তাদের কাছে সঙ্কট বিষয়ে তুরস্কের মতামত তুলে ধরবেন এই মন্ত্রী।

কাতারের বিরুদ্ধে ‘ইরানের সন্ত্রাসবাদে’ সমর্থনের অভিযোগের বিষয়ে কাভুসওগলু বলেন, এই অভিযোগ সত্য নয়। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের কোনো দেশই কাতার, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মতো ইরানের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে না। কাভুসওগলু স্মরণ করিয়ে দেন, কাতার ইয়েমেনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তেহরানে গত বছর সৌদি দূতাবাস আক্রান্ত হওয়ার পর সৌদি আরবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, তুরস্কও মুসলিম ব্রাদারহুড ও হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে না। কাতারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তি নিয়ে তিনি বলেন, আর সব দেশ যেসব চুক্তি করে, এটিও তেমনই একটি সাধারণ সামরিক চুক্তি। নিজস্ব প্রতিরক্ষার জন্য তারা এই যুদ্ধবিমান কিনছে।


আরো সংবাদ