২০ নভেম্বর ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাওনা দাবি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি - ছবি : সংগ্রহ

পাকিস্তানে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা অর্থহীন। পাক মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে অর্থ প্রদান স্থগিত করেছে সেটি পাকিস্তানের প্রতি তাদের কোন সহায়তা ছিলো না, এটি ছিলো পূর্বের দেনা পরিশোধ।

এ বছরের জানুয়ারি থেকেই পাকিস্তানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে দেয়া একশ দশ কোটি মার্কিন ডলারের নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করেন। আফগান তালেবানসহ সশস্ত্র গোষ্ঠিগুলোর বিরুদ্ধে পাকিস্তান যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ওই সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে পাকিস্তান এই অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেছে, সবগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠির বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান চলছে।

গত রোববার পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফট্যানেন্ট কর্নেল কোন ফকনার নিশ্চিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চূড়ান্তভাবেই ৩০ কোটি ডলারের সহযোগিতা স্থগিত করবে, যা জানুয়ারিতে স্থগিত করা একশ দশ কোটি ডলারের অংশ। পেন্টাগন মুখপাত্র এর কারণ হিসেবে  বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশীয় নীতির প্রতি পাকিস্তানের সমর্থনের ঘাটতির কারণে এটি করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি রোববার সন্ধ্যা বলেছেন, ‘এই ৩০ কোটি ডলার কোন সহযোগিতা বা ত্রাণ নয়।  এটি জোট সহযেগিতা তহবিলে(সিএএসএফ) আমাদের শেয়ার। পাকিস্তান এখন পর্যন্ত যে অর্থ তার নিজস্ব সম্পদ থেকে ব্যয় করেছে এটি  তা। যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই অর্থ আমাদের পরিশোধ করবে’।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি কোন ত্রাণ সহযোগিতা নয়, যে স্থগিত করবে। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে আমরা যে ব্যয় করেছে এটি মূলত  তা পরিশোধ’।

আগামী বুধবার ইসলামাবাদ সফরের কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র। তার সাথে থাকবেন সেনাপ্রধান জেনারেল জোসেফ ডুনফোর্ড। মাহমুদ কোরেশি বলেন, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে সম্পর্ক প্রায় অস্তিত্বহীন। তবে তিনি মনে করে পম্পেওর সফরের পর এই ধারা পরিবর্তন হবে।

তিনি বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফরে আমারা উভয়ের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট একটি সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো। এই অঞ্চল ও বিশ্বকে সন্ত্রাসমুক্ত করা আমাদের সবার উদ্দেশ্য। আমারা তাদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানবো এবং আমাদের অবস্থান তুলে ধরবো। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে আস্থা, সম্মান ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়া’।


আরো সংবাদ