১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশ্বকাপ ক্রিকেট : উদ্বোধনে অভিনয় ও ধোনির দস্তানা

-

ক্রিকেট খেলার প্রচলন কয়েক শ’ বছর আগে। তবে আধুনিক ক্রিকেটের টেস্ট ম্যাচের ইতিহাস ১৮৭৭ সাল থেকে। ‘গণতন্ত্রের সূতিকাগার’ যেমন, তেমনি ক্রিকেটের সূতিকাগারও ইংল্যান্ড। সেখানে ১৪২ বছর আগে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার (যা ছিল ইংরেজদের উপনিবেশ) মধ্যে সর্বপ্রথম টেস্ট ম্যাচের মাত্র ১৩ বছর পরই এই বাংলাদেশের রাজশাহীতে ‘দুটি ব্যাট, একটি বল’-এর খেলাটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে সে সময়ের শাসক, সাদা চামড়ার বিদেশী লোকেরাই সে খেলায় অংশ নিয়েছেন। হয়তো বাদামি ও কালো রঙের ‘নেটিভ’রা তখনো ‘ভদ্দরনোক’ পদবাচ্য না হওয়ায় ক্রিকেটের মতো ‘অভিজাত’ ক্রীড়ায় শরিক হতে পারেনি। অবশ্য নতুন এই খেলা তাদের মাঝেও বেশ সাড়া ফেলে দেয়। এরপর ১২৯ বছর পার হয়ে গেছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে পুরোদস্তুর টেস্ট খেলুড়ে হিসেবে; তাও দুই দশক হয়ে গেল। তবে আমাদের জাতীয় টিম বিশ্বকাপের ‘ফেবারিট’ হতে পারেনি আজো। এবার কপালদোষে সেমিফাইনালেও পৌঁছা বোধ হয় তাদের জন্য কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধন হলো লন্ডনে রানীর বাসভবন বাকিংহাম প্যালেসের কাছে। এখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দু’জন ছিলেন- একজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাক, আরেকজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী জয়া আহসান। শেষোক্ত জনের উপস্থিতি অনেকের কাছে বিস্ময়কর লেগেছে স্বাভাবিকভাবেই। তিনি নিজেও কম অবাক হননি। ‘তারকা ক্রিকেটভক্ত’ হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে তার অনুভূতি ছিল, “দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিলাম। ...যখন জানলাম, সব দেশ থেকে দু’জন প্রতিনিধি যাচ্ছেন, আমি না গেলে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি কমে যাবে- তখন রাজি না হয়ে থাকতে পারিনি।”

এর পরের ঘটনা আরো কৌতূহলোদ্দীপক। জয়া নিজেই জানিয়েছেন, ‘এর আগে কখনো ক্রিকেট ব্যাট ধরিনি। এই প্রথম ব্যাট হাতে নিয়েছি। ...কী সৌভাগ্য আমার, বিশ্বকাপের আসরে প্রথম এসেই ব্যাট হাতে নিলাম। তবে ব্যাট হাতে নিয়ে কিছুটা ভয়েও ছিলাম। কারণ আমি ক্রিকেট খেলতে পারি না। তাই ক্রিকেটার আবদুর রাজ্জাককে বলেছিলাম, আমি তো খেলতে পারি না, অভিনয় পারি। তাই আপনি খেলবেন আর আমি খেলার অভিনয় করব।’ তবে তিনি ‘সত্যি সত্যি’ ব্যাট চালিয়েছেন বলে দাবি করেছেন। যা হোক, যারা অভিনেতা নন, সত্যিকার খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় টিমে চান্স পেলেন, তাদের পারফরম্যান্স কেমন হয়, সেটাই জাতির দেখার বিষয়। নায়িকা জয়া আহসান খেলতে না পারুন, দোষ নেই। কিন্তু তিনি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনপর্বে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়ে নিজের যে পরিচয় দিলেন, তা কতটুকু সমীচীন হয়েছে? অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ব্রেট লির প্রশ্নের জবাবে জয়ার সোজা কথা, ‘আমি দুই বাংলার।’ কথা হলো, তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্র আর ভারতের পশ্চিম বাংলা প্রদেশকে কি সমপর্যায়ের মনে করেন?

বিশ্বকাপ ক্রিকেট নিয়ে যেমন প্রত্যাশা অনেক, তেমনি বিতর্কও কম নয়। এর কোনোটির জবাব কর্তৃপক্ষ দিয়েছে; কোনোটার দেয়নি। ফলে অনেক ব্যাপারে রয়ে যায় বিভ্রান্তি। দীর্ঘ দিন ধরে একটা কথা শোনা যায়- ‘ত্রিরত্ন’ বা তিনটি ক্রিকেট সুপার পাওয়ার বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখছে বা রাখতে চায়। অবশ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি ইদানীং কিছুটা সাহস ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দেয়ায় এই তিন দেশের আবদার কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। অনেকেরই জানা, ‘বিগ ব্রাদার’রূপী দেশ তিনটি হলোÑ ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত।

প্রশ্ন উঠতে পারে, ইংল্যান্ড বা স্কটল্যান্ড তো যুক্তরাজ্য বা ব্রিটেনের একটি অংশ যা প্রদেশের সমতুল্য; এদের কেন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর সমমর্যাদা দেয়া হবে? আসলে প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থারই আওতাধীন বর্তমান ক্রীড়া জগৎ। আর কে না জানে যে, এখনকার বিশ্বব্যবস্থা সুবিচারভিত্তিক নয়। বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক হলেও এ ব্যবস্থাই চালু রয়েছে সদর্পে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতির ক্ষেত্রে যেমন ছোট, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো (বিশেষত আফ্রো-এশীয়-লাতিন আমেরিকান) অবিচার ও শোষণের শিকার, তেমনি ক্রিকেটসহ খেলাধুলার জগতেও অনেক কিছু তাদের সহ্য করতে হয় অন্যায় জেনেও। তারা বৈষম্যের শিকার হলেও কিছু বলার বা করার উপায় থাকে না।

সম্প্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির দল ও জোট আবার জিতে ক্ষমতায় গেছে। এবার গতবারের চেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। এর কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে এককভাবে মোদিকে তার অনেক ব্যর্থতা সত্ত্বেও। মিডিয়াতে বলা হয়েছে, ‘গত নির্বাচনে মোদি তরঙ্গ জেগেছিল; এবার তা সুনামিতে উন্নীত হয়েছে।’ মোদি ক্রেজে আক্রান্ত ভারতের বহু মানুষ। ফ্যাশনের অঙ্গনে তার অনুকরণের পাশাপাশি, পাশ্চাত্যের স্টাইলে মোদি মুখোশ পরে নির্বাচনী প্রচার করা হয়েছিল। এর সংক্রমণ ঘটেছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ গ্যালারিতেও। ১৩ জুন ইংল্যান্ডের ট্রেন্টব্রিজে ভারতের ম্যাচ দেখতে আসা ভারতীয়দের কেউ কেউ মোদি সেজেছিলেন। বৃষ্টিবিঘিœত ফাঁকা গ্যালারিতে এমন দু’জন নকল মোদির ছবি ক্যামেরাবন্দী করেছেন এএফপির আলোকচিত্রী। আসলে সুদূর ব্রিটেনেও ‘অরাজনৈতিক’ অনুষ্ঠানে রাজনীতিক মোদির মুখোশের মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী মহল উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রচার করছে বলে প্রতীয়মান হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও উত্তেজনাকর ইস্যুগুলোর মধ্যে নিঃসন্দেহে পাক-ভারত সম্পর্ক একটি। এ দুই দেশের খেলাও তেমনি চরম উত্তেজনাময়। খেলার মাঠে যেন দেশ দুটির খেলোয়াড়রা সৈনিক হিসেবে ক্রীড়াযুদ্ধে লিপ্ত হন। সাজ সাজ রব এবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপেও। পাকিস্তান বনাম ভারত খেলাটি ১৬ জুন হওয়ার কথা। ম্যাচটি ঘিরে প্রতীক্ষা ও আগ্রহের কমতি নেই মোটেও। ১৯৮৭ সালে জন্মাবধি পরস্পর বৈরী দুই দেশের কোটি কোটি মানুষের এই উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ যে উপলক্ষেই হোক, এর একমাত্র লক্ষ্য, একে অপরকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করা।

এবার এই উন্মাদনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলগুলো উঠেপড়ে লেগেছে। তবে এ ক্ষেত্রে বিশেষত বিজ্ঞাপনের বেলায় বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে বলে অনেকের অভিমত। কারণ, এতে একে অন্যকে হেয় করার যে প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান, তাতে পরিস্থিতি ক্রীড়ানুকূল না হয়ে বরং বিষিয়ে উঠতে পারে। এক পক্ষ বিজ্ঞাপনে একজনকে সাজিয়েছে সম্প্রতি হামলা চালাতে এসে আটক হওয়া ভারতীয় পাইলটের মতো করে। আর প্রতিপক্ষ নিজেকে দাবি করছে ‘পাকিস্তানের বাবা’ হিসেবে। এ অবস্থায় সানিয়া মির্জা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি নিজে ভারতের টেনিস তারকা এবং সেই সাথে পাকিস্তানের ক্রিকেট তারকা শোয়েব মালিকের স্ত্রী। এ কারণে অনেকে পরস্পর শত্রু, দেশ দু’টির সম্ভাব্য মিলনসূত্র হিসেবে তার ভূমিকা প্রত্যাশা করেন। তিনি দেশ দুটির ক্রিকেট দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে টিভির আচরণ সম্পর্কে টুইট করেছেন, “সীমান্তের দুই পাশের বিজ্ঞাপনগুলো দেখে গা গুলিয়ে আসে। এ ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা কিংবা প্রচারণার কিছু নেই- বিশেষ করে এসব আবর্জনা দিয়ে। এমনিতেই সবাই ম্যাচটির ব্যাপারে আগ্রহী। ঋড়ৎ এড়ফ’ং ংধশব, এটা তো ক্রিকেটই।”

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের একটি সুপরিচিত স্থান হচ্ছে মিরপুর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ জায়গায় বহু লোক এখন ব্রিটেনে প্রবাসী। তাদের একজন হলেন মাথা কামানো আর দীর্ঘদেহী ও শ্মশ্রুশোভিত ধর্মপ্রাণ মুসলিম ক্রিকেটার মঈন আলী। তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় টিমের অলরাউন্ডার। ২০১৪ সালে মঈন একবার ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলেন দুটি বিশেষ লেখা সংবলিত ব্যাজ পরে। এতে লেখা ছিল- FREE GAZA, FREE PALESTINE. এটা কোনো নতুন কথা নয় কিংবা শুধু মঈন আলীর কোনো দাবি নয়। ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃক দীর্ঘকাল অবরুদ্ধ গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার দাবি মুসলিম উম্মাহসমেত বিশ্বের শান্তিকামী ও মানবতাবাদী সব মানুষের। কিন্তু আইসিসির নির্দেশে মঈনকে এই ব্যাজ খুলে ফেলতে হয়েছিল। কারণ তা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিচালনা প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত বিধানের পরিপন্থী।

বার ঘোর বিতর্ক জমে উঠেছিল ভারতের ক্রিকেট তারকা মহেন্দ্র সিং ধোনির একটি আচরণ নিয়ে। বিস্ময়ভরা চোখে সবাই দেখেছিলেন, ধোনি তার গ্লাভস বা দস্তানার ওপর একটি সামরিক চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করেছেন। এটা একটি অস্ত্রের ছবি। এমনকি, জেনে শুনে এতে সমর্থন দিয়েছিল বিসিসিআই। ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক এই সংস্থা তাদের সরকারের ইচ্ছার বাইরে যেতে পারে না। আর ভারতের বর্তমান সরকার হিন্দুত্ববাদের দর্শনে উদ্বুদ্ধ।

এম এস ধোনি ভারতীয় ক্রিকেট টিমের সাবেক ক্যাপ্টেন এবং বর্তমানে এর একজন সিনিয়র সদস্য। তিনি উইকেটকিপার হিসেবে সবুজ দস্তানা বা হাতমোজা পরেছেন, যার গায়ে একটি ছোরার লোগো ছিল। ৫ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে বিশ্বকাপের খেলায় ভারত জিতেছে। সে দিন ধোনির হাতের গ্লাভসে ছোরার লোগো দেখে অনেকেই অবাক ও ক্ষুব্ধ হন। ধোনি ভারতীয় আধা সামরিক বাহিনীর প্যারাসুট রেজিমেন্টের একজন অনারারি লেফটেন্যান্ট কর্নেল। তবু ছোরার রহংরমহরধ ক্রিকেটারের হাতমোজায় ব্যবহার করা অস্বাভাবিক, অভাবনীয় ও অযৌক্তিক হলেও ভারতের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বিসিসিআইর পক্ষে অবতীর্ণ হয়। তারা আইসিসির কাছে চিঠি লিখেছিলেন যাতে ধোনি গ্লাভসে সামরিক লোগোটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে আইসিসির অনুমতি দেয়নি। ধোনিও এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

ব্যক্তি হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি কোনো ভুল করতে পারেন। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কেন তার এই আপত্তিকর আচরণকে সমর্থন দিতে কোমর বেঁধে নেমেছিল, এটাই প্রশ্ন। যদি আইসিসি ‘বিগ ব্রাদার’ ইন্ডিয়ার এহেন আবদার রক্ষা করত, তখন আন্তর্জাতিক অভিভাবকতুল্য এই সংস্থার নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধসহ সার্বিক মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণœ হতো। এই প্রেক্ষাপটে আইসিসি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, ‘এম এস ধোনির তার উইকেট কিপিং গ্লাভসে আলোচ্য লোগোটি ব্যবহার করার অনুমতি নেই। আইসিসি বিধিবিধান (ক্রিকেট খেলা) কোনো পোশাক কিংবা উপকরণে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত বার্তা বা লোগো প্রদর্শনের অনুমতি দেয় না। তদুপরি, এ লোগোটি উইকেটকিপারের গ্লাভসের সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘন করেছে।’

উল্লেখ্য, বিশ্বকাপ সংক্রান্ত আইসিসি ম্যানুয়ালে বলা হয়েছে- “সংশ্লিষ্ট দুটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পরিচয়ই শুধু প্রতিটি গ্লাভের পেছনে উল্লেখ করা থাকবে। এমন কোনো লোগো সেখানে থাকতে পারবে না, যা রাজনৈতিক কিংবা বর্ণগত তাৎপর্য বহন করে।”

এবার ভারতের ক্রিকেট তারকা ধোনির গ্লাভসের ছোরার ছবিটি ভারতের টিভিতে এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার পায়। টুইটারে বিষয়টি প্রচারিত হয়েছে #DhonikeepTheGlove শিরোনামে। এ দিকে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট সংস্থা বিসিসিআই আনুষ্ঠানিক পত্রে আইসিসি-কে বলেছিল, ‘ধোনির ব্যবহৃত লোগোটি প্যারামিলিটারি রেজিমেন্টের ড্যাগার নয়। তাই তার দ্বারা বিধিভঙ্গের ঘটনা ঘটেনি।’ দিল্লিতে ক্ষমতাসীন বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রীড়ামন্ত্রী কিরেন রিজিজু বললেন, ‘ভারত সরকার ক্রীড়া সংস্থার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেনি।’ তবে হিন্দুত্ববাদী মোদির মন্ত্রিসভার এই সদস্য সাথে সাথে জানিয়ে দেন, ‘ইস্যুটি গোটা দেশের সেন্টিমেন্টের সাথে জড়িত। তাই জাতির স্বার্থের কথা মনে রাখতে হয়। বিসিসিআই-কে অনুরোধ করছি এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।’ অতএব, বিসিসিআই আইসিসি-কে পত্র পাঠিয়ে বিজেপি সরকারকে খুশি করেছে, তা স্পষ্ট।

অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ধোনি একই গ্লাভস পরিধান করে বিশ্বকাপে খেলে যাবেন, যদিও টেপ দিয়ে ছোরার ছবিটি ঢেকে দেয়া হবে। অবশ্য আজকের এ পরিস্থিতি হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মনে আছে, গত মার্চ মাসে ভারতের ক্রিকেট টিম যুদ্ধের ক্যামোফ্লাজে ব্যবহার করার ক্যাপ ব্যবহার করেছে। তখন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলার সময় মাথায় দেয়ার জন্য এ টুপি তাদের দিয়েছিলেন স্বয়ং মহেন্দ্র সিং ধোনি। এর আগে কাশ্মিরে বোমা হামলায় নিহত ৪০ জন ভারতীয় সেনার স্মরণে এগুলো মাথায় দেয়া হয়েছে। সে সময়ে মানবিক কারণ দেখিয়ে এর অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

ধোনিকে এবার ড্যাগারের লোগো দস্তানায় লাগাতে না দেয়ায় ক্ষমতাসীন ভারত সরকারসহ উগ্র জাতীয়তাবাদী ও সাম্প্রদায়িক শক্তি নাখোশ হতে পারে, কিন্তু আইনকে তার নিজস্ব পথে স্বাভাবিক গতিতেই এগোতে দেয়া উচিত। তাই ভারতেরই কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা সুনীল গাভাস্কার বলেছেন, ‘আইন তৈরি করা হয় মানার জন্যই। আমাদেরও তা করতে হবে। এর আগে মঈন আলী খেলতে পারেননি ব্যাজ পরে। ধোনির বেলায়ও ব্যাপারটা তেমন।’

উল্লেখ করা দরকার, ওয়েস্ট ইন্ডিজ টিমের তারকা ক্রিকেটার ক্রিস গেইল এবার universe boss লেখাটা ব্যবহার করতে পারেননি খেলার সময়। এটা একটা ব্র্যান্ডের নাম। তবে বিধি লঙ্ঘন করা হয় বলে আইসিসি এটি অনুমোদন দেয়নি।


আরো সংবাদ

সকল




hacklink Paykwik Paykasa
Paykwik