১৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ভারতের নির্বাচন ২০১৯; কী হতে যাচ্ছে?

রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি - ছবি : সংগ্রহ

ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন ২০১৯ সালের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে হয়ে যাবে। ভারতের ভাষায় এটা ‘লোকসভা’ নির্বাচন। এ ছাড়া কিছু ফরমাল ভাষায় বললে, এটা (ফেডারেল) ইউনিয়ন ভারত রাষ্ট্রের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নির্বাচন। ভারতের রাজনীতিতে বিরোধী দল এবং সেই সাথে বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সংগঠন, গ্রুপ বা বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যক্তিত্ব সবাই যে যা কিছু করে চলেছেন ছয় মাস ধরে এবং আগামীতে করবেন, তা আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরেই ঘটছে। এর সব কিছুই এই নির্বাচনের ফলাফলকে কিভাবে পছন্দের রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রভাবিত করতে পারে- সে কথা মনে রেখেই করা হচ্ছে। তাই এ দিক থেকে বিচার করে কেউ হয়তো বলবেন, ভারতের রাজনীতি কেবল ‘কেন্দ্রীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনকেন্দ্রিক’।

এমনকি বলতে পারেন, তা পঞ্চম বছর-কেন্দ্রিক, যার প্রথম চার বছর তারা বেখবর থাকেন। কথাটা একেবারে ফেলে দেয়ার মতো না হলেও এমন হওয়ার প্রধান কারণ হলো- যারা সম্ভাব্য নতুন ক্ষমতার প্রার্থী, ক্ষমতায় যেতে প্রবল আগ্রহী, তারা পঞ্চম বছরেই ভারতের ১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার বিরাট সমাজের বিভিন্ন গ্রুপ, গোষ্ঠী অথবা সামাজিক বা রাজনৈতিক দল ও গ্রুপকে অর্থপূর্ণ মনে করতে পারেন, তাই তাদের নিজেদের ‘নৌকায় উঠাতে’ সচেষ্ট হন। অন্য সময়ে, মানে আগের চার বছরে এই আমল করার কোনো কারণ তারা দেখেন না, হাজিরও থাকেন না। তবে এতে বিশাল ভারতে এর একটা বিরাট খরচের দিকও আছে। তাই সব মিলিয়ে, ‘ভারত’ মানে প্রতি পঞ্চম বছরের রাজনীতির এক ‘ভারতীয় সমাজ’, এসব সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেই যার জন্ম।

আসলে এই পঞ্চম বছরেই অর্থপূর্ণভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে সমাজের নানা দল ও জোট গড়ে এক ইতিবাচক ঘোঁট পাকিয়ে চূড়ান্তভাবে দু’টি বৃহত্তর জোটের পক্ষ হিসেবে তারা হাজির হন। এভাবে দু’টি পক্ষ হিসেবে পুরো ভারতকে মেরুকরণ করে নিতে পছন্দ করা এক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। যেমন মোটা দাগে গত ৩০ বছরের ‘ফেনোমেনা’ হলো, কংগ্রেসকে কেন্দ্রে রেখে ইউপিএ (ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স) আর ওদিকে বিজেপিকে কেন্দ্রে রেখে এনডিএ (ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স) বলে দু’টি জোট আমরা দেখে আসছি। এবার সম্ভবত তিনটা জোট অথবা দুটিই (তবে ভিন্ন নামে) জোট হতে আমরা দেখব। অর্থাৎ বিজেপির জোট এনডিএ ঠিক থাকছে যদিও জোটের দলের কেউ বের হয়ে অন্য জোটে যাবেন অথবা নতুন কোনো দল এই জোটে ঢুকবে- এমন হবে।

কিন্তু কংগ্রেসের জোট ইউপিএ এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এখনো অনিশ্চিত। বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বড় জোট অবশ্যই হচ্ছে; সে লক্ষ্যে এর তৎপরতা ও উদ্দীপনা বরং অন্যবারের চেয়ে এবার প্রবল। তবে এর মধ্যে অমীমাংসিত কিছু বিষয় আছে। তা হলো, বিজেপিবিরোধী এই সম্ভাব্য জোট- এটা কংগ্রেসের নেতৃত্বেই হবে কি না, এ নিয়ে বিতর্ক একটু গভীরে। অর্থাৎ কংগ্রেসের নেতৃত্বে শুরুতেই ধরে নেয়া যে, হবু প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসের বা তিনি রাহুল গান্ধী, তা কেউ মেনে নিয়ে শুরু করতে চাচ্ছেন না। এই হলো মূল বিষয়, তাই জোট গঠন শুরু হতে একটু সময় নিচ্ছে।

জোটের নেতৃত্ব নিয়ে এবার আগেই বিতর্ক ওঠার মূল কারণগুলোর প্রথমটা হলো, ২০১৪ সালে নির্বাচনে কংগ্রেস খুবই খারাপ ফল করেছিল। এর আগে কংগ্রেস সরকারে বা বিরোধী দলে যেখানেই থাক, জোট গঠন করে থেকেছে। কিন্তু তখন কংগ্রেস দলের আসন সংখ্যা কখনো ১১৪-এর নিচে (লোকসভার মোট আসন ৫৪৫) যায়নি। অথচ গত (২০১৪) নির্বাচনে তা নেমে আসে ৪৮ আসনে, যা মোট আসনের ১০ শতাংশেরও কম। ফলে প্রথম সর্বভারতীয় দল হিসেবে কংগ্রেস এবারই অন্যান্য আঞ্চলিক দলের আসন সংখ্যার কাতারে নেমে আসে। যেমন, মমতার তৃণমূল দলের (২০১৪ সালে নির্বাচনে) লোকসভায় আসন যা রয়েছে। এ ছাড়া লোকসভায় আঞ্চলিক দলগুলোর আসন সংখ্যার দিক দিয়ে একক দল হিসেবে মমতার দলই সবচেয়ে বড় (৪২ আসন)। ফলে বৃহৎ কংগ্রেস দল যেন মমতার আঞ্চলিক দলের কাতারে নেমে গেছে।

ভারত ২৯টি প্রদেশে (আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রাজ্য’ বলে পরিচিত) বিভক্ত। রাজ্যের কোনো স্থানীয় দলকেই ‘আঞ্চলিক দল’ বলা হচ্ছে, এমন দলগুলোর বাকি ভারতজুড়ে মূলত কোনো শাখা বা কর্মতৎপরতা প্রায় থাকেই না। আর প্রত্যেকটা প্রদেশেই কমপক্ষে দুটি আঞ্চলিক দল পাওয়া যায় যারা কেন্দ্রীয় নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পান, ফলে কেন্দ্রে সরকার গড়তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এভাবে ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দল এক নতুন এবং প্রভাবশালী ভূমিকা নিতে যাচ্ছে। খুব সম্ভবত আসন্ন এই নির্বাচন থেকেই বিজেপির বিকল্প হিসেবে কংগ্রেস থাকবে না। খুব সম্ভবত ‘আঞ্চলিক দলগুলোরই জোট’ হবে ভারতীয় রাজনীতির মূল এবং নতুন ফেনোমেনা। তবে সেই সাথে হয়তো ‘আঞ্চলিক দলগুলোরই জোট’ হবে দুটো। আর কংগ্রেস ও বিজেপি তাদের পছন্দ অনুসারে একেকটা জোটে যোগ দিবেÑ এই হবে সম্ভবত নতুন দৃশ্যপট।

সে যাই হোক; এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় কারণ, কংগ্রেসের প্রভাব ‘শুকিয়ে আসা’ এবং এর বিপরীতে আঞ্চলিক দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা গত ৩০ বছর ধরে ভারতের নির্বাচনী চালচিত্র; ফলে এই সম্ভাব্য আঞ্চলিক জোটের আঞ্চলিক নেতারা যেমন, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা উত্তরপ্রদেশের বহুজন সমাজবাদী পার্টি দলের নেতা মায়াবতী প্রভুদাস- তারা এবার মনে করছেন, তারাও কেন রাহুল গান্ধীর মতো ‘প্রধানমন্ত্রীর দাবিদার’ হবেন না? তারা অযোগ্য কিসে? এ কারণে আঞ্চলিক দলগুলো এবার কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে আগের মতো ইউপিএ জোট বাঁধতে দ্বিধা করছে। তাই ইউপির বিপরীতে প্রথম থেকেই এবার সরব হয়েছেন মমতা। তিনি আরো এগিয়ে বলেছেন, তার আলাদা জোটের দাবি হলো ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’ গড়তে হবে। মানে কংগ্রেস ছাড়াই আগে আঞ্চলিক দলগুলোর একটি জোট। এরপর কংগ্রেসকে সাথে নেয়া বা না নেয়া। সার কথায়, বিজেপির এনডিএ নামে জোট থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী জোট কোনটা হবে ইউপিএ নাকি প্রস্তাবিত ‘ফেডারেল ফ্রন্ট’- এটাই নির্ধারিত হতে একটু সময় নিচ্ছে, তবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হয়ে যাবে।

ইতোমধ্যেই স্পষ্ট যে, এবারের নির্বাচনে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির অবস্থা খুব শোচনীয় হতে পারে। কেন? কারণ মোদির পারফরম্যান্স। ভারতের রাজ্য বা প্রাদেশিক নির্বাচনে কেন্দ্র সরকার অর্থনীতিতে ভালো বা মন্দ করছে কি না এর তেমন প্রভাব পড়তে দেখা যায় না বললেই চলে। এটা মোদি সরকারের গত চার বছরে বিভিন্ন রাজ্য নির্বাচনের বেলায় দেখা গেছে। কিন্তু গত দুইবার কেন্দ্রের নির্বাচনে দেখা গেছে- আগের (কংগ্রেস ২০০৪-০৯) সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে পরের বারও কংগ্রেস বিপুল ভোট পেয়েছে। আবার ইউপিএ-টু (২০০৯-১৪) সরকারের ব্যর্থতা দেখিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী (বিজেপি) দল ভোটে নিজের জন্য ভালো করার সম্ভাবনা জাগাতে পেরেছে।

এ দুটি ক্ষেত্রেই নির্বাচনে মূল ফ্যাক্টর ছিল ‘অর্থনৈতিক সাফল্য’ প্রদর্শন। এই সাফল্য প্রদর্শন মানে কেবল জিডিপি অনেক ভালো হলে হবে, তা নয়। সাথে দেখাতে হবে একদিকে, সাধারণ মানুষের ব্যাপক ‘কাজ সৃষ্টির’ বিষয় সে পেরেছে বা পারবে; অন্য দিকে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যবসায়ীদের (ম্যানুফ্যাকচারার, বাণিজ্য আর শেয়ার মার্কেটসহ) মধ্যে আস্থার জোশ তুলতে পেরেছে কি না। কংগ্রেস ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন অর্থনৈতিক সাফল্যের ইস্যুতে; আবার ২০১৪ সালে মোদি ক্ষমতায় এসেছিলেন অর্থনৈতিক সাফল্যের ইস্যুতে কংগ্রেসের হাল ছেড়ে দেয়ার মুখে সেটা ঘটাতে মোদির দল ও সরকার পারবে, এই আশা জাগাতে পেরেছেন। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই প্রধান ফ্যাক্টর ছিল অর্থনীতি।

কেবল এই বিচারে ২০১৯ সালের নির্বাচনে, বিজেপির মোদির আবার জয়লাভের কোনো সম্ভাবনা নেই, বলতে হয়। অর্থনীতিতে সাফল্যের বিচারে একটু পুরান বড় ইস্যু আছে। শুধু তাই নয়, নতুন দগদগে ইস্যুও আছে যা সামনের কয়েক মাসে ‘আরো দগদগে ঘা’ হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা।

একটু পুরনো ইস্যুটা হলো, মোদির ‘নোট বাতিলের’ সিদ্ধান্ত। মোদি সরকারের বিরাট ব্যর্থতা বলতে অবশ্যই সামনে আসবে ‘নোট বাতিলের’ সিদ্ধান্ত। ভারতের মুদ্রায় সবচেয়ে বড় নোট ছিল ৫০০ ও ১০০০ রুপির। এই দুই ধরনের সব নোটই বাতিল বলে ঘোষণা করেছিলেন মোদি। পুরান নোট ব্যাংকে দিলে বদলে নতুন নোট দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু নাম ঠিকানাসহ কে জমা দিচ্ছেন, তা বলতে হচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বিরক্তিকর হলো, মানুষের ব্যবসাবাণিজ্য, অফিস অথবা দিনমজুরি সব ধরনের কাজ ফেলে ব্যাংকে লাইন দেয়ায় সামগ্রিক অর্থনৈতিক তৎপরতায় বহু কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়েছিল। এতে ব্যবসাবাণিজ্যসহ সব অর্থনৈতিক তৎপরতা ও লেনদেন-বিনিময়ে ব্যস্ততা যে পর্যায়ে আগে ছিল অর্থনীতির সেই সাজানো বাগান এবার অর্ধেক হয়ে, বড় স্থবিরতার দিকে গড়াতে থাকে। মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন, রুপি বদলে নিতে আসলে নগদ রুপিতে সম্পদ রাখা কিংবা ট্যাক্স ফাঁকির সব এবার ধরা পড়বে। সরকারের অনুমান ছিল, ৮৫ শতাংশের বেশি রুপির মালিক ধরা পড়ার ভয়ে আর তা বদলে নিতে আসবে না, ফলে প্রায় ২৪০ হাজার কোটি রুপি রাষ্ট্রকে ফেরত দিতে হবে না, তাই বিপুল লাভ হবে। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে দেখা গেল, ৯৯ শতাংশ ছাপানো মুদ্রাই ফেরত এসেছে। অর্থাৎ মাত্র ১ শতাংশ ফেরত আসেনি। এর মানে, সারা ভারতের জনগোষ্ঠীকে কষ্ট দিয়ে, বিশেষ করে গরিব মানুষকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েও কোনো সুফল মেলেনি।

বরং জাতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে। মাত্র ১ শতাংশ রুপি ফেরত আসেনি বলে, ভারতের মিডিয়া লিখছে, ‘‘এ থেকে যা ‘লাভ’ তা মাত্র ১৬ হাজার কোটি টাকা। নতুন নোট ছাপা ও বণ্টন এবং অর্থনীতির সামগ্রিক ক্ষতি বিবেচনা করলে অবশ্য সেই লাভের গুড় পিঁপড়ে খেয়ে যাবে!” অথচ সবচেয়ে কষ্টকর অবস্থা স্বল্প আয়, ‘দিনে আনে দিনে খায়’ লোকদের। এ ছাড়া, মূল ক্ষতিটা হয়েছে তাদের কাজ হারানো।
মোদির দ্বিতীয় ব্যর্থতার ইস্যু : মোদি গত নির্বাচনে আশ্বস্ত করেছিলেন- কংগ্রেসের প্রথম জমানার (২০০৪-০৯) মতো ভালো অর্থনীতি তিনি গড়বেন। এ ছাড়া আর আরো বেশি কাজ সৃষ্টি করবেন। তার দেয়া নতুন টার্গেট ছিল, বছরে দুই কোটি লোকের কাজ সৃষ্টি করা। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উলটো গত চার বছর ধরে গড়ে ৭০ লাখ করে কর্মসংস্থান কমেছে। এটা কাজ সৃষ্টির ক্ষেত্রে গত আট বছরে সর্বনিম্ন।

মোদির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ইস্যু : ইরানের তেল বিক্রির ওপর মার্কিন অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের বিপুল ঘাটতি, এই অভাবই দাম বৃদ্ধির কারণ। ২০১৬ সালে গড়ে ৩০ ডলারে নেমে আসা জ্বালানি তেল কিনেছিল ভারত। আর এখন তা (অক্টোবর ২০১৮) ৮৪ ডলার এবং এ দাম ক্রমবর্ধমান। ভারতের শহরে তেলের পাম্প-স্টেশনে তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সাথে সম্পর্কিত, কোনো সরকারি ভর্তুকি এখানে নেই।

ফলে তেলের দামের প্রভাবে উঠে এসেছে মুদ্রাস্ফীতিও, যেটা তেলের দাম বৃদ্ধির আগে থেকেই ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এ দিকে খারাপ ঋণ (নন-পারফরমিং লোন) বিতরণ গত পাঁচ বছরে ৪৫০ গুণ বেড়েছে বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস রিপোর্ট করেছে; তা ১৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো। সব কিছু মিলিয়ে আবার বাজারের অস্থিরতায় রুপি-ডলার বিনিময় হারে রুপির মান কমেই চলেছে। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতা নেয়ার সময় ডলার ছিল ৬০ রুপি, সেটা এখন ৭৪ রুপি।

সার কথাটা হলো ‘অর্থনৈতিক সাফল্যের’ ইস্যুতে মোদির প্রায় সব প্রতিশ্রুতি গত চার বছরে উলটো দিকে হাঁটছে। তাই আর সাফল্য নিয়ে যেন কেউ কথা না বলে, এটাই এখন মোদির কাম্য। তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতে যে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, বিজেপি ও মোদিকে যার মুখোমুখি হতে হবে- সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বা বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ কী করবেন?

অর্থনৈতিক সাফল্যের ইস্যু চাপা দেয়া বা পেছনে ফেলে দেয়ার উপায় নিশ্চয় মোদি-অমিত খুঁজবেন, তা বলাই বাহুল্য। এই আলোকেই অমিত শাহের মুসলমান নিধন, বাংলাদেশীদের ‘উইপোকা-তেলাপোকা’ বলে তুচ্ছ করে সম্বোধন এবং মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে গালাগালি, তাদের হত্যা করার হুঙ্কার- এসব কিছু আমাদের দেখতে হবে। সেই সাথে আসামের নাগরিকত্ব বিল নিয়ে আরো নোংরা হুঙ্কার। আসামের মতো নাগরিকত্ব বাছাইয়ের কর্মসূচি পশ্চিমবাংলা ও ছত্তিশগড় এবং অন্যান্য রাজ্যে চালু করা হবে বলে স্থানীয় বিজেপি হুমকি দিচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই- এ কথা বলে মুসলমানবিদ্বেষী একটা আবহ সৃষ্টি করা। ওদিকে ত্রিপুরায় গিয়ে বিজেপিরই আরেক অসভ্য এমপি সুব্রমানিয়াম স্বামী বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি নাকি হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট, এর নমুনা এটা?

এসব মুসলিমবিদ্বেষী দামামা, ঘৃণা উগরানো এ সবেরই উদ্দেশ্য একটাই- মোদির ডুবে যাওয়া অর্থনৈতিক পারফরমেন্সের সমস্যাকে আড়াল করে বিজেপি দলকে ভোট চাইবার ‘উপযুক্ত’ করে তোলা। সে কারণে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে ভারতের সমাজকে বিভক্ত ও মেরুকরণের ফলে যাতে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে ওঠে ‘হিন্দুত্ব’। অর্থাৎ আগামী ছয় মাস, অন্তত ভারতের নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা মুসলিমবিদ্বেষের বিষ, ঘৃণা উগলানো দেখতেই থাকব, আশঙ্কা হচ্ছে।হ
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]

দেখুন:

আরো সংবাদ