Naya Diganta

আমন চাষে ব্যস্ত দাগনভূঞার কৃষক

বৃষ্টি পানিতে জমিগুলো ভরে গেছে। যা আমন চাষের উপযোগী। তাই এখন আমন আবাদ করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার আট ইউনিয়ন ও এক পৌরসভার কৃষকেরা। কেউ জমি চাষ, কেউ বা চারা রোপন করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার লক্ষ্যমাত্রা চাইতে আবাদ বেশী হবে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় সর্বত্রই চলছে ধান রোপণ। উপজেলার নয়ানপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে আবুল হোসেন নামে এক কৃষক ধান রোপন করছে, গত বছর ভালো ফলন হওয়ায় এ বছর তিনি বি আর ২২ ও ব্রি ধান-৫২ রোপণ করছেন, তিনি জানান নিজের সামান্য জমি থাকলেও অন্যের জমিতে বর্গা চাষ করেন।
কৃষক জসীম উদ্দিন বলেন, আমাদের এলাকা জমি গুলো নিচু একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সহজে পানি নামতে পারে না তাই আমরা কৃষি বিভাগের পরার্মশে নাবী জাতের আমনের বিআর-২২ ও ২৩ এই ধান গুলো চাষ করি। বিঘা প্রতি উৎপাদন খরচ হবে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা সেচ না লাগায় খরচ একটু কম, আমনে সেচ লাগে না বলেই চলে অতীতে গরু লাঙ্গল দিয়ে চাষ চললেও বর্তমানে এর ব্যবহার নেই বলেই চলে।
জগতপুরের কৃষক নেছার উদ্দিন বলেন, এক বিঘা জমির রোপনের জন্য চাষ দিতে হচ্ছে ৩ থেকে ৪টি করে এজন্য বিঘা প্রতি এবার সবকিছু মিলে উৎপাদন খরচ হতে পারে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা।
পূর্ব চন্দ্রপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা খরচ গুণতে হচ্ছে চাষের জন্য। ধান রোপণ চাষাবাদের জন্য এক বিঘা জমিতে সার প্রয়োগ করতে হয় ১৮ কেজি ডিএপি, ১৫ কেজি পটাস, ৫ কেজি জিপসাম, ইউরিয়া সার তো আছেই।
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন আমন মৌসুম শুরু হওয়ার ফলে দিনমজুরের সংকট দেখা দিয়েছে, কৃষি কাজের লোক সংকটের কারণে অনেকে সঠিক সময়ে আমন রোপন করতে পারছে না। কৃষকরা ফসলের মাঠ প্রস্তুত ও আমন ধানের চারা লাগানো নিয়ে বর্তমান ব্যস্ত সময় পার করছে বলে জানান প্রতাপপুর গ্রামের মোহাম্মদ উল্যাহ।
স্থানীয় উপ-সহকারি কৃষি অফিসার আবদুল্লাহ আল মারুফ জানান, আমরা ব্লকে কৃষকদের গ্রুপ ভিত্তিতে বর্তমানে রোপা আমনের বিভিন্ন প্রযুক্তি গুলো সঠিক বয়সের চারা, সারি ও লগো পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপন, সুষম মাত্রা সার ব্যবহার, জৈব ও অজৈব, গুটি ইউরিয়া সার প্রয়োগ, পার্সিং, এলসিসি ব্যবহার ও আলোক ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকা-মাকড় উপস্থিতি নির্ণয় বিষয়ক পরার্মশ দিচ্ছি।
দাগনভূঞা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাফিউল ইসলাম জানান, কাঁদামাটিতে আমনের চারা রোপন করতে গেলে জমিতে চাষ দেওয়ার জন্য পানি থাকতে হয়। কখনো কখনো বৃষ্টি বা বর্ষার পানির সংকট দেখা দিলে কৃত্রিম সেচ বা সম্পূরক সেচ দিয়ে জমি চাষ করতে হয়। কিন্তু এ বছরে আবহাওয়া রোপন আমনের জন্য বেশ উপযোগী। দফায় দফায় বৃষ্টির কারণে সকল জমিতেই কৃষক কোন রকম সেচ ছাড়াই চাষ দিয়ে চারা রোপন করতে পারছেন। কৃত্রিম সেচের প্রাকৃতিক পানি ফসল উৎপাদনের জন্য অধিক উপযোগী। ফলে আশা করা যাচ্ছে তাতে প্রতিটি এলাকাতেই আমনের বেশ ভালো ফসল হতে পারে এবং রোপা আমন চাষ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে বলে জানায়।
প্রসঙ্গত; আমন কৃষকের কাছে একটি নিশ্চিত ফসল। আবহমানকাল থেকে এ ধানেই কৃষকের গোলা ভরে, যা দিয়ে কৃষক তার পরিবারের ভরণ পোষণ, পিঠাপুলি, আতিথিয়েতাসহ সংসারের অন্যান্য খরচ মিটিয়ে থাকে তাই ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার মাঠে মাঠে প্রায় সব কৃষক এখন মহাব্যস্ত আমন ধান রোপণ নিয়ে। বীজতলা থেকে আমনের চারা তুলে সেই গুঁছিয়ে দিচ্ছেন কাঁদামাখা জমির বুকে, চার মাস পর সেই চারাই শৌভা পাবে থোকা থোকা ধানের শীষ। এক সময় শীষের প্রতিটি খোলসের পেট ভরে জন্ম নেবে দানা সেই দানার ভারে সোনালী শীষ অবনত হয়ে প্রণতি জানাবে কর্মনিষ্ঠ ভূমিকুটুম্ব কৃষকে আর কৃষকের কল্যাণে দেশের খাদ্য ভান্ডারে লাখ লাখ টন ধান, দেশ হবে স্বনির্ভর।