২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরমাণু ইস্যু : কী করতে যাচ্ছে ইরান?

পরমাণু ইস্যু : কী করতে যাচ্ছে ইরান? - ছবি : সংগৃহীত

ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর পুনরায় আলোচনার প্রস্তাব পারমাণবিক চুক্তি রক্ষায় কোনো সাহায্য করবে না বলে জানিয়েছে ইরান। পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ইরানের শক্তিশালী নেতা আয়াতুল্লাহ আহমদ জান্নাতি মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেছন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা নিউজ।

জান্নাতি ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পরিষদের প্রধান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে যে কাউকে নিয়োগ দেয়া বা ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা রাখেন তিনি। গত সপ্তাহে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইয়েভেস লা দ্রিয়ান বলেন, তেহরানকে তাদের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ও সিরিয়া এবং ইয়েমেন যুদ্ধে তাদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান এবং বিশ্বের অন্য ক্ষমতাধর দেশগুলোর সাথে করা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। তবে পারমাণবিক চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত অন্য দেশ চীন, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানি চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার জন্য নানা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।

ইরনার খবরে জান্নাতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইউরোপ ঘোষণা দিয়েছে ঠিকই যে তারা এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়াবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্য ইস্যুতে আলোচনা করার জন্য তারা যে পথে অগ্রসর হচ্ছে সেটা সঠিক পথ নয়। গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পারমাণবিক চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে দেশটিকে ১ কোটি ৮০ লাখ ইউরো অর্থসহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়।

আরো পড়ুন :
নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর আরো চাপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের
এএফপি
ইরান ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদে চলতি মাসের শেষের দিকে সভা করার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসঙ্ঘে মার্কিন দূত নিকি হ্যালি মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করছে। নিকি হ্যালি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের শর্ত লঙ্ঘন করার অভিযোগে তেহরানকে নতুন করে চাপ প্রয়োগের কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের নিকি হ্যালি বলেন, আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যেন ইরান আন্তর্জাতিক নির্দেশ মেনে চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যাপারে খুবই কঠোর। আপনারা যদি খেয়াল করেন তাহলে দেখবেন যে ইরান সন্ত্রাসবাদকে কিভাবে সমর্থন করে যাচ্ছে। তারা যে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাচ্ছে সেটা নিয়মিতই চলছে।
এছাড়া তারা ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে। এগুলো নিরাপত্তা পরিষদের শর্তের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এগুলোর প্রত্যেকটিই ওই অঞ্চলের জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এটা নিয়ে আলোচনা করা দরকার।

ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই বছরের ৭ আগস্ট ইরানের ওপর নতুনভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ৫ নভেম্বরের মধ্যে ইরানের তেল রফতানি সাময়িক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান এবং বিশ্বের অন্য মতাধর দেশগুলোর সঙ্গে করা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়ে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির কারণে পারমাণবিক অস্ত্র ইস্যুতে তেহরানের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগ করতে পারছে না। ওই ঘোষণার পর এবার নিরাপত্তা পরিষদে ইরান ইস্যুতে সভা করার ঘোষণা দিলো ওয়াশিংটন।

 


আরো সংবাদ