২৪ মার্চ ২০১৯

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়লে অনিয়ম প্রতিরোধ হবে : সিইসি

কে এম নূরুল হুদা - সংগৃহীত

একাদশ সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করা গেলে অনিয়মও প্রতিরোধ হবে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তবে বাংলাদেশের ‘বাস্তবতায়’ বড় নির্বাচনে (পাবলিক) অনিয়ম ‘একেবারেই হবে না’- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন না।

বৃহস্পতিবার একটি অনলাইনের সাথে স্বাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজার ভোটকেন্দ্র, প্রায় ৩ লাখ ভোটকক্ষ- এত বড় নির্বাচনে কোথাও অনিয়ম হবে না- এমন কথা বললেও মিথ্যা কথা বলা হবে। আমি বাস্তবতার কথা বলছি; অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা আমি তো দিতে পারি না।’

আসছে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসির সামনে।

সব দলকে সেই নির্বাচনে আশা করলেও তফসিল ঘোষণার আগে আর কোনো সংলাপ করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিইসি।

‘ভোটের আগে আর সংলাপ করব না। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হলে অনিয়ম করার সুযোগও পায় না কেউ।’

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কুমিল্লা ও রংপুর সিটি করপোরেশনের ভোট করে প্রশংসিত হয় নূরুল হুদার কমিশন। তবে এরপর খুলনা, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির ভোটে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয় বর্তমান ইসিকে।

এ অবস্থায় বুধবার ভোটের অনিয়ম নিয়ে সিইসির একটি বক্তব্য আলোচনার জন্ম দেয়।

সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বড় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। কোনো নির্বাচনে যদি অনিয়ম হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়।

সিইসির এমন মন্তব্যের পর তাকে ‘সংযত’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশের বাস্তবতায় সিইসি হয়ত মনে করেছেন- এটাই সত্যি। কিন্তু তার বক্তব্যে আরও সংযত হওয়া দরকার, একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মূল দায়িত্বে তিনি আছেন। কথাবার্তা অবশ্য তিনি ভালোই বলেন, তবে স্লিপ হতেই পারে। আমি আশা করি তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দেবেন না।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সিইসি বলেন, ‘আমি তো বাস্তব কথাটা বলেছি। সত্য কথা বলেছি। যদি কোথাও অনিয়ম হবে না বলি-মিথ্যা বলা হবে; আমি তো মিথ্যা কথা বলি না। এখন এ  নিয়ে কেউ কিছু বললে বলতে পারে।’

সিইসির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা বা মন্তব্য করা সবারই ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ বলে মনে করেন কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তার ওই বক্তব্যের কারণে জনমনে শঙ্কা তৈরি হওয়ারও কোনো কারণ নেই।

‘সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আইন শৃঙ্খলাবাহিনী থাকবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আমাদের যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেব আমরা।’ নির্বাচনকালীন সরকারের সময় শুরুর পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিশন ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করবে বলে জানান সিইসি।

তিনি বলেন, ‘অক্টোবর থেকে তো সময় শুরু হবে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল দেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, বিশ্ব ইজতেমাসহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেব।’

দলভিত্তিক সিটি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নূরুল হুদা বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে থাকলে ‘যে কোনো অনিয়ম’ প্রতিরোধ হবে।

‘আশা করি সংসদ নির্বাচন প্রতিযোগতামূলক হবে। কেউ যদি মাঠেই না থাকে তাহলে তো যারা মাঠে থাকে তাদের অবস্থান বেশি দেখা যায়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা যত বেশি শক্তভাবে মাঠে থাকবে, উপস্থিতি থাকবে; অনিয়ম প্রতিরোধ করবে তারাই।’

নূরুল হুদা বলেন, সিটি নির্বাচনে যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে সেখানে অনিয়মও ছিল না। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে নেই- সেখানে ‘সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা’ হয়েছে।

আরো পড়ুন : নির্বাচনে অনিয়ম হবেনা- এমন নিশ্চয়তা নেই: সিইসি
নিজস্ব প্রতিবেদক ( ০৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৫৭)
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম হবে না- এমন নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘প্রতিবন্ধী ভোটারদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা’ বিষয়ক কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

সাম্প্রতিক সময়ের পাঁচ সিটি নির্বাচনে অনিয়মের পর এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হতে পারে?- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সিইসি নূরুল হুদা বলেন, কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে। এসব নির্বাচনে এ রকম অনিয়ম কিছু কিছু হয়েই থাকে। যেখানে বেশি হয়েছে সেখানে আমরা বেশি অ্যাকশন নিয়েছি। যেমন বরিশালে বেশি অনিয়ম হয়েছে, বেশি অ্যাকশন নিয়েছি। সেখানে বেশি কেন্দ্র স্থগিত আছে।


অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, আমরা মনে করি না, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ রকম অসুবিধা হবে। তবে পাবলিক নির্বাচনে বা বড় বড় নির্বাচনে কোথাও অনিয়ম হবে না- এই নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ আমার নাই। অনিয়ম হবে হয়তো, তবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করব। যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর জাতি আস্থা রাখতে পারছে না বলে স¤প্রতি মন্তব্য করেছেন ড. কামাল হোসেন।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ড. কামাল কীভাবে দেখেন, তা তো আমি জানি না। কোন জাতির, কী পরিসংখ্যান তার কাছে আছে, তা তো আমি জানি না। একটা কথা বলতে হলে পরিসংখ্যান দিতে হবে। তার কাছে জাতি বলেছে কি না ভোট দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে যে, আমরা জাতি, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখি না। এ রকম কথা তো আমরা শুনি নাই। জাতি নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখে না এ নিয়ে কমিশন কোনো ধরনের অস্বস্তিতে নেই বলেও মন্তব্য করেন সিইসি।

ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের জন্য এই মুহূর্তে দেশে নির্বাচনি পরিবেশ আছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আমি মনে করি আছে। নির্বাচনী পরিবেশ আছে, অসুবিধা কোথায়? সাংবিধানিক ধারা অনুযায়ী নির্বাচন হবে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে নূরুল হুদা বলেন, এটার সাথে নির্বাচনের কী সম্পর্ক, এটা তো ভিন্ন ইস্যু। নির্বাচন নিয়ে তো তারা কোনো কথা বলেনি। নির্বাচনের সাথে এটার কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। এখানে কমিশনের উদ্বেগের কিছু নেই। এ ছাড়া ভোটার তালিকা হয়ে গেছে, আমার প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল হয়ে গেছে। ভোট কেন্দ্রগুলো নির্ধারণের কাজ চলছে। সংসদীয় আসনের সীমানা পুন:নির্ধারণ হয়ে গেছে। ্

আরো পড়ুন :  সিটি নির্বাচনে কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে : সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হয়েই থাকে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সদ্য সমাপ্ত তিন সিটির নির্বাচনে অনিয়মের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব বিষয়ে সাংবাদিকদের সিইসি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচনের কোথাও কোথাও অনিয়ম হয়েছে। যেখানে বেশি অনিয়ম হয়েছে, আমরা সেখানে ব্যবস্থা নিয়েছি। যেমন বরিশালে আমরা বেশি অ্যাকশন নিয়েছি। বেশি কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। আর এই জাতীয় পাবলিক নির্বাচনে এরকম অনিয়ম কিছু কিছু হয়েই থাকে। বড় ধরনের পাবলিক নির্বাচনে অনিয়ম হবে না— এ রকম নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ আমার নেই। অনিয়ম হলে আমরা যেভাবে করি— সেইভাবে নিয়ন্ত্রণ করবো। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে হোক বা যেভাবে হোক, তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সাম্প্রতিক আন্দোলন জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সঙ্গে এটার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা ভিন্ন ইস্যু। এটা নিয়ে আমাদের উদ্বেগের কিছুও নেই। এখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা বলতেই শুনিনি। এটা সরকার দেখবে, আর যারা আন্দোলন করছে তারা দেখবে।’

দেশ এখন নির্বাচনী পরিবেশ আছে কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক ধারা অনুসারে জাতীয় নির্বাচন হবে। নির্বাচনী পরিবেশ আছে। আমি তো কোনো অসুবিধা দেখছি না। আমরা মনে করি না সংসদ নির্বাচনে এ রকম কোনো অসুবিধা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি আগে থেকেই রয়েছে। অক্টোবরের দিকে তফসিল ঘোষণা শুরু হবে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধ বা জানুয়ারির প্রথম দিনে নিয়ম অনুসারে যেটা হয়, তখন নির্বাচন হবে। জানুয়ারির ২৮ তারিখের মধ্যে ভোট হবে। তবে কমিশনে এখনো এটা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটার সিদ্ধান্ত পরে হবে। নির্বাচন তো করতেই হবে। আমাদের বাধ্যবাধতা রয়েছে।’


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al