২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করল সৌদি আরব

সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ১৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা - ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরব বুধবার ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির ভগ্নাংশের আঘাতে ইয়েমেনের এক নাগরিক নিহত ও অপর ১১ জন আহত হয়েছে। সশস্ত্র গ্রুপগুলোর সাথে যুদ্ধরত রিয়াদের নেতৃত্বে গঠিত জোট একথা জানিয়েছে। খবর এএফপি’র।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি পরিবেশিত জোটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলীয় আমরান প্রদেশ থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিজান নগরী লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রটি ছোঁড়া হয়।
জোটের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ‘নগরীর আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করা হলে এর ভগ্নাংশের আঘাতে ইয়েমেনের এক নাগরিক নিহত ও অপর ১১ জন আহত হয়।’

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্যকরে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সৌদি আরব এগুলো আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
জোট জানায়, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ১৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

আরো পড়ুন :

পর্যবেক্ষকদের অভিমত সৌদি আরবের সাথে কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কানাডার অর্থনীতি
এএফপি ও ডেইলি সাবাহ

কানাডা দাবি করছে, তাদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যেকোনো মূল্যে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা। আর সৌদি আরবের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই নীতি ইতিবাচক হলেও তা কানাডার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকেরা।

গত সোমবার রিয়াদ অটোয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার ও কানাডার সাথে বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর জাস্টিন ট্রুডো প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলেন। তারা বারবারই বলেছেন, কানাডার মূলনীতিগুলোর ব্যাপারে কোনো আপস করা হবে না। ২০১৫ সালে জাস্টিন ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ক্ষেত্রে মূলনীতিগুলো মেনে চলার ওপর জোর দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার কানাডার অর্থমন্ত্রী বিল মর্নিয়ো বলেন, ‘আমরা আমাদের মূল্যবোধগুলোকে সাথে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমরা যে কানাডিয়ান মূল্যবোধের সাথে সারা বিশ্বকে পরিচিত করাতে পেরেছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকদের সাথে সঠিক উপায়ে কিভাবে আচরণ করতে হয় তা আমরা সব সময়ই স্পষ্টভাবে বলতেই থাকবো।’

উল্লেখ্য, সৌদি আরব রাইফ বাদাবি নামক এক ব্লগারকে আটক করার পর ২০১৩ সালে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করে। এরপর থেকেই বাদাবিকে মুক্তি দিতে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছিল কানাডা সরকার। সম্প্রতি এক টুইটার বার্তায় কয়েকজন নারী অধিকার কর্মীসহ বাদাবির অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। এরপর কানাডায় সৌদি ছাত্রদের শিক্ষাগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা সাউদিয়া টরেন্টোগামী তাদের সকল ফাইট বাতিল করে।

সৌদি ছাত্র ও তাদের আত্মীয়দের ওপর এই আদেশের কারণে কানাডা প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার হারাবে। রিয়াদের পক্ষ থেকে এই অর্থ কানাডায় বিনিয়োগ করার কথা ছিল। রাজতান্ত্রিক এই দেশটি তাদের অর্থনীতি বহুমুখী করার পর থেকেই সৌদি আরবের সাথে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়ানোর ব্যাপারে আগ্রহী ছিল কানাডা।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার সৌদি আরব। ২০১৭ সালে কানাডা সৌদি আরবে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করে। ‘হালকা সাঁজোয়া যান’ বিক্রি নিয়ে কানাডা সম্ভবত সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের কাছে মোট এক হাজার ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এই সামরিক যান বিক্রির চুক্তি রয়েছে কানাডার। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড গত সোমবার বলেন, তিনি রিয়াদের কাছ থেকে সামরিক যান বিক্রির চুক্তির ভবিষ্যৎ জানার ব্যাপারে অপেক্ষা করছেন। অবশ্য, ‘মানবাধিকার প্রথম’Ñ এই কূটনীতি মেনে চলা কানাডা যে এবারই প্রথম এই ধরনের অবস্থার মধ্যে পড়েছে, তা নয়। চলতি বছরের প্রথম দিকে কানাডার ট্রুডো সরকার প্রেসিডেন্ট রডরিগো দুতার্তের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চাইলে ফিলিপাইন কানাডার সাথে ১৪টি হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি বাতিল করে।


আরো সংবাদ