২২ জুলাই ২০১৯
কাঠমান্ডু শীর্ষ সম্মেলনে সমঝোতা হচ্ছে

অভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় আসছে বিম্সটেকের সাত দেশ

অভিন্ন বিদ্যুৎ গ্রিডের আওতায় আসছে বিম্সটেকের সাত দেশ - ছবি : সংগৃহীত

বিম্সটেকভুক্ত (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) সাতটি দেশ বিদ্যুৎ আন্তঃসংযোগের (গ্রিড) আওতায় আসতে যাচ্ছে। চলতি মাসে কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠেয় বিম্সটেক শীর্ষ সম্মেলনে এ ব্যাপারে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হবে। সম্মেলনকে সামনে রেখে এমওইউ’র খসড়া চূড়ান্ত করেছে সদস্য দেশগুলো।
কাঠমান্ডুতে আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট বিম্সটেক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের সরকার প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন। শীর্ষ সম্মেলনের আগে ২৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২৮ আগস্ট পররাষ্ট্র সচিবদের বৈঠক হবে। সচিব পর্যায়ের বৈঠক সম্মেলনের আলোচ্যসূচি এবং মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে চুক্তি ও ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা হবে। আর শীর্ষ সম্মেলনে বিম্সটেক নেতাদের সম্মতিতে এসব চুক্তি ও ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাবে। সম্মেলনের শেষ দিন বিম্সটেক নেতারা অবকাশকালে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করবেন।
শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বিম্সটেক নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।
বিম্সটেকের ১৪টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র রয়েছে, যার দায়িত্ব সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের দায়িত্বে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন। এবারের সম্মেলনে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংখ্যায় কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে।
ঢাকায় অবস্থিত বিম্সটেক সচিবালয়কে শক্তিশালী করতে চায় বাংলাদেশ। এখন একজন মহাসচিবের নেতৃত্বে বিম্সটেক সচিবালয়ে তিনজন পরিচালক রয়েছেন। পরিচালকের সংখ্যা সাতজনে উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে রাজধানীর গুলশানে বিম্সটেক সচিবালয় স্থাপিত হয়। বিম্সটেকের বর্তমান মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক শহীদুল ইসলাম।
বিম্সটেক মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল রূপরেখা চুক্তি (বিএফটিএএফএ) দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহী বাংলাদেশ। জোটের সব সদস্য রাষ্ট্র এ চুক্তি সই করলেও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তি বাস্তবায়নে থাইল্যান্ডের নেতৃত্বে একটি ট্রেড নেগোশিয়েশন কমিটি (টিএনসি) রয়েছে। এটি জোটভুক্ত স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা নির্ধারণে কাজ করছে। ভারত বহুজাতিক এফটিএ’র চেয়ে দ্বিপক্ষীয় এফটিএতে বেশি আগ্রহী। এ সংক্রান্ত সমঝোতা চলছে বেশ ধীর গতিতে। ২০০৪ সালে বিএফটিএএফএ সই হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন করা যায়নি।
বিম্সটেক দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বা কানেক্টিভিটি খাতেও অগ্রগতি চায় বাংলাদেশ। গত এপ্রিলে দিল্লিতে বিম্সটেক মোটর ভেহিইক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ) নিয়ে আলোচনা হয়। এতে ভুটান তার দেশে বিদেশী যানবাহন চলতে দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে। থিম্পুর দেয়া প্রস্তাব অনুযায়ী জোটভুক্ত দেশগুলোর যাত্রী ও মালামাল ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু তারপর তা ভুটানের যানবাহনে দেশটির অভ্যন্তরে যাবে। ভুটানের মতে, তাদের দেশের পার্বত্য সড়কগুলো অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিতে সক্ষম নয়। তবে ভুটানের যানবাহনগুলো জোটভুক্ত অন্য দেশের রাস্তায় প্রবেশাধিকার চায়। কিন্তু এটি যানবাহনের নির্বিঘœ চলাচলের চেতনাবিরোধী হওয়ায় জোটভুক্ত দেশগুলো ভিন্ন চিন্তা করছে। এখন যে দেশ যখন চুক্তির ব্যাপারে সম্মত হবে, সে তখন তা সই করবে। তবে চুক্তির ব্যাপারে নীতিগতভাবে সব রাষ্ট্রকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, বিম্সটেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারের চিন্তাভাবনা জোটের অন্য দেশগুলোর চেয়ে ভিন্ন। ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিম্সটেকের যাত্রা শুরু হলেও জোটে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ড ধীর গতিতে চলে। দেশটিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ বিম্সটেকের কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন চায়। আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনে এ বার্তাটি সরকারের পক্ষ থেকে জোরালভাবে উত্থাপন করা হবে।


আরো সংবাদ

gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi