১৫ নভেম্বর ২০১৮

সংসারেও দারুণ ক্যাপ্টেন মাশরাফি

মাশরাফি তার স্ত্রীর সাথে। ছবি - সংগৃহীত

এক যুগে যুগলবন্দি তারা। দেখতে দেখতে কেটে গেছে ১২টি বছর। দাম্পত্য জীবনে দুই সন্তানের জনক-জননী তারা। বলছি-‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা দম্পতির কথা। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে সুখের সংসার তাদের। ক্রিকেট অঙ্গনের এ দম্পতির (মাশরাফি-সুমি) ৭ সেপ্টেম্বর ১২ তম বিবাহবার্ষিকী। এই দিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাশরাফি ভক্তসহ তার বন্ধুরা।

২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর নড়াইল চিত্রাপাড়ের মেয়ে সুমনা হক সুমিকে বিয়ে করেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা। নড়াইল শহরের রূপগঞ্জে একটি কমিউনিটি সেন্টারে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরেরদিন ৮ সেপ্টেম্বর চিত্রা নদীর কোল ঘেষে গড়ে ওঠা চিত্রা রিসোর্টে বৌভাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠান ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের তৎকালীন সভাপতি, কোচ, খেলোয়াড়, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মিলন মেলা হয়েছিল। এদিকে, মাশরাফি ও তার পরিবার কখনোই বিবাহবার্ষিকী এবং জন্মদিন ধূমধাম করে পালন করেন না। এক্ষেত্রে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা। মাশরাফি-সুমির দাম্পত্য জীবনে হুমায়রা এবং সাহেল নামে দুই সন্তান রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর থেকেই মাশরাফি দম্পতির জন্য শুভ কামনা করেন তার ভক্তসহ শুভাক্ষীরা। শেখ নয়ন নামে এক ভক্ত ফেসবুকে লিখেছেন-‘শুভ বিবাহবার্ষিকী ভাই-ভাবি।’ এমবিএ লিংকন লিখেছেন-‘নড়াইল তথা বাংলার ১৭ কোটি মানুষের মধ্যমনি ও গর্ব, ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ মাশরাফি বিন মর্তুজা কৌশিকের শুভ বিবাহবার্ষিকী। শুভ হোক আগামীর দিনগুলি।’ হিরা সারথীর মন্তব্য-‘হ্যাপি অ্যানিভারস্যারি বন্ধু, অনেক অনেক ভালো থাকো সবসময়। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিলয় রায় বাঁধন শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এভাবেই-‘শুভ বিবাহবার্ষিকী ভাই-ভাবী, শুভ কামনা ও আপনাদের সফলতা কামনা করি নিরন্তর।’ এছাড়া ফেসবুকবন্ধুরা মাশরাফির বিয়ের দিনের ছবিসহ তার স্ত্রী ও সন্তানদের ছবিও পোস্ট করেছেন। বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটদলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্য দোয়াসহ ভালো ক্রিকেট খেলার প্রত্যশা করেন ভক্তরা।

 

আরো দেখুন : এশিয়া কাপ নিয়ে যা বললেন মাশরাফি

আসন্ন এশিয়া কাপ ক্রিকেটের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। আজ মিরপুরে এশিয়া কাপ নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন মাশরাফি।

তিনি বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এশিয়া কাপে কেমন করব, সেটা নির্ভর করবে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচের পারফরম্যান্সের উপর। আমরা যদি ম্যাচটা জিততে পারি, তাহলে আমরা শুরুতেই আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাব। আমাদের সামর্থ্য আছে ভালো খেলার। আমাদের জন্য প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। দলে ভালো মানের ক্রিকেটার আছে, যারা ম্যাচ উইনার। যদি প্রথম ম্যাচটা জিততে পারি আমরা তবে আমাদের ভালো করার সুযোগ থাকবে।’


আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়ার কাপের ১৪তম আসর। উদ্বোধনী দিনই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলংকা। লংকানদের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে চান বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। শুরুটা দুর্দান্ত হলে টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাসী হয়ে পথ চলতে পারবে বাংলাদেশ বলে মনে করেন ম্যাশ।
নিজেদের প্রথম ম্যাচটিই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি গুরুত্বপূর্র্ণ। ভারত অনেক শক্তিশালী দল, পাকিস্তানও ভাল দল। তবে আমি মনে করি এই দু’দলকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে। আমরা এই দুই দলের চেয়ে খুব বেশি পিছিয়ে নেই। এ জন্য টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালোভাবে করতে হবে আমাদের।’

২০১২ ও ২০১৬ সালের আসরে ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ। কিন্তু শিরোপার স্বাদ নিতে পারেনি তারা। তাই আসন্ন আসরে আরও ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী বাংলাদেশ। যা বলেছেন দলের অন্যরাও। কিন্তু এখনই ফাইনাল বা শিরোপা নিয়ে ভাবতে রাজি নন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘আগে দু’বার ফাইনাল খেলেছি আমরা। এটি কোন প্রভাব ফেলবে না। কারণ এটি নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন জায়গা। এখানে সব কিছুই নতুন করে শুরু করতে হবে। আমার মূল ভাবনা, প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আমরা শুরুটা কিভাবে করবো, এটি এখন আসল। আমাদের মূল মিশন শুরু প্রথম ম্যাচ দিয়েই। এই ম্যাচটিই আমাদের গতিপথ ঠিক করে দিবে।’

আঙ্গুলের ইনজুরির কারনে পুরোপুরি ফিট নন বাংলাদেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তারপরও তাকে দলে রেখেছে বাংলাদেশ। সাকিবের দলে থাকাটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সাকিবের পারফরম্যান্স ছিল দারুণ। দলের জয়ে তার অনেক অবদান ছিল। যদি ঐ পারফরম্যান্স এশিয়া কাপে থাকে, তাহলে খুবই ভালো। সাকিবের খেলার সিদ্ধান্ত, সাকিবের নিজের। সাকিব থাকলে পুরো দলই অনেক উজ্জীবিত হয়ে ওঠে।’

 


আরো সংবাদ