২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

১৪৮ কোটি টাকার বন্দুক ও গুলি আমদানি হচ্ছে

১৪৮ কোটি টাকার বন্দুক ও গুলি আমদানি হচ্ছে - সংগৃহীত

১৪৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বন্দুক ও গুলি আমদানি করা হচ্ছে। এই পরিমান অর্থ দিয়ে ৩০ হাজার ১২ বোরের শর্টগান ও শর্টগানের জন্য ৩০ লাখ কার্তুজ কেনা হবে। এই সব সামগ্রি ব্যবহার করা হবে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহারের জন্য। এসব শটগান ও কার্তুজ ইতালি, টার্কি ও যুক্তরাজ্য থেকে সংগ্রহ করে সরকারের নিকট সরবরাহ করবে মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি।

বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণলয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য ৩০ হাজার ১২ বোর শটগান এবং শটগানের জন্য ৩০ লাখ কার্তুজ ক্রয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের একটি প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ৩০ হাজার ১২ বোর শটগানের জন্য ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৪ লাখ টাকা। এবং ৩০ লাখ কার্তুজ ক্রয়ে ব্যয় হবে ৩৮ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এসব শটগান ও কার্তুজ ইতালি, টার্কি ও যুক্তরাজ্য থেকে সংগ্রহ করে জননিরাপত্তা বিভাগের নিকট সরবরাহ করবে সরকারি প্রতিষ্ঠান মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সময় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এসব অস্ত্র কেনা হয়। তারই ধারবাহিকতায় এবারও কেনা হচ্ছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সংযুক্ত আবর আমিরাত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির দুটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কোটেশন ইনকুয়েরির মাধ্যমে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমাদিনর ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ সার সরবরাহ করবে মেসার্স আরএস লিমিটেড সিঙ্গাপুর। প্রতিটনের দাম ৩০৪ দশমিক ৪১ মর্কিন ডলার হিসেবে ২৫ টন প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে খরচ হবে বাংলাদেশী টাকায় খরচ হবে ৭২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, আরও একটি ক্রয় প্রস্তাবের মাধ্যমে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব সার সরবরাহ করবে মেসার্স হাইড্রোকার্বন, ঢাকা। সংযুক্ত আবর আমিরাত থেকে এ সার আমদানি করা হবে। ২৫ টন প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে খরচ হবে বাংলাদেশী টাকায় খরচ হবে ৬৭ কোটি ৫৫০ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির ভূতাপেক্ষ (আমদানি করা হয়ে গেছে) অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত সচিব। তিনি বলেন, প্রতিটনের দাম ২৮৪ দশমিক ৭৫ মর্কিন ডলার হিসেবে ২৫ টন প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে খরচ হবে ৫৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ সার আমদানি হয়ে গেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের একটি প্রকল্পের আওতায় ৪১৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই লাখ চার হাজার ৯৯০টি খুটি কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। কনটেক কন্সট্রাকশসন লিমিটেড ১০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকায়, পোলস অ্যান্ড কংক্রিট লিমিটেড ১০৬ কোটি ৪০ লাখ টাকায়, ক্যাসেল কন্সট্রাকশন কোম্পানি ১০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় এবং বাংলাদেশ মেশিনারিজ ফ্যাক্টরি ১০০ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় চারটি লটে এসব খুটি সরবরাহ করবে। এছাড়াও কমিটির বেঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আর আটটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


আরো সংবাদ