০৮ মে ২০২১
`

অপরাধ : সরকার না রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

অপরাধ : সরকার না রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে - ফাইল ছবি

নিহত হওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের নামে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়ের করা অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়- তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলেন। মুশতাকের সাথে একই মামলায় কার্টুনিস্ট কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ওইসব অপরাধ করছেন। সিআইডির আইটি ফরেনসিক রিপোর্টে থেকে জানা যাচ্ছে, কিছু সমালোচনামূলক পোস্ট ছিল তাদের। এগুলোতে ভোট ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, করোনাকালে ত্রাণ মেরে দেয়া, চিকিৎসকের বেতন না হওয়া নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। আর ছিল একটি কার্টুন যেখানে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। মুশতাক ও অন্যদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্র্রের বিরুদ্ধে অপরাধ কিভাবে বলা যায়? বরং এগুলো বর্তমান সময়ে নানা অনিয়ম নিয়মে পরিণত হওয়ার এক অবাঞ্ছিত বাস্তবতা। তারা যদি এগুলো নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে থাকেন তাহলে সেটা আসলে রাষ্ট্রের উপকারে আসবে। সরকার এসব থেকে নিজেদের শুধরানোর সুযোগ পাবেন।

একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে একটি জনগোষ্ঠী নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত হয়। ‘রাষ্ট্র’ শব্দটি ব্যাপক অর্থ বহন করে থাকে। এর একটি স্থায়ী রূপ রয়েছে। অন্য দিকে, সরকার নিয়ত পরিবর্তনশীল। নিয়মিত বিরতিতে সরকার আসে-যায়। রাষ্ট্র নিজে সাধারণত জনগণের জন্য ক্ষতিকর হয় না। আর সরকার অনেক সময় জনগণ ও রাষ্ট্র্রের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখা অনেক সময় প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে। এ জন্য এটাকে সাধারণত কোনো অপরাধ গণ্য করা হয় না। তবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করা একটি বড় ধরনের অপরাধ। এ ধরনের অপরাধের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত প্রদান করা হতে পারে।

কোন অপরাধটি গুরুতর, সেটা আমাদের বুঝতে হবে। রাষ্ট্র যদি তার কোনো একটি অঙ্গ হারায় তার প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ কম। যেমন বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হয়। এই দেশের এক-দশমাংশ যদি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ দুর্বল হয়ে পড়বে। একইভাবে, রাষ্ট্রের ভেতরে অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে। ওইসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও সঠিকভাবে কাজ করার ওপর রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য নির্ভর করে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্গান দুর্বল হয়ে গেলে এ সময়ে রাষ্ট্র ভেঙে পড়তে পারে।

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন। এই প্রতিষ্ঠানটি সংবিধানের ১১৮ ধারা বলে প্রতিষ্ঠিত। এর কাজ স্থানীয় ও জাতীয় সরকারের সর্বস্তরের প্রতিনিধি নির্বাচন করা। এ ক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন সব আগে থেকে তৈরি করা আছে। কমিশনকে শুধু সততার সাথে সেগুলো পরিপালন করতে হবে। যেমন- কেউ যাতে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে না পারে, কেন্দ্র দখল করতে না পারে। যতগুলো পক্ষ আছে সবার সমান অধিকার তারা নিশ্চিত করবে। এ ক্ষেত্রে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবেন তাদের শাস্তি দেয়া হবে। কমিশন যদি শক্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে জনগণের পছন্দের প্রতিনিধি বাছাই করা সম্ভব হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে যেসব দেশ শক্তিশালী করতে পেরেছে তারা এর সুফল ভোগ করতে পারছেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা কিভাবে একজন স্বৈরাচারী ও আইন অমান্যকারী ব্যক্তিকে পরাস্ত করেছে বিশ্ববাসী তা দেখেছে। আইন-কানুনের বদলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থা যদি ট্রাম্পের নির্দেশ মেনে নিত, তাহলে বাইডেন জিততে পারতেন না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিকাশ লাভ করে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর ভর করে। উত্তম শাসনের রেটিংয়ে এগিয়ে থাকা সুইডেন, ডেনমার্ক, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রত্যেকটি সভ্য দেশে নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী প্রতিষ্ঠান সময় মতো তাদের ভূমিকা পালন করে যথাযথভাবে। তারা ক্ষমতাসীন সরকার কিংবা তাদের নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে জেতানোর জন্য কিছু করেন না। আমাদের প্রতিবেশী ভারতেও শক্তিশালী একটি নির্বাচন কমিশনের বিকাশ হয়েছে। অনেক অপূর্ণতার মধ্যেও দেশটির ক্ষমতার পালাবদল তাই মসৃণভাবে হচ্ছে; যদিও বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশনের ক্ষয় শুরু হওয়ায় অনেক তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ পাচ্ছে। এই ক্ষয়কে তারা যদি ঠিক করে আগের জায়গায় নিতে না পারেন বৃহৎ দেশটির গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে পড়বে।

আমাদের দেশে যাদের ওপর সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল, তারা এ ব্যবস্থাকে প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছে। জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে যে নির্বাচন সেটা দেশ থেকে একপ্রকার উধাও হয়ে গেছে। নির্বাচন মানে মনে করা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের বাছাই করা প্রার্থীদের চেয়ারম্যান-মেম্বার ঘোষণার একটি নাকাওয়াস্তে আয়োজন। নির্বাচন কমিশন সেই ক্ষেত্রে রাবার স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। দৃশ্যত কমিশনের কাজ হচ্ছে নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণা করা। আর নির্বাচনের দিন চোখ বন্ধ করে থাকা এবং নির্বাচন শেষে একটি সংবাদ সম্মেলন করে বলা- একটি সুন্দর নির্বাচন হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা এমন সব কথা বলছেন, যেগুলো পুরো জাতির সাথে উপহাস করার শামিল।

ক্ষমতাসীনরা যখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জবরদস্তি করেন তখন কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। এবার চট্টগ্রামের রাউজানে ক্ষমতাসীনদের বাছাই করা প্রার্থী ছাড়া অন্য কেউ মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। তারা পাহারা বসিয়েছেন, কেউ যাতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারে। যারা হুমকি ধমকিকে তোয়াক্কা না করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেষ্টা চালিয়েছেন, তাদেরকে সন্ত্রাসীরা এলাকাছাড়া করেছে। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে অনেকে নিজেদের জান রক্ষা করেছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ গেলে সেটা তারা আমলে নেন না। অন্য দিকে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এমন অভিযোগ তারা পাননি। বিষয়টি পরে তারা খতিয়ে দেখবেন।’ পরে আর কখনো সেটা খতিয়ে দেখা হয় না।

এভাবে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে রাষ্ট্র্রের বিরুদ্ধে কি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়নি? মানুষ দেখতে পাচ্ছে- তাদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, কাউন্সিলর, মেয়র নির্বাচন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের ভোটের মাধ্যমে সেটা হচ্ছে না। তারপরও বলা হচ্ছে- এগুলো তাদের ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে।’ আবার অনেক জনপ্রতিনিধি জনগণের বেশির ভাগ অংশের অপছন্দের। এটা জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপরাধ নয় কি? এই অপরাধের মাত্রাগত দিকটা কত বড় হতে পারে বিশেষজ্ঞরা চিন্তা-গবেষণা করে দেখতে পারেন। কমিশন সংবিধান সমুন্নত রাখার যে শপথ নিয়েছে সেটা তারা রক্ষা করেননি। বরং তারা ‘সজ্ঞানে’ অপরাধ করছেন। জনগণের অধিকার যখন লুণ্ঠিত হলো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বদলে সাফাই গাইছেন। জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচন থেকে শুরু করে পাড়ার একজন কাউন্সিলর নির্বাচনে এখন একই অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অপরাধের বিস্তার যতটা ঘটেছে তা আগে কখনো দেখা যায়নি। গুম, খুন, অর্থ লুটপাট, জালিয়াতি, প্রতারণা প্রভৃতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অনেকের কাছেই এটা একটা বিস্ময় যে, এমন অন্যায় অনিয়ম ও অপরাধের মধ্যে রাষ্ট্রটি এখনো টিকে আছে। একজন মাত্র ব্যক্তি দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এ অঙ্কটি ১০ হাজার কোটি টাকা। তিনি যখন অন্যায়ভাবে অর্থ সরাচ্ছিলেন, সেটা প্রায় প্রকাশ্যেই করেছেন। এ কাজ করতে তিনি আরো অনেককে সাথী করেছেন। এমনকি খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতরেও তার সহযোগী থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অথচ এসব টাকা জনসাধারণের। এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যেসব প্রতিষ্ঠান, গোয়েন্দা সংস্থা ও ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল ছিল, তারা জনগণের পক্ষে কাজ না করে প্রশান্ত কুমার হালদার ও তার গোষ্ঠীর পক্ষে কাজ করেছিলেন। অথবা তারা তার পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সাম্প্রতিককালে বড় বড় অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সোনালী, রূপালী, অগ্রণী, জনতা প্রভৃতি ব্যাংক তারা খালি করে দিয়েছেন। যারা এমন অপরাধ করেছেন, তারা সবাই সরকারের ঘনিষ্ঠ। এর অর্থ দাঁড়াবে, এমন লুটপাটের ঘটনা সরকারের লোকজনকে লাভবান করছে বা পরোক্ষভাবে সরকারের লাভ হয়েছে। এর বিপরীতে রয়েছে জনগণ বা পাবলিক। এর বৃহত্তর অর্থ দাঁড়াবে, এর দ্বারা আসলে রাষ্ট্র্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তা হলে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ এই সময়ে কারা করছেন সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতি হওয়ার কী আছে? অনেকে এভাবে বলতে চাইবেন। একটি চক্র মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে যাচ্ছে। এ ধরনের একটি চক্রের অ্যাকাউন্টে ৬৫ কোটি টাকা জমা হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে এবং সেটা একযুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে। ভাবার কারণ নেই, একটি মাত্র চক্র এটি করছে। আলামত বলছে- আরো অনেক চক্র এ কাজে সক্রিয় রয়েছে। প্রাইমারির প্রশ্নপত্র থেকে একেবারে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ পরীক্ষা পর্যন্ত কোনো একটি পরীক্ষাও পাওয়া যাবে না যেখানে প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে না। এগুলো করে অযোগ্য লোকেরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন। তারাই আবার সেখানে বড় আকারে দুর্নীতি ও অন্যায়ের চাষবাস করছেন।

খবর প্রকাশ হচ্ছে ভুয়া ডাক্তারের। একজন রীতিমতো তাদের নেতা হয়ে গেছেন। এই ডাক্তার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক হয়ে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) তিনি যুগ্ম মহাসচিব। এসএসসিতে প্রয়োজনীয় নম্বর না পেলেও তিনি ডাক্তার হয়ে গেলেন কীভাবে? বাংলাদেশের মেডিক্যালে সুযোগ পাওয়া তিনিই এ ধরনের একমাত্র ব্যক্তি। বয়স অতিক্রম করার পরও সরকারি চাকরির সব নিয়ম ভঙ্গ করে মেডিক্যাল অফিসার পদেও নিয়োগ পেয়েছেন। বিসিএসে উত্তীর্ণ না হয়েও তিনি ২১তম ক্যাডারের পরিচয় দেন। আমাদের দেশে ভালো ব্যাকগ্রাউন্ডের অফিসাররা যেভাবে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন সেই হিসেবে এই উত্তম কুমার বড়ুয়া পুরো স্বাস্থ্য খাতকে বিক্রি করে দেয়ার কথা। অবশ্য সাহেদ-সাবরিনাদের তিনি ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। তিনি সরকারি সামান্য কিছু কেনাকাটায় অনিয়ম করেছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেল, বাংলাদেশের ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট জাতীয় পরিচয়পত্রসহ নানা ধরনের সরকারি নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও জালিয়াতি হচ্ছে। ওইসব অপরাধী নিজেদের নাম বদল করেছেন, বাবা-মায়ের নাম পর্যন্ত বদলে ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন। দণ্ডিত অবস্থায় কারাগারে অবস্থান করে পেয়ে যাচ্ছেন পাসপোর্ট। তৈরি হচ্ছে ভুয়া জাল পাসপোর্ট। এই সূত্রে ভুয়া জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রত্যেকটি অপরাধের সাথে জড়িত সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা হওয়ার কথা। পরিষ্কার তথ্য-প্রমাণ থাকায় তাদের শাস্তি হয়ে যাওয়ার কথা। এগুলো সবই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে করা বড় বড় অপরাধ।

রাষ্ট্রের যতগুলো শাখা-প্রশাখা ও বিভাগ রয়েছে তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম-দুর্নীতি ঢুকেছে। এমন কি সেটা ঘুণপোকার মতো ভেতর থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। অপরাধীরা অনেকে প্রকাশ্যে এসব চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্র্রের প্রতি দরদ নিয়ে তেমন কেউ জোর আওয়াজ তুলছেন না- এ অপরাধীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ করছে, তাদের ধরুন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে স্পেশাল অভিযান চালান।’ সংক্ষেপে বলতে হয়, যাদের অপরাধ রাষ্ট্র্রের বিরুদ্ধে এবং যেসব অপরাধ প্রমাণিত সেগুলোর বিরদ্ধে কর্তৃপক্ষ কিছু করতে যেন উৎসাহী নয়। অন্য দিকে অনেকের কর্মকাণ্ড যেগুলো রাষ্ট্র্রের বিরুদ্ধে যাচ্ছে এমন প্রমাণ নেই, তবে সরকারের অন্যায় কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে, সে ধরনের অনেককে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে আটক করা হচ্ছে। এ ধরনের অনেক ঘটনা দেশে ঘটছে।

jjshim146@yahoo.com



আরো সংবাদ