২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩ বৈশাখ ১৪৩১, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৫
`

ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতা

ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতা - সংগৃহীত

প্রতি বছর ৩ মে বিশ্বজুড়ে ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও সাংবাদিক সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থা এ উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম বিশেষ প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ করে। এসব আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পেরিয়ে যায়। দিবসটি আসে, যায়, কিন্তু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্য পাওয়ার অবাধ অধিকার প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে না। পরিবর্তন ঘটে না বললে অবশ্য ভুল হবে, ক্রমাগতভাবে অবনতি ঘটে। তবে এই দিনটির ইতিবাচক দিক হলো, এ উপলক্ষে দেশের সংবাদকর্মী ও সংবাদমাধ্যমের অবস্থা নিয়ে ভাবনাচিন্তার অবকাশ সৃষ্টি হয়। কিছু তথ্য পরিসংখ্যান সামনে আসে। বিচার-বিশ্লেষণ ও মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

১৯৯৩ সালে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে এ দিবসটি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। ইউনেস্কো দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি জানান দেয় আগে থেকেই। প্রতি বছর একটি করে প্রতিপাদ্য বিষয়ও নির্ধারণ করে। এবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জার্নালিজম উইদাউট ফেয়ার অ্যান্ড ফেভার’। বাংলা করলে দাঁড়ায় ‘ভয় ও পক্ষপাতহীন সাংবাদিকতা’।

দিবসটি সামনে এলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশের কথা সামনে চলে আসে। এবার এমন এক সময়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে, যখন গোটা বিশ্ব ঘাতক মহামারী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত। বিশ্বময় রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাজনীতি, কূটনীতি, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিবর্তন ও স্থবিরতার মধ্যে দিনটি পালিত হচ্ছে। গণমাধ্যমও এর বাইরে নয়। যুদ্ধকালে যেমন গণমাধ্যমকে চরম ঝুঁকি ও প্রতিমুহূর্ত টিকে থাকার লড়াই করে যেতে হয়, এই সময়ের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের অবস্থাও তেমনি। এটা সাময়িক। একসময় করোনাবিরোধী যুদ্ধে পৃথিবী জয়ী হবে নিশ্চয়। আবার ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য। পুরোপুরি পূর্বাবস্থায় পৃথিবী ফিরবে কি না সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় থাকলেও লকডাউনের বন্দিত্ব ও একঘেয়ে পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হবে এটা তো বলাই যায়।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে দৃষ্টিপাত করা যাক আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে। এ দিবসটির প্রাক্কালে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) প্রতি বছরের মতো গণমাধ্যমের স্বাধীনতার একটি বৈশ্বিক সূচক প্রকাশ করেছে। তাতে বাংলাদেশ আগের বছরের তুলনায় একধাপ পিছিয়েছে। ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১।

বাংলাদেশ যে শুধু পিছিয়েছে, তা-ই নয় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের অবস্থান সবার নিচে, এমনকি অঘোষিত সেনাশাসনে থাকা মিয়ানমারের চেয়েও। তালিকায় ৬৭ নম্বরে থাকা ভুটান এ অঞ্চলে মুক্ত সাংবাদিকতার শীর্ষে। এর পরই আছে মালদ্বীপ, দেশটির অবস্থান ৭৯। তালিকায় মিয়ানমারের অবস্থান ১৩৯, ভারত ১৪২, পাকিস্তান ১৪৫, শ্রীলঙ্কা ১২৭, নেপাল ১১২ এবং আফগানিস্তান ১২২। ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের পেছনে যারা আছে তাদের বেশির ভাগ যুদ্ধবিধ্বস্ত। একদম তলানিতে অর্থাৎ ১৮০ নম্বরে থাকা বিশ্বের সব চেয়ে সমালোচিত শাসক কিম জং-উনের দেশ উত্তর কোরিয়া থেকে আমাদের দূরত্ব মাত্র ২৮ ধাপ।

বাংলাদেশের এই অবস্থানের ব্যাখ্যায় আরএসএফ বলছে, দেশটিতে রাজনীতি করা যত কঠিন হয়ে উঠেছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার লঙ্ঘনও তত বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও এর নেতৃত্ব ২০০৯ সাল থেকে যে কঠোর পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তার শিকার সাংবাদিকরা। ২০১৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন, ইচ্ছে হলেই ওয়েবসাইট বন্ধ, সরকারের সংবাদ সম্মেলনে দেশের দুই শীর্ষ দৈনিককে অংশ নিতে না দেয়া এর কিছু উদাহরণ।

সাংবাদিকদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিষয়ে সোচ্চার প্যারিসভিত্তিক রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করেছে যে, চলতি বছর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ১০ জন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করে দেয়ার জন্য আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। নেতিবাচক প্রচারণার দায়ে এই আইনে ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। জেল-জরিমানা এড়াতে ও সংবাদমাধ্যমের বন্ধ হয়ে যাওয়া এড়াতে, সম্পাদকরা নিজে থেকেই নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছেন। এই প্রবণতা এখন তীব্র।

সংগঠনটির বার্ষিক রিপোর্টে ২০১৩ সালে থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৪ থেকে ১৪৬ এর মধ্যে ছিল। পরের বছর বাংলাদেশের অবস্থান গিয়ে দাঁড়ায় ১৫০ এ। সেখান থেকে চলতি বছর নামল আরো একধাপ। যদি আরও পেছনে দৃষ্টি দেয়া যায় তা হলে দেখা যাবে ২০০৯ সালে মুক্ত গণমাধ্যম ইনডেক্সে বাংলাদেশ ছিল ১২১তম। তখন অবশ্য মূল্যায়নের পদ্ধতি ভিন্ন ছিল। ২০১৩ সাল থেকে বিদ্যমান পদ্ধতিতে সূচক নির্ণয় করা হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে, প্যারিস থেকে আরএসএফ বাংলাদেশের গণমাধ্যমের যে চিত্র দেখছে বা পাচ্ছে সেটাই কি আসল চিত্র? নাকি প্রকৃত অবস্থা আরও খারাপ? আরএসএফ হয় তো জানে না, গত এক বছরে কত সাংবাদিক দেশের আনাচে-কানাচে নিগৃহীত হয়েছেন। মূলত যেসব নিপীড়নের ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পায়, দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে সেসব তথ্যই আরএসএফ তাদের বিবেচনায় নিয়ে থাকে। তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা কী তার একটা খ-চিত্র এখানে দেয়া যাক।

পরিসংখ্যানে যাওয়ার আগে সদ্য সমাপ্ত এপ্রিল মাসের কয়েকটি সংবাদ শিরোনামে নজর দেয়া যেতে পারে। সাংবাদিক কাজলের খোঁজ মেলেনি এক মাসেও (বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১২ এপ্রিল), মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলা (প্রথম আলো, ১৪ এপ্রিল), বিডিনিউজ ও জাগোনিউজ সম্পাদকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা (প্রথম আলো, ১৭ এপ্রিল), গণমাধ্যমে কথা বলতে নার্সদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা (যুগান্তর, ১৮ এপ্রিল), ডিজিটাল আইনে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, একজন কারাগারে (প্রথম আলা, ২৫ এপ্রিল), চট্টগ্রামে সাংবাদিককে মারধর, কনস্টেবল প্রত্যাহার (যুগান্তর, ১৪ এপ্রিল), সাংবাদিক তুহিনকে পুলিশের মারধর (মানবজমিন, ১৫ এপ্রিল), সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন পুলিশ কনস্টেবল (সমকাল, ১৫ এপ্রিল), বাগেরহাটে মাইটিভির সাংবাদিক নিগ্রহের খবর), সোনাগাজীতে কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি (নয়া দিগন্ত, ৩ এপ্রিল), করোনার খবর নিতে গিয়ে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন (প্রথম আলো, ২৯ এপ্রিল), সাংবাদিকদের জানার সুযোগ কমাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর (প্রথম আলো, ৩০ এপ্রিল)। এ হচ্ছে মোটা হরফে শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের শিরোনাম।

এ ছাড়া অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও যেসব সাংবাদিক নিগ্রহের খবর পাওয়া গেছে তার কিছু শিরোনাম হচ্ছে এ রকমÑ চাল চুরির অভিযোগ করায় ভোলায় সাংবাদিককে নির্যাতন, ফেসবুক লাইভ (১ এপ্রিল, বাংলাট্রিবিউন), ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম, হবিগঞ্জেও সাংবাদিকের ওপর হামলা (ডেইলি স্টার ডটনেট, ২ এপ্রিল), ‘বাইরইচস ক্যা’ বলেই সাংবাদিককে পিটাতে শুরু করে পুলিশ (বাংলাট্রিবিউন, ৮ এপ্রিল, মিরপুরের রূপনগরে দুই সাংবাদিক নিগ্রহের খবর), বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দফতরে মাদক বিক্রির ছবি তুলতে গিয়ে বাংলাভিশনের ক্যামেরাপার্সন লাঞ্ছিত (বরিশাল ক্রাইম নিউজ ডটকম, ১৮ এপ্রিল), খাদ্যবান্ধব চাল চুরির রিপোর্ট করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন সাংবাদিক (আমাদের সময়, ১৩ এপ্রিল), সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, এসআই প্রত্যাহার (বার্তা টুয়েন্টিফোর ডটকম, ১২এপ্রিল), ত্রাণের চাল সিন্ডিকেট নিয়ে রিপোর্ট করায় নরসিংদীতে হামলায় রক্তাক্ত এসএটিভির সাংবাদিক (দেশনিউজ ডটনেট, ১৮ এপ্রিল), কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকার সাংবাদিক (স্বদেশ প্রতিদিন ডটকম, ১৫ এপ্রিল), তালায় দুই সাংবাদিকসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখম (সুবর্ণভূমি ডটকম, ১৫ এপ্রিল), এবার রাজশাহীতে সাংবাদিক পেটালেন পুলিশের এসআই (৫ এপ্রিল, এটিএন নিউজের ক্যামেরাপার্সন নিগ্রহের খবর)। করোনা মহামারীকালে যখন সাংবাদিকরা অপেক্ষাকৃত কম কর্মক্ষেত্রে ও মাঠে-ঘাটে যাচ্ছে তখনকার নিগ্রহের চিত্র এটি এবং এ চিত্রটি এক মাসের। আবার এর বাইরেও ঘটনা ঘটে থাকতে পারে যা গণমাধ্যমের সংবাদ হয়নি বা লেখকের নজরে আসেনি।

এবার চলতি ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) সাংবাদিক নিপীড়নের পরিসংখ্যান জানা যাক। প্রথম মাস জানুয়ারিতে হামলা, নির্যাতন, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ২০ জন সাংবাদিক। এর মধ্যে সম্পাদক পর্যায়ের অন্তত চার জনকে মামলায় আসামি হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে। এক সম্পাদক ডিজিটাল আইনে গ্রেফতার হয়েছেন।
১৪ জন সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা মামলার শিকার হয়েছেন ফেব্রুয়ারি মাসে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি নির্বাচনকালে এক দিনেই ১০ জন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হন।
মার্চ মাসে একজন সিনিয়র ফটোসাংবাদিক কাজল গুম হয়েছেন। সন্ত্রাসী হামলা, নির্যাতন, ডিজিটাল আইনে হয়রানিমূলক মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন আরও কমপক্ষে ১৩ জন সংবাদকর্মী। ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অপহরণ ও গুম করে রাখার ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয়। কিন্তু দুই মাস পরও তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো তাগিদ দৃশ্যমান নেই। কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে তুলে নিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা এ মাসে তোলপাড় সৃষ্টি করে। এ ছাড়া কুমিল্লা, ভোলা, মেহেরপুর, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকের ওপর নৃশংস হামলা হয়। দৈনিক মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা করে হয়রানি করা হয়েছে এ মাসে।

এটা সত্যি, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকতা সারা পৃথিবীতেই এখন বিপদের মুখোমুখি। তবে বাংলাদেশের চিত্রটা একটু ভিন্ন। এখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা দুই-ই এখন এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, তাকে উদ্বেগজনক বললে সামান্যই বলা হয়। গণমাধ্যমের এই অবস্থার প্রভাব যে এই পেশার মধ্যে সীমিত আছে তা নয়, বরং তার পরিণতি ক্রমাগতভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং রাষ্ট্র, সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তার লাভ করেছে। অনেক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বে টান পড়তে দেখা যাচ্ছে। নির্বিচারে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। গত কয়েক মাসে কয়েক শ’ সংবাদকর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গোটা সেক্টরে অস্থিরতা ও আর্থিক ভঙ্গুর অবস্থার কারণে এমনটা হচ্ছে।

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, গণতন্ত্র যেখানে দুর্বল, সেখানে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম থাকতে পারে না। স্বাধীন সাংবাদিকতা না থাকলে সংবাদমাধ্যম টেকে না। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম অনেক দিন ধরেই প্রচ- চাপের মধ্যে আছে। অনেকে দাবি করবেন, দৃশ্যত কোনো চাপ নেই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এখানে গণমাধ্যমগুলো নিজেরাই সেন্সরশিপ করতে বাধ্য হচ্ছে এবং তা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত চোখ রাঙানির মুখোমুখি। কড়া মনিটরিং, ভয়ভীতি, প্রশাসনিক চাপ, বিজ্ঞাপনদাতাদের ব্যবহার করে অর্থনৈতিক চাপে রাখার অপচেষ্টা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দেশী-বিদেশী সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও সাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে শৃঙ্খলিত গণমাধ্যমের চিত্রই ফুটে ওঠে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনও পুলিশ, কখনও সরকারি দলের কর্মী আবার কখনও সমাজের পেশিশক্তি ও দুর্বৃত্তচক্রের হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা। বিচারহীনতা, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনাগুলো বাংলাদেশে গণমাধ্যমে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এ থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। সরকারকে অনুধাবন করতে হবে, গণমাধ্যম সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক ও সহায়ক। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে অনিয়ম, অনাচার ঘটে তা গণমাধ্যমের বরাতে সরকারের নজরে আসে বলেই ব্যবস্থা নিতে পারে। এই করোনাকালে খাদ্যসহায়তার চাল নিয়ে যেভাবে নয়-ছয় হয়েছে তা গণমাধ্যম তুলে আনতে পেরেছে বলেই সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পেরেছে। ৩০ জনের বেশি জনপ্রতিনিধি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এর ফলে পরিস্থিতির কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম সচেতনামূলক তথ্য, প্রতিবেদন ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশ প্রচার করছে বলে করোনা মহাদুর্যোগ মোকাবেলা সহজতর হচ্ছে। অতএব নিয়ন্ত্রিত নয়, মুক্ত সাংবাদিকতাই দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণকর।

লেখক : মহাসচিব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে

 


আরো সংবাদ



premium cement