২৯ মে ২০২০

আবরার ফাহাদ হত্যা চার্জ গঠনের শুনানি ১৮ মার্চ : ট্রাইব্যুনালে নেয়ার আবেদন

-

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলার অভিযোগ গঠনে শুনানির জন্য আগামী ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার এ মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। এ দিন মামলার বাদি আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ আদালতে হাজির হয়ে বলেন, এ মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার আবেদন করব। তাই সময় দেয়া হোক। তখন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েস সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেন।
ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে আবরার ফাহাদকে গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে ডেকে নেয় বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল শুনানির সময় আবরারের পিতা আদালতে বলেন, ছেলে হত্যা মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে তিন মাস হয়ে গেছে। এখনো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে না যাওয়ায় এবং মামলার বিচার শুরু না হওয়া রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস থেকে তাকে আসতে বলা হয়েছে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর আবেদন করার জন্য। এ জন্য এসেছি এবং আবেদন করেছি। এ সম্পর্কে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, আবরারের বাবাকে ফোন করে এনেছি আবেদনে স্বাক্ষর নেয়ার জন্য। তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তাই আশা করি আগামী ধার্য তারিখের মধ্যে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পাঠানোর প্রজ্ঞাপন হয়ে যাবে। গত ৩০ জানুয়ারি চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। সে দিন শুনানি না হওয়ায় ১৭ ফেব্রুয়ারি চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আদালত; কিন্তু মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়ার জন্য আবরারের বাবা আবেদন করায় চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
আসামিরা হলেনÑ বহিষ্কৃত বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো: অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপ সমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো: মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো: মুজাহিদুর রহমান, মো: মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো: মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।
আসামিদের মধ্যে প্রথম ২২ জন কারাগারে আছেন। শেষের তিনজন পলাতক রয়েছেন। আর আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। গতকাল কারাগারে থাকা ২২ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো: ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেন। গত ১৮ নভেম্বর ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালত। মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। গত ২১ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে চার্জগঠনের তারিখ ধার্য করেন।


আরো সংবাদ