১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

নিউইয়র্কে প্রদর্শিত মাওলানা ইসমাইলের ক্যালিগ্রাফি


বছরখানেক আগে বিয়ে করেছেন ইসমাইল হোসাইন ও ফাহিমা। রাজধানীর ধানমন্ডি–১৯ নম্বরে ছোট সংসার পেতেছেন তারা। তবে ছোট বাসার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আঁকাআঁকির বিভিন্ন আকৃতির ফ্রেম ও রংতুলি। আছে রঙের ছোপ ছোপ দাগও। এসব প্রস্তুত করা হয়েছে আরবি, উর্দু ও বাংলা ভাষায় ক্যালিগ্রাফি আঁকার জন্য। এর মধ্যে কোনোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রস্তুত, আবার কোনোটিতে মাত্র শুরু করা হয়েছে আঁকার কাজ। ইসমাইল জানালেন, তার নেশা ও পেশা ক্যালিগ্রাফি বা অক্ষর শিল্প।

ইসমাইল হোসাইন রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসা থেকে দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্স) শেষ করেছেন। শৈশব থেকেই আঁকাআঁকি ভীষণ পছন্দ তার। ১২ বছর বয়সে যখন মাদরাসায় হিফজ পড়েন, তখন থেকেই অবসর সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্যাংকের ক্যালেন্ডার সংগ্রহ করতেন। তাতে যে আরবি ক্যালিগ্রাফি থাকতো সেগুলো দেখে নিজে ক্যালিগ্রাফি চর্চা করতেন। এভাবেই ক্যালিগ্রাফিকে নিজের সাথে জড়িয়ে নেন তিনি।

আরবির প্রতি ছোট বয়স থেকেই ভিন্নরকম আগ্রহ ছিল তার। পেন্সিলে মাদরাসার নাম, বইয়ের নাম ও সহপাঠীদের নাম লিখতেন। ২০১৪ সালের শেষ দিকে আর্ট অ্যান্ড ডিজাইন হাউস ‘গালা’তে যাতায়াতের সূত্রে পরিচয় হয় দেশের বিখ্যাত ক্যালিগ্রাফার মাহবুব মুর্শিদের সাথে। সুযোগ পেলেই তার ক্যালিগ্রাফি আঁকা দেখার জন্য ছুটে যেতেন ইসমাইল। এরপর ২০১৯ সালে পড়াশোনা শেষে ভর্তি হয়ে যান মাহবুব মুর্শিদের কোর্সে।

মাহবুব মুর্শিদের কোর্সই তাকে পুরোপুরি ক্যালিগ্রাফির পথে নিয়ে আসে বলে জানান ইসমাইল। এখন তার আঁকা ক্যালিগ্রাফি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসমাইল জানান, এগুলো প্রত্যাশিত দামে কিনেও নিচ্ছেন অনেকে।

নিউ ইয়র্ক ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিং প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী ২০২১ সালে মাওলানা ইসমাইলের আঁকা ক্যালিগ্রাফি জায়গা করে নিয়েছে। এ ছাড়াও ২০১৮ সালে টুকি-টাকি আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট এক্সিবিশন, ২০১৯ সালে টুকি-টাকি আর্ট ও ক্রাফট প্রদর্শনী, ২০২০ সালে ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ডে অফ আর্ট ক্যালিগ্রাফি ও ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী ২০২০ এবং ঢাকা ওআইসি ইয়্যুথ ক্যাপিটাল ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনীতে ইসমাইলের আঁকা ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শিত হয়। এমনকি ২০২০-২১ বঙ্গবন্ধু ইয়্যুথ আর্ট কম্পিটিশনে টপ টেনে জায়গা পান তিনি।

ইসমাইল বলেন, ক্যালিগ্রাফিতে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা। কেউ আমার কাজ দেখে বা চিনে এ কারণে নয়, সবাই আমার কাজ দেখে আমাকে ভালোবাসছে এতেই আমার তৃপ্তি।

ক্যালিগ্রাফি একটা সম্ভাবনাময় শিল্প উল্লেখ করে ইসমাইল বলেন, আমাদের দেশে আরবি ক্যালিগ্রাফি অন্যান্য দেশের মতো এখনো সেভাবে তার নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে না পারলেও ধীরে ধীরে এই শিল্পের কদর বাড়ছে। মাহবুব মুর্শিদের চেষ্টায় এখন তা অনেকদূর এগিয়ে গেছে বলেও দাবি তার।

এই শিল্পকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে ক্যালিগ্রাফি শিল্পীদের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি। ইসমাইল বলেন, পেশা হিসেবে আমরা যারা ক্যালিগ্রাফি পেইন্টিংকে বেছে নিয়েছি, একমাত্র তারাই জানি এ কাজে আমাদের দেশে মাহবুব মুর্শিদের অবদান কত বেশি। তাকে সরকারিভাবে যথার্থ মূল্যায়ন করা উচিত।



আরো সংবাদ