২৫ মার্চ ২০১৯

মোদির বিমান হামলা এবং তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্ততা

তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা অনিবার্য - ছবি : সংগ্রহ

তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা অনিবার্য

ভারত-পাকিস্তানের বিরোধে তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা অনিবার্য। বাস্তবে সবসময়ই তা ভারতের নিজের স্বার্থেই এত দিন তারা সে সুযোগ নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া সরাসরি কাশ্মির ইস্যুতে ভারত সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন বা গুম, খুন, হত্যায় মানবাধিকার লঙ্ঘন অথবা কাশ্মিরি নাগরিকদের ওপর যেকোনো বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে ভারতকে অবশ্যই সমালোচনা, নিন্দাসহ প্রতিকার চাওয়ার দাবি শুনতেই হবে। ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’- এটা কথার কথা। এটা বলে এই অকেজো দাবি করে ভারতের কোনো তৎপরতাই আড়াল হয়নি, ভারত তা নিজ স্বার্থেই আড়াল করতে পারেনি, পারবেও না।

কোনো দু’জনের বিরোধে মধ্যস্থতা বলতে তা ঠিক মধ্যস্থতাকারীর মাতুব্বরি বা অধীনস্থতায় চলে যাওয়া বুঝায় না। তবুও মধ্যস্থতা ধারণাটির মৌলিক দিক হলো, বিরোধে জড়ানো দুইপক্ষ বিরোধ মেটাতে বা রফা করতে সরাসরি কথা না বলেও শুরুতে অন্যের মাধ্যমে ডায়ালগ শুরু করে দিতে পারে। যাতে অন্যের মাধ্যমে সেই পরোক্ষ সংলাপ-আলোচনা একটি ইতিবাচক জায়গায় পৌঁছলে এরপর সরাসরিই উভয়পক্ষের কথা বলার সুযোগ নেয়া যায়। আর পরিশেষে ওই বিরোধের শান্তিপূর্ণ একটা সমাধান অর্জন করা যায়। এভাবে মধ্যস্থতার বড় সুবিধার দিক হলো- উভয়পক্ষ কতটুকু ছাড় দিতে বা যেতে রাজি, ঠিক কী হলে একটা রফা সম্ভব এর যাচাই-পরখ হয়ে যায় আর তা কোনো ধরনের আগাম দায় না নিয়েই পরিস্থিতি যাচাই, পরস্পরের মনোভাব বোঝা, দুর্বলতা-সবলতা সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া সম্ভব।

এটাই কঠিন বাস্তবতা। কিন্তু ভারতের অবস্থা সবসময়ই এক উভয় সঙ্কটে। নেহরুর আমলে তিনি কাশ্মির ইস্যু জাতিসঙ্ঘে নিলে সেখানে কাশ্মিরে গণভোট করার প্রস্তাব পাস হয়েছিল। আর সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন না করে পাশ কাটাতে সেই তখন থেকেই তিনি এক বিদেশনীতি চালু করেন। তা হলো ভারত বলতে থাকবে, ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’। অর্থাৎ এ কথা বলে পর্দা তুলে দেয়া যে কাশ্মিরে যাই ঘটুক, তা নিয়ে অন্য রাষ্ট্র কোনো মন্তব্য করে বা গণভোটের কথা মনে করিয়ে দিয়ে, দাবি জানিয়ে- ভারতকে যেন কূটনীতিসহ যেকোনো ইস্যুতে বেইজ্জতি অবস্থায় না ফেলে দেয়। তবে ভারতের ঘোষিত নীতিই ফাঁপা বা ভুয়া, যা তারা নিজেরাই কখনো মানেনি। বরং গোপনে বা প্রকাশ্যে ভারত তৃতীয়পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য খুশিমনে মেনে নিয়েছে। এ নিয়ে এক রিপোর্ট করেছেন ভারতের সাংবাদিক কলামিস্ট পিকে বালাচন্দ্রন। তিনি কাশ্মির-সংশ্লিষ্ট প্রতিবারের ইস্যুতে দেখিয়েছেন ভারত মধ্যস্থতাকারীর সাহায্যেই সঙ্কট উতরিয়েছে। এর অর্থ, এটি ভারতের জন্য এক উভয় সঙ্কট হয়ে আছে- যে তৃতীয়পক্ষ বা মধ্যস্থতার সাহায্য যা পাবে এর সবটা সে চেটেপুটে নেবে; কিন্তু বিপদে পড়লেই মন্ত্রের মতো জপতে থাকবে ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’।

বাস্তবে এবারের পুলওয়ামা আত্মঘাতী হামলার পর ‘প্রতিশোধের উন্মাদনা তুলে’ মোদির ভারত পাকিস্তানে বিমান হামলা করতে পাঠিয়েছিল। মোদির এই হামলাকে আসন্ন নির্বাচনে নিজের বীরত্ব হিসেবে দেখাতে ব্যবহার করা হবে- সে কাজে এই রসদ এতে সংগ্রহ হয়ে যায়। কিন্তু মোদি অন্য এক সঙ্কটে পড়েন। বিধ্বস্ত বিমানের পাইলট পাকিস্তানের হাতে আটকা পড়ে যায়, তাকে ছাড়িয়ে আনতে হবে। এ ছাড়া এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা তার থামানো দরকার। কারণ, ভোটের বাজারের জন্য ‘বীরত্বগাথা’ সংগ্রহ হয়ে গেছে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তার সমস্যা হলো- থামাতে চাইলেই পাকিস্তান তখন তা থামাবে কেন? আর ইমরান পাইলটকে ছেড়ে দিলেও এরপর পাকিস্তান আর পাল্টা হামলায় যাবে না, এই নিশ্চয়তা মোদিকে এনে দেবে কে?

তাই লজ্জার মাথা খেয়ে আবার তৃতীয়পক্ষ মানে আবার মধ্যস্থতাকারীদেরই ডাকাডাকিতে মোদিকে ভরসা করতে হয়েছিল। সৌদি ক্রাউন প্রিন্স, ওআইসি, ট্রাম্পের অফিসের এক সম্মিলিত মধ্যস্থতার ওপর ভরসা। আর অন্য দিকে চীনের নেতৃত্বে রাশিয়াসহ আরেক দূতিয়ালির ফ্রন্টের ওপর ভরসা। এই ছিল মোদির পদক্ষেপ। কিন্তু ভারতের কপাল খারাপ। ওআইসির সম্মেলন মোদির বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দাওয়াতে গিয়ে মিষ্টি ভাষণ দিয়ে এলেও পরের দিন ওই সম্মেলন থেকে কাশ্মির-সংক্রান্ত গৃহীত প্রস্তাবে ভারতের কাশ্মিরনীতি আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি খুঁটিনাটি ইস্যুতে কড়া সমালোচনা ও নিন্দার বক্তব্য রাখা হয়। এমনকি ভারতের এসব তৎপরতাকে ‘ভারতীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে শব্দ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক কূটনৈতিক বিপর্যয়কর অবস্থায় উল্টো নিজেদের বিপদ বুঝে ভারত এবার সেই মন্ত্র জপা শুরু করে দিয়েছিল যে, ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে বিশেষ করে ভারতীয় মিডিয়া এই বেইজ্জতির সমস্যায় পড়ে মোদির কোনো দায় না নিয়ে বরং তারাও সব দায় ও ক্রোধ মোদির সরকারের ওপর উগরে দিয়েছিল।

কিন্তু এর পরও মুখে যাই বলুক, মোদিকে মধ্যস্থতার ওপরই ভরসা করে যেতে হচ্ছে; যা এখনো শেষ হয়নি। কারণ, পাকিস্তানের দিক থেকে পাল্টা সব তৎপরতার সম্ভাবনা শেষ হয়েছে, এই নিশ্চয়তা পেতে হবে মোদিকে! ইতোমধ্যে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের সাথে প্রতিযোগিতায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের ক্রেডিট দাবি করে উঠিয়ে নিয়ে গেছেন। ইমরান খান ভারতীয় আটক পাইলটকে ছেড়ে দেয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই ভিয়েতনাম সফররত ট্রাম্প ‘নাটকীয় খবর আসছে’ বলে নিজের সংশ্লিষ্টতা প্রকাশ করেছিলেন। আর এবার চীনও নিজের ভূমিকা জাহির করে বলছেÑ সে একটা ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রেখে চলছে।

মধ্যস্থতা মানেই আসলে তৃতীয়পক্ষ। অর্থাৎ বিবদমান দুইপক্ষের বাইরের কেউ এই অর্থে তৃতীয়। আবার এটা গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের আমল। মানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের আমেরিকার নেতৃত্বে যে নিয়ম ও বিধিব্যবস্থায় দুনিয়া গড়ে উঠেছিল সেটাই। এই গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের এখন বিগত প্রায় সত্তর বছর পার করে দিয়েছে; এমন এই দুনিয়ায় বাস্তবতা হলো, কোনো দুই রাষ্ট্রের বিরোধে বিবদমান কোনো পক্ষ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অন্য তৃতীয়পক্ষ কাউকে ডাকুক আর নাই ডাকুক, সেখানে বহু তৃতীয়পক্ষেরই স্বার্থ আছে বা থাকে। কারণ, ৭০ বছর ধরেই অর্থনীতি বলতে সেটি আর একক কোনো একটা রাষ্ট্রের নয়; বরং তখন থেকেই এই প্রথম অর্থনীতি মানেই এক গ্লোবাল অর্থনীতির অংশ- এমন হয়ে গেছে। আর এতে সব অর্থনীতি সবার সাথে নির্ভরশীলতায় মাখামাখি এমন একটা কিছুর আবির্ভাব ঘটে গেছে। তুলনায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের দুনিয়া যেটা ছিল তা আসলে কেবল হাতেগোনা কিছু উপনিবেশের মালিকদের, কিছু সাম্রাজ্যের দুনিয়া। আর এর বিপরীতে গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের দুনিয়া মানে এটা এখন ঔপনিবেশিক শাসনমুক্ত, স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর দুনিয়া। শুধু তাই নয়, এটি হলো সব রাষ্ট্রই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এমন এক গ্লোবাল অর্থনীতির দুনিয়া। এরা সবাই পণ্য, পুঁজি, কাঁচামাল, বিনিয়োগ, বাজার ইত্যাদিতে সবার সাথে সবার এক ব্যাপক লেনদেন বিনিময়ের ভেতর দিয়ে পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল- এমন এক অর্থনীতির দুনিয়া। বিশেষ করে ১৯৮০-র শতক থেকে যেটাকে ‘গ্লোবালাইজেশন বা রফতানিমুখী’ অর্থনীতির দুনিয়া বলা হচ্ছে। এমন দুনিয়ায় এখানে যেকোনো দুই রাষ্ট্র বিবদমান হয়ে থাকা মানে হলো- এ দুইপক্ষের সাথে বিভিন্ন বিনিময় সম্পর্কে জড়িয়ে থাকা অনেক তৃতীয়পক্ষ আছে ও থাকবে, যারা ওই বিরোধের কারণে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের নিজ নিজ অর্থনীতি ও সমাজ প্রভাবিত হতে দেখবে।

যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া এত দিনের আমেরিকান নেতৃত্বের দুনিয়া এখন এক অন্তর্র্বর্তী অবস্থায়, নতুন নেতা চীনের নেতৃত্ব স্থানান্তরিতকরণ প্রক্রিয়ায় আছে। ফলে ভারত-পাকিস্তানের চলতি বিবাদে ক্ষয়ে যাওয়া মুরোদের আমেরিকা ও ফ্রেশ মুরোদের চীন, এদের দুইয়ের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ভারত-পাকিস্তান কেউ ডাকুক আর না ডাকুক তারা সংশ্লিষ্ট তৃতীয়পক্ষ হয়ে হাজির হবেই।

ইদানীং এ প্রসঙ্গে আবার ভারতে প্যারিসের স্বার্থও জ্বলজ্বল করে উঠেছে। কারণ, পুরনো সোভিয়েত মিগ বিমানগুলো বাতিল বা ফেলে দিয়ে ভারত এখন ফরাসি মিরেজ বা লেটেস্ট রাফায়েল বিমান কিনে সে জায়গা পূরণ করে চলেছে। কিন্তু তাই বলে আবার সোভিয়েত স্বার্থ অর্থই একালে পুতিনের রাশিয়ার স্বার্থ গুটিয়ে যায়নি। কারণ, সস্তায় সাবমেরিনসহ অনেক কিছুই এখনো পুতিনই দিতে পারেন। দামে সাশ্রয় করতে বাংলাদেশ চীন থেকে যে পুরনো সাবমেরিন কিনেছে তা চীনে পুনর্গঠিত করা হলেও সেটাও মূলত রাশিয়ান। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের জলসীমায় ভারতীয় সাবমেরিন ঢুকেছিল কি না, যা পাকিস্তান ঠেকিয়ে দিয়েছিল বলে রিপোর্ট বেরিয়েছে, এর পক্ষে সাফাই রিপোর্টও এসেছে রাশিয়ার গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে।

আবার এসবে তৃতীয়পক্ষের একটা অভিন্ন স্বার্থও আছে। তা হলো ভারত-পাকিস্তানের সঙ্ঘাত যেন বিনাযুদ্ধেই সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত থাকে। কারণ, এদের সঙ্ঘাত ছড়িয়ে গেলে তা থেকে গ্লোবাল অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে, যা নিজ নিজ রাষ্ট্রের নিজ অর্থনীতিতে বিভিন্ন প্রভাব নিয়ে হাজির হবে- যেটা কেউই চাওয়ার অবস্থায় নেই। এ ছাড়া ভারত-পাকিস্তান দুটোই পারমাণবিক শক্তির রাষ্ট্র বলে তা আর কারো কাম্য নয়। কেউই তার পুঁজি, পণ্য, বিনিয়োগ, বাজার ইত্যাদি স্বার্থকে এ দুই রাষ্ট্রে অস্থির অনিশ্চয়তায় দেখতে চাইবে না। সারকথায়, ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’ বলে মালা জপে, সেই ভারত কাশ্মিরে যা খুশি তাই করে যেতে পারবে না। ইতোমধ্যেই কাশ্মিরের বাইরে ভারতের বিভিন্ন শহরে কাশ্মিরিরা নির্যাতিত বা নাজেহাল হওয়ায় ভারতেরই সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ভারতের মানবাধিকার কমিশন কয়েকটা শহরের নাম উল্লেখ করে সেখানে কাশ্মিরিদের ওপর কী ঘটেছে, সরকারের কাছে সেই মানবাধিকার রিপোর্ট তলব করেছে। ভারতের বাইরে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান কাশ্মিরিদের প্রতি বিভেদ ও বৈষম্যমূলক নীতির জন্য মোদি সরকারের সমালোচনা ও সতর্ক করেছে। কোনো রাষ্ট্রই (মুসলমান বলে) নিজের কোনো কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্যমূলক ও নিপীড়নমূলক আচরণ করতে পারে না। আর এটা ‘কাশ্মির ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু’ বলে মালা জপে ভারত দেশী বা বিদেশী অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টা বৃথা এবং অকেজো। আর তা মোদি সরকার পারেওনি। এমনকি বৃহৎ গণতন্ত্রের দেশ বলে ফাঁপা ভ্যানিটি দেখিয়েও আড়াল হবে না।

অপর দিকে ভোটের বাজারে বিমান হামলার বীরত্ব ফেরি করে বাক্স ভরার যে পরিকল্পনা (বোমায় ৩০০ জঙ্গি মরেছে বলে যে দাবি) মোদি নিয়েছিলেন- সেটাও মাঠে মারা গেছে। আন্তর্জাতিক নিউজ এজেন্সি রয়টার্স খবরের সত্যতা সংগ্রহে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের সক্ষমতা রাখে এমন কোম্পানি। তার সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের একটা খাত হলো উপগ্রহ থেকে ছবি ও তথ্য সংগ্রহ। পাকিস্তানের বালাকোটে কথিত জঙ্গি আস্তানায় হামলা হয়েছে কি না, ক্ষয়ক্ষতি কেমন এর ফ্যাক্টস জানতে রয়টার্স হাই-রেজুলেশনের স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করতে কোম্পানি নিয়োগ করে। তাদের সংগৃহীত ছবি ও তথ্য ৩০০ জঙ্গি মারা যাওয়ার দাবি দূরে থাক, মাদরাসার অটুট দাঁড়িয়ে থাকা যা ওই বিশ্লেষকের মতে, ১০০০ কেজি কথিত বোমা ফেলার মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে পারার কথা নয়। রয়টার্স রিপোর্ট করেছে, এ সমুদয় তথ্য ও ছবি ‘ভারত সরকারের বিদেশ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ই-মেইল করে’ পাঠায়। সরকারি অফিসে পাঠিয়ে মন্তব্য ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো সাড়া পায়নি। কলকাতার উগ্র জাতীয়তাবাদের সমর্থন করে রিপোর্ট লেখা আনন্দবাজার- সেও মোদির কাজ ও ভুয়া দাবির দায়দায়িত্ব না নিয়ে এ প্রসঙ্গে লিখছে, “মার্কিন বেসরকারি স্যাটেলাইট অপারেটর ‘প্যানেট ল্যাবস ইনকরপোরেট’-কে দিয়ে বালাকোটের একটি ছবি তোলায় সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। মার্চের ৪ তারিখে তোলা হাই-রেজুলেশনের সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, জাবা গ্রামের অদূরে পাহাড়ের মাথায় সেই মাদরাসাটি দিব্যি অক্ষত দাঁড়িয়ে রয়েছে। তার ছাদে কোনো গর্ত নেই, ভাঙনের কোনো চিহ্ন নেই দেয়ালেও।”

অবস্থা এমন শোচনীয় যে, জঙ্গি মারা যাওয়ার কথা সরকারের দায়িত্বশীল কে দাবি করেছিল তা এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পাকিস্তানে বিমান হামলা করে প্রতিশোধ নিয়েছে মোদি, আসন্ন নির্বাচনে এই ‘বীরত্ব’ দাবি করার সুযোগ আর তার থাকল না মনে হচ্ছে। হিতে বিপরীত, এক লেজেগোবরে অবস্থায় বিশ্বাসযোগ্যতাহীন এক মোদি ও তার সরকার এখন।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]


আরো সংবাদ




iptv al Epoksi boya epoksi zemin kaplama Daftar Situs Agen Judi Bola Net Online Terpercaya Resmi

Hacklink

Canlı Radyo Dinle hd film izle instagram takipçi satın al ofis taşıma Instagram Web Viewer

canli radyo dinle

Yabanci Dil Seslendirme

instagram takipçi satın al