২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২০ বছর ধরে স্বেচ্ছায় ট্রাফিকের কাজ করে যাচ্ছেন আজাহার

২০ বছর ধরে বিনাপারিশ্রমিকে ট্রাফিকের কাজ করে যাচ্ছেন আজাহার। - ছবি: নয়া দিগন্ত

পরনে ট্রাফিক পুলিশের রঙচটা পুরনো পোশাক। মাথায় সেলাই করা ছেড়া ক্যাপ ও পায়ে ছেড়া জুতা। আর বগলে পল্লী বিদ্যুতের দুই হাত লম্বা মোটা তার। লিক লিকে গড়নের ৫৫ বছর বয়সী এ মানুষটির নাম আজাহার আলী মন্ডল। বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভালাইন ইউনিয়নের লক্ষ্মীরামপুর গ্রামে।

কথা বলে জানা যায়, আজাহার আলী মন্ডলের টানা-পোড়নের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে-মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাদের আলাদা সংসারও আছে। জীবন জীবিকার তাগিদে এক সময় তিনি ঢাকায় রিকশা চালাতেন। প্রায় ১৬ বছর রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। এরপর এলাকায় চলে আসেন।

জেলার মহাদেবপুর উপজেলা প্রবেশ মুখে ব্রিজের ওপর একটি দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে মারা যান। তার বিবেককে নাড়া দেয়। এরপর থেকে স্বেচ্ছায় প্রায় ২০ বছর ধরে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি।

প্রথমে আজাহার আলী মহাদেবপুর উপজেলায় আট বছর ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন। পরে সেখান থেকে আজ অবধি জেলার মান্দা উপজেলার ফেরিঘাটে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রথম প্রথম তাকে কেউ মানতে চাইত না। তবে সময়ের প্রেক্ষিতে যখন যানজট বেড়ে যাচ্ছিল তখন সবাই তাকে মানতে শুরু করে। নিয়মমতো সবাই যানজটমুক্ত করে চলাচলের সুযোগ করে দেন। প্রতিদিন ফেরিঘাটে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নিরলসভাবে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন আজাহার আলী।

স্বেচ্ছাসেবী আজাহার আলী বলেন, ১৯৯৫ সালে আনছার ভিডিপি থেকে প্রশিক্ষণ নেই। সেখানে ট্রফিকের কিছু কলাকৌশল শিখানো হয়েছিল। আর সে অভিজ্ঞতা থেকে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছি। তবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করলেও মন্ত্রী স্যার (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক), ইউএনও অফিস, থানা ও সার্কেল স্যার আর্থিক কিছু সহযোগিতা করে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, অর্থ সঙ্কটে চলি। গরিব মানুষ। পোশাক কিনতে পারি না। মন্ত্রী স্যার পোশাক কেনার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। সে টাকা দিয়ে চাল-ডাল কিনে খেয়েছি। এছাড়া অ্যাকশিরা রোগে ভুগছি। ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

সিএনজি চালক ফজলুর এবং ভটভটি চেন মাস্টার জামিনুর রহমান বলেন, এ জায়গাটিতে বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে বেশি যানজটের সষ্টি হয়। রাস্তা পারাপারে যে যার মতো করে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আজাহার আলী চাচা ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করে সবাইকে শৃঙ্খলভাবে চলাচল করতে বলেন।

মান্দা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, আজাহার আলী একজন স্বেচ্ছাসেবক ট্রাফিক পুলিশ। সাদা মনের ওই মানুষটি বিনা পারিশ্রমিকে মান্দার ফেরিঘাট মোড়ে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সারাদিন ডিউটি করেন।

উপজেলায় যোগদানের পর তিনি আমার কাছে ছোট একটি আবদার নিয়ে আসেন। রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি ছাতা পাওয়া যায় কিনা! শোনামাত্র তার ইচ্ছা পূরণ করেছি। উপহার সামান্য হলেও তার স্বেচ্ছাশ্রমের কাজের আগ্রহ অনেকগুণ বাড়িয়ে দিবে।

নওগাঁ সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মান্দা সার্কেল) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ফেরিঘাট একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যন্ততম জায়গা। আজাহার আলী স্বেচ্ছায় নিরলস শ্রম দিয়ে ট্রাফিকের যে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন সেটা নিঃসন্দেহ ভালো উদ্যোগ।

 

আরো পড়ুন: রৌমারীতে স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে ২০০ ফুট বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

মোস্তাফিজুর রহমান তারা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) ২০ জুলাই ২০১৮

রৌমারীতে গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে সোনাভরি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাধীন ৩ নম্বর বন্দবেড় ইউনিয়নের খনজনমারা ও বাইশপাড়া গ্রামের বুকচিড়ে সোনাভরি শাখা নদীটি ব্রহ্মপুত্রে গিয়ে মিলিত হয়েছে। একমাত্র সোনাভরি নদের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে বাইশপাড়াসহ চরাঞ্চলীয় কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ২০০ ফিট একটি খালের কারণে ইচ্ছা করলেও উপজেলা শহরের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে না। নদীটির ওপর কোনো ব্রিজ না থাকায় যুগযুগ ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ পিছিয়ে রয়েছেন।

বছরের পর বছর ওই এলাকার মানুষ এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে সোনাভরি নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের আকুতি জানালেও সুফল পায়নি। তাই সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে খনজনমারা ও বাইশপাড়া গ্রামের মানুষ একত্র হয়ে যে যা পারে সোনাভরি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণে সহায়তার আহ্বান জানান।

পরে এক মাস বাঁশ, গাছ ও অর্থসংগ্রহ করে এবং গ্রামের মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে ২০০ ফিট একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়। সাঁকোটি নির্মাণ হওয়ায় উভয় পারের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের সড়ক যোগাযোগ সহজ হয়।


আরো সংবাদ