২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের একটি ঘটনারও বিচার হয়নি : সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ

-

আজ পর্যন্ত সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের একটি ঘটনারও বিচার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ একথা বলেন। তারা বলেন, যারা সাংবাদিকদের উপর হাত দিয়েছে তাদের হাত পুড়ে গেছে, এই সরকারের হাতও পুড়ে যাবে।
তারা বলেন, একের পর এক সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সম্প্রতি আনন্দ টিভি পাবনা জেলা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, ঢাকায় ছাত্রলীগের গুন্ডারা দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর হামলা করেছে, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের উপর নৃশংস হামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এভাবে দেশ চলতে পারে না। অবিলম্বে এ সব ঘটনার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে হবে। তা নাহলে এ সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নেমে এ সরকারকে বিদায় করে সকল হত্যা-নির্যাতনের বিচার করবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন -ডিইউজে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী।
ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাতের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বিএফইউজে ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, বিএফইউজে মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহিদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিএফইউজে সহ-সভাপতি নূরুল আমিন রোকন, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব শফিউল আলম দোলন, বিএফইউজের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, ডিআরইউ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ গাজী আনোয়ার, জনকল্যাণ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর, দপ্তর সম্পাদক শাহজাহান সাজু, ডিইউজে নির্বাহী সদস্য সৈয়দ আলী আসফার, ডিইউজে বাসস ইউনিটের প্রধান আবুল কালাম মানিক, বিএফইউজে সাবেক প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, নির্বাহী সদস্য ডিএম আমিরুল ইসলাম অমর প্রমুখ।
এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, ডিআরইউ’র সাবেক সহ-সভাপতি জিয়াউল কবির সুমন, ডিইউজের প্রচার সম্পাদক মাসুদা সুলতানা প্রমুখ। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে।
রিয়াজউদ্দিন আহমেদ বলেন, কি অপরাধে সুবর্ণা নদীকে হত্যা করা হল, কি অপরাধে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর হামলা করল। আমরা জানি না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকারের লোকজন ছাড়া আজ কাউকে মিডিয়ার ডিক্লারেশন দেয়া হচ্ছে না। এ অবস্থা বেশি দিন থাকবে না। যারা সাংবাদিকদের উপর হাত দিয়েছে তাদের হাতও পুড়ে গেছে। এ সরকারের হাতও পুড়ে যাবে।
রুহুল আমিন গাজী বলেন, একের পর এক সাংবাদিক হত্যা-নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলছে। আজ পর্যন্ত একটি ঘটনারও বিচার হয়নি। সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যা করল, আদালতে প্রাঙ্গণে মাহমুদুর রহমানের উপর নৃশংস হামলা করল, দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রলীগের গু-ারা হামলা করল, এখন পর্যন্ত একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। মিডিয়াকে আজ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। পছন্দের ব্যক্তিদের মিডিয়ার ডিক্লারেশন দেয়া হচ্ছে এভাবে চলতে দেয়া যায় না। যতদিন সাংবাদিক হত্যার বিচার না হবে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলছে ও চলবে।
এম আবদুল্লাহ বলেন, সুবর্ণা নদীসহ এ পর্যন্ত ৩৩জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। অসংখ্য সাংবাদিককে নির্যাতন করা হয়েছে। আজ পর্যন্ত একটি হত্যাকা- ও নির্যাতনের বিচার হয়নি। সকল হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা সরকার ধামাচাপা দিচ্ছে। একের পর এক এমন ঘটনা চলতে পারে না। এখন সময় এসেছে সব হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা। বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, সাংবাদিক হত্যার বিচার করতে হলে এই সরকারের বিদায় ছাড়া কোন পথ নেই। এই সরকারের বিদায় হলেই সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার হবে।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এই সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত কোন সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। আমরা সাংবাদিক নির্যাতনের যখন বিচার চাইলাম, বিনিময়ে তা না করে নদীর লাশ উপহার দিল, এই দানব সরকারকে বিদায় না দিলে একের পর এক সাংবাদিকরা লাশ হতেই থাকবে। কাজেই এ সরকারকে বিদায় করে সকল হত্যার বিচার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।
শহীদুল ইসলাম বলেন, দেশে মানুষ আজ স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি পাচ্ছে না। সাগর-রুনিসহ কোন সাংবাদিক হত্যার বিচার আমরা পাইনি। সুবর্ণা নদী সাংবাদিক সম্মেলন করে নিরাপত্তা চেয়েছিল, কিন্তু পায়নি। তাকে নির্মমভাবে খুন হতে হল। মাহমুদুর রহমানের উপর আদালত প্রাঙ্গণে হামলা করা হল। অথচ কেউ গ্রেফতার হল না। এই সরকারকে বিদায় করেই এসব হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করতে হবে।  বিজ্ঞপ্তি


আরো সংবাদ