২০ জুলাই ২০১৯

শব্দের চেয়েও দ্রুতগতি, চলে শব্দহীন

শব্দের চেয়েও দ্রুতগতির দু’টি টি-৩৮ সুপারসনিক বিমান সাগরের ওপর দিয়ে নিঃশব্দে ওড়ার সময় বায়ু তরঙ্গের চমৎকার মিথষ্ক্রিয়া ঘটে। অত্যাধুনিক ক্যামেরার সাহায্যে এ ছবি ধারণ করা হয়েছে - ছবি : সংগ্রহ

শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির দুটি বিমান উড়ে যাওয়ার সময় তা থেকে সৃষ্ট তরঙ্গের মিথষ্ক্রিয়ার অভূতপূর্ব ছবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)। গর্জন ছাড়াই নিঃশব্দে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে উড়তে পারে এমন সুপারবিমান নিয়ে পরিকল্পনায় গবেষণার অংশ হিসেবে এ বর্ণিল ছবি ধারণ করা হয় অত্যাধুনিক ক্যামরায়।

যখন একটি বিমানটি নির্দিষ্ট সীমারেখাটি অতিক্রম করে তখন সেটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১,২২৫ কিলোমিটার (৭৬০ মাইল) বেগে উড়ছিল। বিমানটিতে তৈরি তরঙ্গ তার চারপাশের বায়ুুতে চাপ দেয় তা কান ফাটানো শব্দকে সম্পূর্ণভাবে মিলায়ে দেয়।

নাসা জানায়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার আর্মস্ট্রং ফ্লাইট রিসার্চ সেন্টারের ‘রক স্টার’ পাইলটদের জটিল কৌশল অনুসারে শব্দের চেয়ে দ্রুতগতির দুটি টি-৩৮ বিমান একটি থেকে অন্যটি উপরে-নিচে ৩০ ফুট (নয় মিটার) দূরত্ব রেখে উড়ে চলে। একটি উন্নত ও উচ্চগতির ক্যামেরা দিয়ে সেই দৃশ্যের ছবি তুলতে অপেক্ষা করছিল ফটোসাংবাদিকেরা। তারা প্রায় ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় উভয় বিমান থেকে উদ্ভূত তরঙ্গের নির্দিষ্ট মিলনস্থলের ছবি নেন।

নাসা-এর সাথে কাজ করে এমন একটি এজেন্সি এয়ারস্পেস কম্পিউটিং ইনকরপোরেশন। এই সংস্থাটির ওয়েবসাইটে একটি পোস্টে নীল স্মিথ জানান, জেট বিমানের একটি আরেকটির ঠিক পেছনে উড়ছিল। এই তথ্যটি তরঙ্গের মিথষ্ক্রিয়ার ব্যাপারে আমাদের বোঝাপড়াকে আরো অগ্রসর হতে সাহায্য করবে। 

তীব্র শব্দের গর্জন উদ্বেগের কারণ হয়ে থাকে, এটি কেবল জমিনে থাকা মানুষকে কেবল ভীত সন্ত্রস্ত করেই না উপরন্তু তাদের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে। সংস্থাটি জানায়, তরঙ্গের মিথষ্ক্রিয়ার এই ধরনের বিস্তারিত চিত্রগুলো ধারণে নাসার ক্ষমতা এক্স-৫৯ এর উন্নয়নে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ ভূমিকা রাখবে। আশা করা হচ্ছে যে, পরীক্ষামূলক সুপারসনিক বিমানটি শব্দের বাধা ভেঙে দিয়ে নীরবে উড়তে সক্ষম হবে।

এই অসাধারণ সাফল্য সুপারসনিক বিমান উড্ডয়নের ওপর বিধিনিষেধের অবসান ঘটাতে পারে এবং আবারো এর বাণিজ্যিক ফ্লাইট শুরু হতে পারে। ২০০৩ সালে এই প্রচণ্ড শব্দের কারণে সুপারসনিক বিমান কনকর্ডের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। অনেক দেশ ও শহর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কনকর্ড বিমানের সোনিক বোম বা প্রচণ্ড শব্দের কারণে এর চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিমানটির শব্দে ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে পড়ে। সূত্র : ডন।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat instagram takipçi hilesi