০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

বাগানে বিশ্রাম নিচ্ছিলো ‘গ্রিন পিট ভাইপার’

গ্রিন পিট ভাইপার - ছবি - নয়া দিগন্ত

ফুল বাগানে বিশ্রামে থাকা অবস্থায় একটি গাঢ় সবুজ রঙয়ের ‘গ্রিন পিট ভাইপার’ সাপ উদ্ধারের পর আজ মঙ্গলবার অবমুক্ত করা হয়েছে। দুপুর ১টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্দ্যানে এটিকে অবমুক্ত করা হয়।

বন বিভাগের এফজি সুব্রত সরকার, তাজুল ইসলাম ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল সাপটি অবমুক্ত করেন।

এর আগে গত সোমবার শহরতলীর ভাড়াউড়া চা বাগানের সহকারী ম্যানেজার বাংলোর সামনে ফুল বাগান থেকে বিশ্রামে থাকা অবস্থায় গাঢ় সবুজ রঙয়ের ‘গ্রিন পিট ভাইপার’ বা সবুজ ডোরাটি উদ্ধার করেন বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।

জানা যায়, সাপটিকে প্রথমে বাগানের মালী দেখে আতঙ্কিত হয়ে চা বাগান ব্যবস্থাপককে জানায়। পরে বাগান ব্যবস্থাপক বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক সজল এসে অক্ষত অবস্থায় সাপটিকে উদ্ধার করে ফাউন্ডেশনে নিয়ে আসেন।

সজল জানান, ‘গ্রিন পিট ভাইপার’ সাপটি বিষধর কয়েকটি সাপের মধ্যে অন্যতম। গাঢ় সবুজ রঙয়ের সাপটিকে দেখতে খুব সুন্দর দেখালেও এটি অত্যন্ত বিষধর সাপ। এটি যদি কাউকে ছোবল দেয় তাহলে নাক, কান, এমনকী লোমকূপ ও চুলের গোড়া থেকেও রক্ত বের হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, সাপটি উদ্ধারের পর দেখে মনে হয়েছিল বড় কিছু একটা গিলে খেয়েছিল। যে কারণে সাপটি নড়াচড়া করতে পারছিল না। পরে সাপটি নিজে থেকেই বমি করে একটি কাঠবিড়ালি বের করে দেয়।

সজল আরো জানান, খাবারের সন্ধানে এখন লাউয়াছড়া বন ছেড়ে প্রায়ই এ জাতের সাপগুলো লোকালয়ে চলে আসছে। এ ধরনের সাপের মাথার পাশে চোখের নিচে হলুদ ও সাদা। ওপরের ঠোঁটের প্রান্তে সরু সাদা রেখা, দেহের নিচটা ফ্যাকাশে সবুজ ও খানিকটা হলুদ। দেখতে লাউ গাছের মতো হওয়ায় স্থানীয় লোকজন এই সাপকে লাউডুগি সাপ বলে ডাকে।

তিনি জানান, এটি বিষাক্ত সাপ হলেও এর দংশনে মানুষ মারা যাওয়ার রেকর্ড খুবই কম। এ সাপটিকে অনেকেই আবার ‘সবুজ বোড়া’ নামেও ডাকে। এটি ভাইপারিডি পরিবারের বিষধর সাপ। এই সাপের ওপরের চোয়ালে একজোড়া লম্বা বিষদাঁত থাকে। ওই দাঁত দুটি মুখের তালুর সাথে ভাজ করে রাখে, প্রয়োজন মতো পেশির সংকোচনে মুখ খুলে গেলে বিষদাঁত দুটি মুখের তালু থেকে বেরিয়ে আসে। শিকারকে ছোবল দিয়ে তার শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দিয়ে দাঁতগুলো আবার আগের মতো ভাজ করে নেয়।

সাপটি নিশাচর হওয়ায় দিনের বেলা সচরাচর দেখা যায় না। রাতের বেলায় বেশি ঘুরে বেড়ায়। বৃক্ষচারী হলেও খাদ্যের জন্য প্রায়ই মাটিতে নেমে আসে। খুবই ধীর গতিতে চলাফেরা করে এটি। এরা গিরগিটি, ব্যাঙ, ছোট স্তন্যপায়ী প্রানী ছাড়াও কাঠবিড়ালির মতো প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে। সাপটি সবুজ বনে থাকতে পছন্দ করে সবুজ লতাপাতায় নিজেকে মিশিয়ে ফেলে। ঝোপজঙ্গল, বাঁশঝাড়, চা-বাগানে সাপটি থাকতে পছন্দ করে। স্ত্রী-সবুজ বোড়া ডিম্বথলিতে ডিম পাড়ে ও প্রাপ্ত বয়স্ক সাপের মতো দেখতে ৭-১৬টি বাচ্চা প্রসব করে।



আরো সংবাদ