বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ও অধিষ্ঠিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক ও সশ্রদ্ধ অভিনন্দন। ২. বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ। ৩. সুদূর ডেনমার্কের জুটল্যান্ডে সদ্যপ্রয়াত পরমাত্মীয় লিলি বান্দগার্ডের (৮৭) আত্মার মাগফিরাত কামনা। ৪. আজকাল প্রায়শ কুয়াশাসদৃশ ক্ষুদ্র বারি (পানি) কণা চিক চিক করতে দেখা যায় হাঁটার পথে, পত্র-পল্লবে; মনে হয় আকাশের সর্দি হয়েছে তার রানিং নোজের প্রমাণ পথে প্রান্তরে। ৫. সুন্দরবনের এক বাঘিনীর বনদস্যুদের ট্র্যাপে পড়ে আহত হওয়া, আশ্রয় কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণের পর তার আদি আবাসে অবমুক্ত হওয়া অবধি তাকে ট্র্যাক করতে ৪০টি ক্যামেরার প্রয়াস প্রাসঙ্গিক ভাব-ভাবনাকে বাস্তবতায় নোঙর করা নিয়ে আজকের এই লেখা।
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি আরো সর্বাঙ্গ সুন্দর হতে পারত যদি বাস্তবতার আলোকে ৭০ অনুচ্ছেদকেন্দ্রিক বিতর্ক ওঠার অবকাশ না মিলত। জুলাই সনদ এবং গণভোটের মর্মমূলে সংবিধান সংস্কারের যে আকাক্সক্ষা ছিল তার মধ্যে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ প্রথার সংস্কার ছিল অন্যতম। গণভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারের সমর্থন সম্মতি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার ও প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের জন্য মূল নির্দেশনায় নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ কার্যদিবস সময়সীমা নির্ধারণ করা। সে সময়সীমা পার হওয়ার পথে, ইতোমধ্যে সংস্কার বিল চূড়ান্তকরণের কাজ এগিয়ে চলছে। কিন্তু ইতোমধ্যে জনমনে সংবিধান সংস্কার বিল চূড়ান্ত হওয়ার আগে ৭০ অনুচ্ছেদের খতনা করার কাজটি করিয়ে নেয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষীয় দোদুল্যমানতায় সংশয় সৃষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। এ ব্যাপারে বাস্তবতায় নোঙর গাড়ার বিষয়ে সব মহলে বিশ্লেষণ ও স্পষ্টীকরণের সময় এখনো শেষ হয়নি।
বাংলাদেশের অর্থবছরের পরিধি পরিবর্তনটি বহু বছর আগে থেকে ডিউ হয়েছিল। পয়লা বৈশাখ থেকে অর্থবর্ষ গণনার প্রথা প্রবর্তন করেছিলেন মুঘল সম্রাট আকবর মূলত রাজস্ব আহরণ তথা অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই। ইতঃপূর্বেকার চান্দ্র মাসের ভিত্তিতে প্রচলিত হিজরি সন এবং সৌরবর্ষ গণনার পদ্ধতি প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় ও সাযুজ্য সাধনের তাৎপর্য ও যৌক্তিকতা বিচার বিশ্লেষণের ভার তার নবরত্ন সভার সবচাইতে বিজ্ঞ বিচক্ষণ সদস্য, মশহুর ইতিহাসবেত্তা আবুল ফজল (১৫৫১-১৬০২) এবং অর্থ ও রাজস্ববিষয়ক সদস্য রাজা তোডরমলকে তিনি অর্পণ করেছিলেন এ বিবেচনায় যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডই রাজ্য কিংবা সরকারের অন্যান্য সব কর্মকাণ্ডের উপরে অধিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক ও প্রভাবক ভূমিকায় থাকে। ফসলি সন নামে নতুন বর্ষগণনার রীতি প্রবর্তিত হয় ৫৯৪ হিজরি সনের জুলিয়ান ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১২ এপ্রিল, গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার মোতাবেক ১৪ এপ্রিল, সোমবার। প্রবর্তনের খ্রিষ্টীয় সনটি ১৫৮৪ হলেও ফসলি সনের প্রবর্তক সম্রাট আকবরের সিংহাসন আহরণের সন ১৫৫৬ থেকে এর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা প্রদান করা হয়। প্রজাদের উৎপাদিত ফসলের ওপর সেস বা কর রাজস্ব আরোপ, হিসাবায়ন এবং যথা মৌসুমে তা সংগ্রহের সুবিধার্থে মূলত ফসলি সনের প্রবর্তন। ভারতের দিল্লিতে বসে প্রবর্তিত রাজস্ব আয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নির্দেশক এই ফসলি সনই পরবর্তীকালে সুবা বাঙলায় (বর্তমানের বাংলাদেশ) বঙ্গাব্দ বা বাংলা সন হিসেবে অব্যাহতভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
মোগলের পর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে রাজস্ব আহরণের উদ্দেশ্য অভিপ্রায় ও প্রক্রিয়া ছিল মূলত বেনিয়া বাণিজ্য বোধ বিশ্বাসের ভিত্তিতে। সে সময় আর্থ প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ফসলি সনের ব্যবহারিক গুরুত্ব হ্রাস পায়। তৎকালীন ব্রিটিশ ভাবধারায় অর্থবছর পৃথকভাবে গণনার রেওয়াজ চালু হয়। গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকাবর্ষের বিপুল ব্যবহার ফসলি সনের কদরকে ফিকে করে দেয় আর পুরো আর্থপ্রশাসনিক অবস্থা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা দান করে। কোম্পানি বাংলার মৌসুমি জলবায়ু তো দূরের কথা ফসল উৎপাদনের সময়সূচিকে রীতিমতো অবজ্ঞাভরে দেখতে শুরু করে।
১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতের রাজদণ্ড কোম্পানির হাত থেকে খোদ ব্রিটিশ সরকারের হাতে চলে যায়। ওয়েস্টমিনস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত ভারতে ব্রিটিশ সরকারের প্রথম বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে আইনসভায় পেশ করা হয় ৭ এপ্রিল ১৮৬০। অর্থবছরের ধারণাটা বাংলা সনের অনুগামী রাখার পক্ষপাতী ছিলেন ভারতবর্ষে প্রথম অর্থমন্ত্রী জেমস উইলসন (১৮০৫-১৮৬০)। সিপাহি বিদ্রোহের পর ভারতে নতুন ব্রিটিশ সরকারের আর্থিক সঙ্কটের মোকাবেলায় ইতিহাসসচেতন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ উইলসন ভারতের আর্থসংস্কৃতি ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিয়ে ১৮৬০-এর ৭ এপ্রিল উপস্থাপিত ভারত সরকারের প্রথম বাজেট বক্তৃতাতেই ভারতে আধুনিক আয়কর প্রবর্তনেরও প্রস্তাব করেন। পরবর্তী চার বছর বাজেট এপ্রিল, মে এমনকি জুন মাসে উপস্থাপিত হলেও ১৮৬৫ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ১ এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরুর বিধান কার্যকর হয়।
১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পর ভারতীয় প্রজাতন্ত্র ১ এপ্রিল-৩১ মার্চকে অর্থবছর হিসাবে অনুসরণ অব্যাহত রাখে; কিন্তু পাকিস্তান সরকার জুলাই-জুনকে অর্থবছর সাব্যস্ত করে। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শাসনে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাধান্য থাকায় পূর্ববঙ্গ বা পূর্বপাকিস্তান বা বর্তমানের বাংলাদেশ প্রাদেশিক বা আঞ্চলিকতায় পর্যবসিত হয়। সুতরাং বাংলার কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মৌসুম অনুগামী বাংলা সন অর্থবছরের সাযুজ্যতায় মর্যাদার প্রশ্নে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে । সে সময় পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি বা উৎপাদন মৌসুম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সবকিছুই ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভিন্ন। সে কারণে এপ্রিল মার্চ এর স্থলে জুলাই জুনকে অর্থবছর সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তই একচ্ছত্র হয়ে যায়।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে অর্থবছরকে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির প্রতিফলক বাংলা সনের অনুগামীকরণের বিষয়টি যৌক্তিক বিবচেনায় এসেও যেন আসেনি। দুঃখজনকভাবে পাকিস্তান আমলে প্রবর্তিত জুলাই-জুন এখনো বাংলাদেশের অর্থবছর হয়ে আছে। উপযুক্ত কারণ পরীক্ষা পর্যালোচনা করে এটি পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণের আবশ্যকতা অনুভূত হয়।
বাংলাদেশের মৌসুমী আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বার্ষিক কর্মযোজনার নিরিখে এটি খুবই স্পষ্ট যে, জুলাই-জুন অর্থবছর হিসেবে যোগ্যতর নয়, হতে পারে না। আমাদের দেশে মূলত মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর অবধি বর্ষাকাল। বিদ্যমান অর্থবছর শুরু হয়েই প্রথম তিন-চার মাস বর্ষাজনিত কারণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করা যায় না। আয়কর আইন অনুযায়ী আগের অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মাথায় ঠিক এ সময়টিতে আয়কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা চলে আসে, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে প্রায়ই বড় বন্যা তথা প্রাকৃতিক দুর্যোগ অর্থনৈতিক জীবনযাত্রায় দুর্গতি বয়ে আনে এবং এ সময়টি ফসল বপনের, ফসল তোলার নয়; ফলে আয়কর হিসাবায়ন, পরিশোধ তথা রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতায় বিব্রত বোধ করে রাজস্ব প্রদানকারীরা, নানান কারণে প্রায় প্রতি বছর আয়কর প্রদানের সময় বাড়ানোর দাবি ওঠে।
অর্থবছরের প্রথম তিন-চার মাস এক ধরনের কর্মহীন আতিবাহিত হওয়ার পর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্য কিংবা সরবরাহের আদেশ দিতে দিতে এপ্রিল-মে। সরবরাহ সেবা কিংবা ভৌত কর্মকাণ্ড যখন শুরু হবে তখন বর্ষা শুরু হয়ে যায়। কাজের, সরবরাহের, সম্পাদনের গুণগতমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বর্ষাকালে। এ সময় মেরামত সংস্কার কাজে জনভোগান্তি যেমন বাড়ে, কাজের গুণগতমান পরিবীক্ষণেও ঘটে বিপত্তি। অর্থবছরের শেষে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শেষ করার তাগিদে কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখানোর জরুরিয়তে বিভিন্ন অনিয়ম অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়া নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়ায়। অনিচ্ছা সত্ত্বেও এ সময়টিতে অপব্যয়-অপচয়ের অবকাশ হয় অবারিত। শুধু কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের অর্থবছরের পাঁচ-ছয়টি মাস অর্থনীতির জন্য অনুকূল না হয়ে প্রতিকূল হয়ে ওঠে।
অথচ অর্থবছর এর এই ব্যাপ্তিটা জুলাই-জুনের পরিবর্তে এপ্রিল-মার্চ (বাংলা সনের কাছাকাছি) হলে প্রথম মাসেই কাজ শুরু করে পরবর্তী তিন-চার মাস বর্ষাকালে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে অক্টোবর-মার্র্চ, এই ছয় মাস পুরোটাই নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে পরিপূর্ণ ব্যবহার সম্ভব হতে পারে। এই সময়টিই সব কাজের জন্য অনুকূল, সহনশীল ও উৎপাদনমুখী। ব্যক্তি ও ব্যবসায় উভয় শ্রেণীর করদাতার জন্যও মে-জুন মাসে করের হিসাবায়ন, কর প্রদান তথা রিটার্ন দাখিলে বিড়ম্বনা হবে কম। কৃষিপ্রধান অর্থনীতির এই দেশে উৎপাদন মৌসুম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায় বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও আবহমান সংস্কৃতির সুসময় শনাক্তকরণের বাস্তবতায় নোঙর করেই অর্থবছরের ব্যাপ্তি নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশী এক মেধাবী তরুণ করোনাকালে নিরুপায় হয়ে ডেনমার্কে সহকর্মীর সাথে ঘর বাঁধেন। সে সময় সেখানে মানবিক ঐক্য আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংস্থাপনের মূল্যবোধ কাজ করেছিল। তবে সমস্যা একটা থেকেই যাচ্ছিল, সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ায় নেতিবাচক কোনো প্রসঙ্গ উঠে আসে কি না। ড্যানিশ পরিবারের প্রবীণতম সদস্য মিসেস লিলি বান্দগার্ড বাস করতেন জুটল্যান্ড। লিলি ছিলেন বাংলাদেশী তরুণের দাদীশাশুড়ি। গত পাঁচ বছরে দেখা গেল, কোপেনহেগেন থেকে ২৭৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থানকারী এই মহিয়সী মহিলা বাংলাদেশ-ডেনমার্ক যৌথ পরিণয়ে আবদ্ধ পরিবারের এমন একজন শান্তি সংস্থাপয়িতা হয়ে ওঠেন, আবির্র্ভূত হন ধর্ম-বর্ণ আর্থিক অবস্থান (তিনি ছিলেন বেশ সম্পদশালী) নির্বিশেষে একান্ত আপনজন, মানবিক মুরুব্বি এবং বিশাল হৃদয়ের অভিভাবক হিসেবে। বাস্তবতা এখানে বশংবদ বিরোধাভাসকে ফুঁ দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছে। জয় হয়েছে মানবিক মূল্যবোধের, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতির।
জলবায়ুর পরিবর্তন শুধু বাংলাদেশের নয়; গোটা পৃথিবীতে যেন আটঘাট বেঁধে প্রাকৃতিক পরিবেশ প্রতিশোধ নিচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশ ব্যাপক আকারে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। অসময়ে বৃষ্টি, শীতের সময় বেশি শীত অথচ ক্ষণস্থায়ী। গ্রীষ্মের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে জনজীবনকে সর্বং অসহায় করে তুলেছে। কৃষি ও সাংস্কৃতিক জীবনায়নে পরিবর্তনের বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। প্রকৃতির প্রতি কৃত অন্যায় পুষিয়ে নেয়ার জন্য জলাধার সংস্কার, বৃষ্টির মিষ্টি পানি ধরে লবণাক্ততা ও আর্সেনিকমুক্ত পানি ফসল চাষবাসে আর মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধিও উদ্যোগ হিসেবে খাল কাটা কর্মসূচি, বৃক্ষরোপণকে আন্দোলনে রূপান্তর এবং সবার ওপর স্বাবলম্বী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাচ্ছে বাংলাদেশ। ভাদ্র মাসে শরতের নির্মেঘ আকাশে অসময়ের মেঘের অস্বাভাবিক আনাগোনা সাধারণ বৃষ্টির পরিবর্তে সারাক্ষণ শিশিরের মতো বারিপাত প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। এসব দেখে বাস্তবতা মেনে নেয়ার উপায় ও উপলক্ষ হিসেবে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্যোগকে যেন খাটো না করা হয়।
সুন্দরবনে ‘শিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে’ আহত হওয়ার পর ছয় মাস চিকিৎসা শেষে অবমুক্ত করা সেই বাঘিনীর এক মাসেও কোনো সন্ধান মেলেনি। তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণে প্রায় আট বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও ধরা পড়েনি বাঘিনীর অস্তিত্ব। বাঘিনীটি বেঁচে আছে কি না, নাকি ফের শিকারিদের পাতা ফাঁদে পড়ে মারা গেছে এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।
তবে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বলছে, সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় গত ১২ জুলাই বাঘিনীটিকে তার আবাসস্থল সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকার গভীর অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়। ওই এলাকায় অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে হয়তো অন্য এলাকায় চলে গেছে। বন বিভাগ নিয়মিতভাবে এসব ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছে। ক্যামেরায় তার ছবি না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, বাঘিনীটি মারা গেছে। দেশের ও পরিবেশের মূল্যবান প্রাণিসম্পদের সংরক্ষণ কর্মে বাস্তবতা মানতে হবে। জীববৈচিত্র্যের প্রতি যত্নবান ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
লেখক : উন্নয়ন অর্থনীতির বিশ্লেষক



