সম্পাদকীয়
জনস্বার্থে ফেরি সার্ভিস চালু করুন
বাস্তবে নদীভাঙনের অজুহাতে ফেরি সার্ভিস চালু না করা একটি খোঁড়া যুক্তি। এই প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে চলে আসে— প্রকল্প হাতে নেয়ার আগে কেন সঠিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি? উল্লিখিত স্থানে স্থাপনা নির্মাণ টেকসই হবে কি না? সঙ্গত কারণে অবকাঠামো নির্মাণের পর তা ফেলে রাখায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে— আসলেই কি এটি জনস্বার্থে নেয়া হয়েছিল, নাকি প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাট করা ছিল উদ্দেশ্য? এটি কি সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বেচ্ছাচারিতা নয়?
দায় স্বীকার নয়, চাই সমাধান
শুধু সারের ক্ষেত্রে নয়, বিদ্যুৎ-গ্যাসসঙ্কটও উদ্বেগজনক। দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট বন্ধ। কমেছে বিদ্যুৎ আমদানি। অন্যদিকে গ্যাসের অভাবে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না। সরকারের শিল্প, বিদ্যুৎ ও আবাসিক খাতের মধ্যে গ্যাস বণ্টনে ‘ভারসাম্য’ রক্ষার যুক্তি বাস্তব হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি কোনো সমাধান নয়। কারণ, বিদ্যুৎ-গ্যাসের অনিশ্চয়তায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সঙ্কুচিত হচ্ছে। এই তিন সঙ্কট মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়ে জনজীবনকে চাপে ফেলেছে।
জনবল সঙ্কট দূর করুন
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাটি তুলা চাষের জন্য উপযোগী। তুলার বিপুল চাহিদা মেটানোর জন্য এখানে এর চাষ বাড়ানো দরকার। চৌগাছার তুলা বর্ধন খামারটি এজন্য গুরুত্ব পাওয়ার দরকার ছিল। উল্টো সেটি অবহেলার শিকার। চৌগাছার তুলা বর্ধন খামারটির জনবল সঙ্কটসহ যাবতীয় সমস্যা সমাধানে কৃষি মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু চৌগাছার তুলা উৎপাদন খামার নয়; দেশের অন্যান্য তুলা উৎপাদনের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরো যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে
৯৮ শতাংশের কথাও ভাবতে হবে
বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পড়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে তাদের উদ্ধার করা জরুরি। বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের বেতন বা আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করাও সরকারের দায়িত্ব। পে-স্কেলের আওতাধীন ৩৩ লাখের বাইরের কোটি কোটি মানুষের জীবনে স্বস্তি আনার ব্যাপারেও সরকারের দায় আছে; তা ভুলে গেলে চলবে না।
চাই টেকসই ব্যবস্থাপনা
শহরের বুকে বর্জ্য রেখে ‘পরিচ্ছন্ন শহর’ গড়ে তোলা অসম্ভব। এর জন্য দ্রুত জমি অধিগ্রহণ ও আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণ করতে হবে। বর্জ্য পৃথকীকরণ (প্লাস্টিক, পচনশীল ও চিকিৎসা বর্জ্য আলাদা করা) নিশ্চিত করে বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির রিসাইক্লিং প্ল্যান্ট চালু করা জরুরি। বগুড়াবাসীকে দুর্গন্ধ, দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে একসাথে কাজ করতে হবে স্থানীয় নগর প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে।




