০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

অ্যান্টিবডিকে বোকা বানিয়ে যেভাবে কোষ থেকে কোষে ছড়ায় করোনাভাইরাস

অ্যান্টিবডিকে বোকা বানিয়ে যেভাবে কোষ থেকে কোষে ছড়ায় করোনাভাইরাস - ছবি : সংগৃহীত

নিজেকে বাঁচাতে আর দ্রুত সংক্রমণ ঘটাতে মানবদেহে ঢুকে চোরাপথে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। কোষ থেকে কোষে। যা মানবদেহের অ্যান্টিবডিগুলো টেরও পাচ্ছে না। মানবদেহের ভিতরে থাকা ‘প্রহরী’ (অ্যান্টিবডি)-দের চোখে এই ভাবে ধুলা দিতে পারছে বলেই দ্রুত সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠছে সার্স-কোভ-২ ভাইরাস। ওমিক্রন, ডেল্টা-সহ ভাইরাসের সবক’টি রূপেরই আছে এই অনায়াস দক্ষতা।

সাম্প্রতিক একটি গবেষণা এই খবর দিয়েছে। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’-এ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা। এর ফলে, আরো কার্যকরী নতুন ওষুধ বা টিকা আবিষ্কারের পথ খুলে যেতে পারে অনতিবিলম্বে।

গবেষকরা পরীক্ষা চালিয়েছেন গবেষণাগারে। কালচার্ড মানব দেহকোষের ওপর। তারা দেখেছেন, মানবশরীরে ঢোকার পরপরই করোনাভাইরাস তার বহিরাবরণের ভিতরে থাকা পদার্থ (আরএনএ-র মতো ‘ভাইরাল পার্টিক্‌লস’) বের করছে না। মানবশরীরের অ্যান্টিবডিগুলোকে ধোঁকা দিতে। যাতে তারা বুঝতে না পারে বাইরে থেকে কোনো হানাদার ঢুকে পড়েছে মানবশরীরে। কারণ, অ্যান্টিবডিগুলো হানাদারি টের পেলে ভাইরাসের মুশকিল। তার শরীর থেকে বেরিয়ে আসা ভাইরাল পার্টিক্‌লগুলোকে তখন নিষ্ক্রিয় করে দেবে অ্যান্টিবডি।

তাই করোনাভাইরাস মানবশরীরে ঢোকার পর চট করে ভাইরাল পার্টিক্‌লগুলো তার দেহের ভিতর থেকে বের না করে দিয়ে আশ্রয়দাতার কোষগুলোর গায়ে গিয়ে লেগে থাকে। তাদের এভাবে সেঁটে থাকতে সাহায্য করে মানব দেহকোষের বাইরের আবরণীতে থাকা এসিই-২ প্রোটিন। আর মানবকোষগুলোর গায়ে নোঙর ফেলতে ভাইরাসকে সাহায্য করে তাদের আবরণীর বাইরে থাকা শুঁড়ের মতো স্পাইক প্রোটিন।

মূল গবেষক ওহায়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির ভাইরোলজি বিভাগের অধ্যাপক শান-লু লিউ বলেছেন, ‘এই ভাবে অভিনব উপায়ে চোরাপথে মানবদেহে একটি কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের সবক’টি রূপই। মানবদেহের অ্যান্টিবডিগুলি যা টেরই পাচ্ছে না। যখন পাচ্ছে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কোষের প্রাচীর ভেঙে তার ভিতরে ঢুকে পড়েছে ভাইরাস। আর তার দেহের ভিতরে থাকা ভাইরাল পার্টিক্‌লগুলোকে বের করে দিয়েছে। ফলে মানব দেহকোষের ভিতরে তখন জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি (‘রেপ্লিকেশন’)।’

এভাবে কোষ থেকে কোষে অনেকটা তরঙ্গের মতো ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস। যা মানবদেহের অ্যান্টিবডিগুলো টেরই পাচ্ছে না।

যখন তা টের পাচ্ছে মানবদেহের প্রহরী অ্যান্টিবডিগুলো ততক্ষণে আশ্রয়দাতার ‘ধন’ চুরি করে নিয়েছে ভাইরাস!
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

 


আরো সংবাদ


premium cement