০১ ডিসেম্বর ২০২০

করোনায় মৃতের ৭৩ শতাংশ পঞ্চাশোর্ধ্ব

এক দিনে মৃত্যু ৫৫, শনাক্ত ৩,০২৭; মোট মৃত্যু ২,১৫১, শনাক্ত ১,৬৮,৬৪৫; সর্বোচ্চ শনাক্ত ও মৃতু্যু ঢাকা বিভাগে
-

এক দিনে আরও ৫৫ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দুই হাজার ১৫১ জন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ২৭ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাতে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৮ হাজার ৬৪৫ জনে। মোট মৃতের এক হাজার ৭০৩ জন পুরুষ ও ৪৪৮ জন নারী। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চসংখ্যক। বয়স বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট মারা যাওয়াদের ৭৩ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের বেশি।
আইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক হাজার ৯৫৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৭৮ হাজার ১০২ জনে।
গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন চার হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৫ জুলাই তা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৪৬ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৯ জনের এবং বাড়িতে থাকা অবস্থায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এসেছেন। তাদের মধ্যে ২৭ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, দুইজন রাজশাহী বিভাগের, দুইজন সিলেট বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, দুইজন রংপুর বিভাগের, দুইজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন। এই ৫৫ জনের মধ্যে একজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ছয়জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ২১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৮ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ছয়জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, দুইজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
দেশে এ পর্যন্ত যে দুই হাজার ১৫১ জন করোনাভাইরাসে মারা গেছেন, তাদের মধ্যে এক হাজার ৭০৩ জন পুরুষ এবং ৪৪৮ জন নারী। তাদের মধ্যে ৯৪০ জনের বয়স ছিল ষাটের বেশি; আর ১৩ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ২৫ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৭১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ১৫৫ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩২৩ জন এবং ৫১ থেকে ৬০ বছরের ৬২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।
বুলেটিনে জানানো হয়, ঢাকার আহছানিয়া মিশন ক্যান্সার হাসপাতালে আরটিপিসিআর ল্যাব চালু হওয়ায় দেশে এখন ৭৪টি গবেষণাগারে কোভিড-১৯ এর নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়েছে। এ সব পরীক্ষাগারে গত এক দিনে ১৩ হাজার ১৭৩টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ ৭৩ হাজার ৪৮০টি নমুনা।
পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, মৃত্যু হার ১ দশমিক ২১ শতাংশ।
চট্টগ্রামে আরও ২৯৭ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৯৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের ২২৯ জনই নগরের এবং বাকি ৬৮ জন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার। এক হাজার ৩৬০টি নমুনা পরীক্ষা করে এ ফলাফল পাওয়া যায়। এই নিয়ে চট্টগ্রামে করোনা রোগী এখন ১০ হাজার ৪৭৭ জন। যেখানে শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নগরেই এই সংখ্যা এখন সাত হাজার ২৮৬ জনে পৌঁছে গেল। শেষ ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে তিনজন কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এসব তথ্য জানান।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৯৭ জনের কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন। এসময় সুস্থ হয়েছেন আরও ৪৯ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন তিনজন। চট্টগ্রামের সরকারি, বেসরকারি ছয়টি ল্যাবে মোট এক হাজার ৩৬০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়।
ল্যাব সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২০১ টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১ জনের, বিআইটিআইডি ল্যাবে ১৭৬ টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জনের, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ৫১৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১১ জনের, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২০৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১০৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়। এ দিন, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের কোন নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৪৪৭ জন। তার মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ২৮৬ এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজার ১৯১ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২৬৫ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ১৯৮জন।
চট্টগ্রামে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মায়ের মৃত্যু : চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবিরের মা রাজিয়া কবীর (৭৩) করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত ২৪ মার্চ থেকে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এবং তার মা রাজিয়া কবীর করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য দুইজনই ঢাকায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা থেকে সুস্থ হওয়ার পর গত ২৩ জুন কর্মস্থলে যোগ দেন হাসান শাহরিয়ার কবির।
খুলনায় করোনায় তিনজন এবং উপসর্গে একজনের মৃত্যু
খুলনা ব্যুরো জানান, খুলনার করোনায় আক্রান্ত হয়ে ক্রীড়া সংগঠকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর করোনার উপসর্গ নিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। করোনায় মৃত তিনজন হলেন খুলনা জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি ও প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট ক্লাব কপিলমুনি ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (কেকেএসপি) পরিচালক সরদার রফিকুল ইসলাম, বিএমএ খুলনা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও নগরীর বিশিষ্ট ডারমালোজিস্ট ডা. সেখ আখতারুজ্জামানের একমাত্র মেয়ে ঐশী বিনতে জামান (৩২) ও লকপুর গ্রুপ অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের ডিএমডি ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক আমজাদ হোসেনের মা নূরজাহান বেগম (১০৪)।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ও করোনা হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ ফরিদউদ্দিন আহমেদ জানান, সরদার রফিকুল ইসলাম গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি হন। এছাড়া তিনি ডায়াবেটিস, কিডনি ও হার্টের রোগে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।
ডা. সেখ আখতারুজ্জামানের মেয়ে ঐশী বিনতে জামানের গত ৩০ জুন করোনা শনাক্ত হলেও তার কোনো উপসর্গ ছিল না। অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৪ জুলাই রাতে তাকে করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, নগরীর ফর্টিস এসকর্টস কার্ডিয়াক ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় আমজাদ হোসেনের মা নূরজাহান বেগম মারা যান।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, কর বিভাগের কর্মকর্তা স,ম, মোকাররম হোসেন জ্বর, কাশিসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল মহানগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি রূপসা উপজেলার নৈহাটি এলাকার বাসিন্দা।
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে কুমেক হাসপাতালে প্যানেল মেয়রের ভাইসহ পাঁচজনের মৃত্যু
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনায় সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন খান জম্পির বড় ভাই মনির উদ্দিনসহ পাঁচজন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মঙ্গলবার হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: সাজেদা খাতুন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইসিইউতে মারা যাওয়াদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ছিলেন দুইজন, বাকি তিনজনের করোনা উপসর্গ ছিল।
ডা: সাজেদা খাতুন আরও জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা মনির উদ্দিন খান (৫০), সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসার এলাকার কাজী শহিদের মেয়ে সালমা (৩৬)। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, নগরীর জাকুনীপাড়া এলাকার কানু লাল (৭৩), নগরীর পূর্ব বাগিচাগাঁও এলাকার মৃত অরিণী বকসীর ছেলে স্বপন (৬৫) এবং আদর্শ সদর উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার মৃত সামছু উদ্দিনের মেয়ে হাসিনা (৫৭)।
এ দিকে হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: মুজিবুর রহমান জানান, বর্তমানে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১২৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে ১০ জন, করোনা ওয়ার্ডে ৬৭ জন ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৪৬ জন।
বগুড়ায় করোনায় যুবক ও উপসর্গ নিয়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় কোভিড-১৯ রোগে সংক্রমিত হয়ে নিজামউদ্দিন (২৯) নামের এক যুবক ও উপসর্গ নিয়ে দেলোয়ার হোসেন (৬৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিজামউদ্দিন (২৯) নামের ওই কসমেটিকস ব্যবসায়ী ও সোমবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ভোরে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।
বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আরএমও খায়রুল বাসার মোমিন জানান, নিজামউদ্দিন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলার বাসিন্দা। গত ৫ জুলাই টিএমএসএস এ নমুনা পরীক্ষায় তিনি কোভিড পজিটিভ শনাক্ত হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর সকাল ৯টায় মারা যান।
অন্যদিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে বসবাসকারী ইটভাটা ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মারা যান। তার নমুনা টেস্টের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায়নি। লাশ দু’টি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের উপযোগী করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
নতুন আক্রান্ত ৭১ জন : বগুড়ায় নতুন করে আরও ৭১ ব্যক্তি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে অনলাইন ব্রিফিংয়ে বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, জেলায় সরকারি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে (শজিমেক) ও বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে সোমবার (৬ জুলাই) মোট ৩৩১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে দু’টি শিশুসহ ৭১ জনের করোনা পজিটিভ আসে।
এর মধ্যে শজিমেকে পরীক্ষা করা ১৮৮টি নমুনার মধ্যে ৩৫টি পজিটিভ এবং টিএমএসএসের পিসিআর ল্যাবে ১৪৩ টি নমুনায় পজিটিভ আসে ৩৬ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৮ জন পুরুষ, ২১ জন নারী ও দু’টি শিশু রয়েছে। জেলার উপজেলাওয়ারী হিসাবে সর্বোচ্চ ৪২ জনের বাড়ি বগুড়া সদর উপজেলা এলাকায়। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে শেরপুরে ১১ জন, গাবতলীতে সাতজন, শিবগঞ্জে চারজন, সারিয়াকান্দিতে তিনজন, শাজাহানপুরে দুইজন, কাহালু ও সোনাতলা একজন করে কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে এক দিনে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩২৪ জন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলায় ১৩ জন, বেগমগঞ্জে চারজন, সোনাইমুড়িতে একজন, কোম্পানীগঞ্জে চারজন ও কবিরহাট ১১ জন রয়েছেন। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১ জনের।
গাংনীতে উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু
মেহেরপুর ও গাংনী সংবাদদাতা জানান, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে জোবাইদা খাতুন (৭২) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি গাংনী পশু হাসপাতাল পাড়ার মৃত আব্দুল গনীর স্ত্রী। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: রিয়াজুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ময়মনসিংহে আরও একজনের মৃত্যু
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে ধোবাউড়া উপজেলায় দেলোয়ার হোসেন নামে একজন মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় মারা গেছেন ২৪ জন। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় মহানগর ও সদরে ১৭ জন, মুক্তাগাছায় ছয়জন, ত্রিশালে তিনজন, ধোবাউড়ায় দুইজন, ঈশ্বরগঞ্জে দুইজন, ফুলবাড়িয়ায় দুইজন, ভালুকা, নান্দাইল, তারাকান্দা ও হালুয়াঘাটে একজন করে করোনা পজিটিভ হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৫২ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ২২৫ জন।
শৈলকুপায় উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু
শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে রাকিবুল ইসলাম (৩৭) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাকিবুল ইসলাম ঠাণ্ডা ও জ্বরে ভুগছিলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।
কালিগঞ্জে উপসর্গ নিয়ে মায়ের পর ছেলের মৃত্যু
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মায়ের পর মারা গেলেন ছেলে। মৃত ব্যক্তির নাম শেখ মাওলা বক্স (৪৭)। তিনি উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজারগ্রাম রহিমপুর গ্রামের শেখ আতার ছেলে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শেখ তৈয়েবুর রহমান জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাওলা বক্স। মঙ্গলবার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে সাতক্ষীরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ভর্তি না নেয়ায় পরে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে গতকাল সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানান, জয়পুরহাটে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিকসহ নতুন করে আরও ৫৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৫১১ জনে। সিভিল সার্জন ডা: সেলিম মিঞা গতকাল মঙ্গলবার সকালে এ তথ্য জানান। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় পাঠানো ৩৯২ জনের নমুনার পরীক্ষার ফলাফল আসে মঙ্গলবার সকালে। এর মধ্যে ৫৭ জনের রিপোর্ট পজিটিভ বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে জেলা আধুনিক হাসপাতালে ৯ জন, জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৯ জন, আক্কেলপুরে সাতজন, কালাইতে ২৫ জন ও পাঁচবিবি উপজেলায় সাতজন। যার মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী ও এক সাংবাদিক রয়েছেন বলে জানানো হয়।
জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জামালপুরে দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সদর উপজেলায় ২৫১ জন এবং দ্বিতীয় অবস্থানে ইসলামপুর উপজেলায় ১১৫ জন। এ দিকে সর্বশেষ প্রতিবেদনে ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু, ১৩ বছর বয়সী এক মেয়েসহ নতুন করে আরও আটজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে জামালপুর সদর উপজেলায় সাতজন ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় একজন রয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৪৯ জন। অন্যদিকে সুস্থ হয়েছে ৪৩২ জন এবং করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জামালপুর স্বাস্থ্য বিভাগ।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আটজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা হলো ৪২৬ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন ১০ জন। এ দিকে জেলার সাতটি উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১৩২ জন।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল আইসোলেশনে একজনের মৃত্যু
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহ জেলায় গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে আরও ২৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সকালে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাব থেকে আসা ৬০ জনের ফলাফলের মধ্যে ২৪ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩১৯ জনে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম এসব তথ্য জানিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে সদরে ১৩ জন, কালিগঞ্জে ৯ জন, শৈলকুপায় একজন ও মহেশপুরে একজন রয়েছেন।
এ দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে রাকিব হোসেন (৩৪) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। গতকাল সকালে তার মৃত্যু হয়। তিনি জেলার শৈলকুপা উপজেলার মিনগ্রামের খেলাফত মণ্ডলের ছেলে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা: অর্পূব কুমার জানান, শৈলকুপা উপজেলার মিনগ্রামের রাকিব হোসেন ঠাণ্ডা, কাশি, গলাব্যথা ও জ¦র নিয়ে গত সোমবার সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। গতকাল সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের চার উপজেলায় নতুন ১৫ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলার ১৩ উপজেলায় মোট করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৬৪৬ জন। গত সোমবার রাতে পাওয়া নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে চার উপজেলার ১৮৮ জনের নমুনার মধ্যে ১৫ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুইজন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ২৮ জনের। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪৪ জন। মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা এক হাজার ২৮৮ জন। মঙ্গলবার সকালে নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা: মুজিবুর রহমান। নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৯ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় তিনজন, ভৈরব উপজেলায় দুইজন ও নিকলী উপজেলায় একজন।
বাজিতপুরে মারা গেলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন হযরত আলী নামে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধ। তিনি বাজিতপুরের ভাগলপুরে চশমা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনের বাবা। তার স্থায়ী বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার আদমপুর গ্রামে। বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার আমতলীতে নতুন করে চিকিৎসক, মালী, বাবা- ছেলেসহ ছয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তের বাড়িগুলো লকডাউন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আনসার ভিডিপির উপজেলা কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুতের এক নারী অফিস সহকারীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: চিনময় হাওলাদার।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় গতকাল মঙ্গলবার পাঁচজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। উপজেলায় মোট রোগীর সংখ্যা ৩১ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন আটজন ও মারা গেছেন চারজন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মনিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


আরো সংবাদ