০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২১ অগ্রহায়ন ১৪২৯, ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

গ্রিস থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পথে বাংলাদেশী অভিবাসীর মৃত্যু

গ্রিস থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার পথে বাংলাদেশী অভিবাসীর মৃত্যু - ছবি : সংগৃহীত

গ্রিস থেকে দালালদের মাধ্যমে অনিয়মিত পথে ফ্রান্সে যাওয়ার সময় পথে এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে৷ তার লাশ দুর্গম অঞ্চলে ফেলে রেখে দালাল চক্র পালিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷

অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা মৃত্যুর মুখে পতিত হন

গ্রিস থেকে তিন লাখ টাকার বিনিময়েফ্রান্সে যাওয়ার সময় বাংলাদেশী যুবক তাপস সরকার প্রাণ হারান৷ টানা কয়েক দিন হাঁটার পর একপর্যায়ে তিনি ‘ব্রেইন স্ট্রোক' করেন বলে ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জানিয়েছেন তার বড় ভাই সুমন সরকার৷

বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের বাসিন্দা তাপস সরকার ২০১৯ সালে ওমান, তুরস্ক হয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা শুরু করেছিলেন৷ সর্বশেষ গ্রিসে কয়েক মাস থাকার পর একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে গ্রিস থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি৷ এজন্য দালাল চক্রকে বাংলাদেশের একটি ব্যাংকে দুই লাখ টাকা দেয়া হয়েছিল বলে জানান সুমন সরকার৷ আরো এক লাখ টাকা তাপস ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল৷ কিন্তু পথিমধ্যেই তার মৃত্যু হয়৷

গ্রিস প্রবাসী সাংবাদিক প্রদীপ কুমার সরকার ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, ‘গ্রিস থেকে গত ৩ আগস্ট তাপসসহ ৩০ জনকে আলবেনিয়া নিয়ে যায় দালাল চক্র৷ আলবেনিয়া সমতল সীমান্ত থেকে তীব্র গরমের মাঝে আট ঘণ্টায় উঁচু পাহাড় বেয়ে মন্টিনিগ্রো প্রবেশের সময় হঠাৎ পাহাড়ের মাঝে লুটে পড়েন তাপস৷'

‘এ সময় অনেক চেষ্টা করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে দালালসহ অন্য যাত্রীরা তাকে রেখেই চলে যান৷ তখন একটি ভিডিও করে গ্রিসে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে ঘটনাটি জানান তার সাথে থাকা দুই বন্ধু,' বলেন প্রদীপ কুমার সরকার৷

ইনফোমাইগ্রেন্টসের কাছে একাধিক অভিবাসী তাপস সরকারের ভিডিওটি পাঠিয়েছেন৷ এতে এক ব্যক্তিকে নিথর অবস্থায় একটি পাথরের সাথে হেলান দিয়ে বসে থাকা অবস্থায় দেখা গেছে৷ ভিডিওটিতে তাপসকে দেখা গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তার ভাই সুমন সরকার৷ তবে, ঠিক কোথায় ও কখন তার মৃত্যু হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেননি তিনি৷ শনিবার ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ জেনেছেন বলে সুনামগঞ্জ থেকে টেলিফোনে জানিয়েছেন সুমন৷

ইনফোমাইগ্রেন্টসকে তিনি বলেন, ‘তাপসের সাথে থাকা মানুষেরা জানিয়েছেন যে টানা তিনদিন হাঁটার সময় তাপস পানি ছাড়া আর কিছু খাননি৷ একপর্যায়ে তিনি তার এক বন্ধুকে বলেন যে তার শরীর কেমন যেন করছে৷'

‘এভাবে আরো একদিন হাঁটার পর হঠাৎ করে বড় একটি পাথরের কাছে বসে পড়েন তিনি৷ এরপর তিনি তার এক বন্ধুর কাছে পানি চান৷ কিন্তু পানি মুখে দেয়ার পরই তার এরকম অবস্থা হয়,' যোগ করেন সুমন সরকার৷

সাড়ে সাত লাখ টাকা ঋণ করে ভাইকে ইউরোপে পাঠানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি৷ এই ঘটনায় দালালচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে তাপসের পরিবার৷

ঝুঁকিপূর্ণ অনিয়মিত পথে ইউরোপে প্রবেশ করতে গিয়ে মাঝে মাঝে বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীরা মৃত্যুর মুখে পতিত হন৷ এর আগে গত মার্চে সার্বিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার সময় এক বাংলাদেশী মৃত্যুবরণ করেন৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ


premium cement