২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রাপ্য সম্মানটুকু চাই

-

অধিকার নয়, ঘরে-বাইরে নারীর প্রাপ্য সম্মানটুকু চাই। একুশ শতকে এসেও আজো নারীর পৃথিবী আলো নয় কালো, অন্ধকার অধিকারহীন একা পথ চলতে গিয়ে অঝোরে কাঁদে এ যেন অসম বিশ্ব বৈষম্যে ভরা। বৈশ্বায়নে বিশ্ব বদলে গেলেও নারী এখনো নিঝুম দ্বীপের বাসিন্দা। শিা, মেধা, মননে, গুণে, জ্ঞানে, প্রজ্ঞায়, রূপ-লাবণ্যে সামনের সারিতে কিন্তু দৃশ্যমান শক্তির সাথে পেরে উঠছে না কিছুতেই তাই তো যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তেমনটি এগোতে পারেনি। তার বহুবিধ কারণ নারীকে প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে ধরার ধুলায় স্বগোত্রীয় গোষ্ঠীর সাথে, পেছন থেকে আঁচল টেনে ধরে কলকাঠি নাড়ে বিপরীত লিঙ্গের কেউ, যারা নারীকে মানুষ ভাবে না এখনো এসব হিংস্র মানুষগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি জন্ম থেকে জন্মান্তরে লেগেই আছে।
নারীর জন্য আজো সমাজব্যবস্থা সেকেলে বদলায়নি একটুও তার বড় কারণ ধর্ম থেকে দূরে। ওপরে দেখায় কিছুটা ঝকঝকে ভেতরকার মনোবৃত্তি একদম একপেশে। সুযোগ পেলে নারী পারে, সব পারে। যেমন জনপদে শান্তি ফেরাতে কাঁধে বহন করে ভারী অস্ত্র আবার খোঁপার বাঁধন আলগা করে ভালোবাসা বিলাতে পারে সবার তরে। একটি কথা অনস্বীকার্য নারীর রয়েছে আল্লাহ-প্রদত্ত কোমল মন, উর্বর মনন, দেহকাঠামো আলাদা, চিন্তাসত্তাও ভিন্ন। তার পরেও নারী চাইলে জগত জয় করতে পারে। বিচরণ করতে পারে বিশ্বব্যাপী উড়তে পারে নীল ছোঁয়া দিগন্তে। এ সত্য স্বীকার করে না আমাদের সমাজপতি। চোখ মেলে তাকালে দেখা যায় একজন কর্মজীবী নারী কত ঝড়ঝাপ্টা, কুরুচি, অযাচিত মন্তব্যের মুখোমুখি হয়ে কর্মস্থলে কাজ করে তা বলে শেষ করা যাবে না। কতশত অসুবিধা ভোগ করে অফিসপাড়া, আদালত চত্বরে রীতিমতো যুদ্ধ করে স্রোতের উল্টো জলে চালিয়ে যায় তরি। বলা বাহুল্য, বিনিময়ে তার মূল্যায়ন কথার খোঁচা ঘরে-বাইরে কতটুকুন! নারী শুধু বাইরেই নয়, আপন ঘরেও কোণঠাসা। সংসার-সন্তানাদি লালন, ধোয়ামোছা থেকে শুরু করে ঘরের পুরো কাজ নারী এক হাতে একা করে দিন শেষে সব সামলে তার কপালে মন্দ ছাড়া কী বা জোটে! পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় এমন হতশ্রী চিত্র প্রতিটি ঘরে ঘরে। সব থেকেও যার কিছু নেই তিনি নারী। কিশোরীকাল কাটে বাবার ভিটায়, যৌবনে স্বামীর সংসার, বৃদ্ধ বয়সে হেলা-অবহেলায় ছেলের ঘরÑ আবার কারো ভাগ্যে জোটে বৃদ্ধাশ্রম।
সবুজ আহমেদ


আরো সংবাদ