২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮
ভিন দেশ

স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে যথাযথ পরিশ্রম : সলেডেড ও’ব্রিয়েন

-


সলেডেড ও’ব্রিয়েন। পুরো নাম মারিয়া ডে লা সলেডেড তেরেসা ও’ব্রিয়েন। তিনি এখন পরিচিত সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক হিসেবে। তিনি তার ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিক হিসেবে। তবে কাজটি ছিল মেডিক্যাল রিপোর্টারের। বিশ্বের নানা সংবাদ সংস্থায় উপস্থাপনা করারও প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সব ধরনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উঠে গেছেন সফলতার শিখরে।
এত কাজ আর সফলতা দেখালেও মানুষ তাকে বেশি চিনে সাংবাদিক হিসেবেই। আলজাজিরাসহ আরো অনেক সংবাদ সংস্থায় কাজ করেছেন সংবাদ পরিবেশক, সংবাদ পাঠক, উপস্থাপকসহ আরো অনেক ধরনের দায়িত্ব নিয়ে। এক যুগের বেশি এসব কাজ সফলতার সাথে করার কারণে বিভিন্ন সময় সম্মানজনক পুরস্কারও পেয়েছেন।
সলেডেড ও’ব্রিয়েন বলেন, সাংবাদিকতাই আমার বেশি ভালো লাগে। একটি টেলিভিশনে চাকরি করার জন্য আমি উঠে পড়ে লাগি। এ জন্য প্রচুর সময় দিতে থাকি। এতে সফলও হই। এতে করে আপনারা বুঝতে পারবেন, সাংবাদিকতা আমার কাছে কত বেশি ভালো লাগে। এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পেশাও।
সলেডেড ও’ব্রিয়েনের জন্ম নিউ ইয়র্কের এসটি জেমসে। বেড়েও ওঠেন এসটি (সেন্ট) জেমসে। প্রায় ১৪ বছর বয়সে মেরিল্যান্ডের অবলেট সিস্টারস অব এভিডেন্সের সৌজন্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার বাবা-মা উভয়ই বহিরাগত। মা কিউবা থেকে এবং বাবা অস্ট্রেলিয়া থেকে। সলেডেড স্মিথটাউন হাইস্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৮৪ সালে। সানি স্টানি ব্রুক এবং স্টেলায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে অধ্যাপনা করেন। স্মিথটাউন হাইস্কুল ওয়েস্টে ফ্রান্স ও ইংরেজি বিষয়েরও শিক্ষক ছিলেন। হার্ভার্ড রেডিক্লিফ কলেজে ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন। অধ্যাপনা করেন ইংরেজি ও আমেরিকান সাহিত্যে। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি লাভ করেন ২০০০ সালে।
২০১৩ সালে স্টারফিশ মিডিয়া গ্রুপ নামে একটি বহুমুখী মিডিয়া হাউজ প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্বামীও এ কাজে তাকে নানাভাবে সাহায্য করেন। সলেডেড এ প্রতিষ্ঠানটির সিইও এবং চেয়ারপারসন।
গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে নারীদের সফলভাবে তাদের পরিবারকে দেখভাল করার কথাও বলেন তিনি। তিনি বলেন, পরিবারের সন্তানদের দেখাশোনা, পড়ালেখা ইত্যাদির বেশির ভাগ দায়িত্ব থাকে মা তথা নারীদের। নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার ব্যাপারেও তাদের নানা দিকনির্দেশনা বা পরামর্শ দেন। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা সলেডেড ও’ব্রিয়েন বলেন, সকালে স্বামী ও সন্তানদের সব প্রয়োজন মেটাতে হয় আমার। এর মধ্যে আবার একটি ইয়োগা ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হয়। নিজেরও কত কাজ থাকে। এসব সেরে বেশ সকালেই কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়তে হয় আমাকে।
তার গড়া স্টারফিশ মিডিয়া গ্রুপে শিক্ষা দেয়া হয়, কিভাবে নারীরা ব্যবসায় সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। এখানে অল্প আয়ের নারীদের নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা হয় এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে। যেসব নারী ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা উদ্যোক্তা হতে চান তাদের ব্যাপারে তিনি বলেন, নিজেকে বস বা উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সংশ্লিষ্টপর্যায়ের মানুষের কাছে যেতে হবে। সব ধরনের সমস্যা ও সফলতার কথা তাদের জানাতে হবে। আবার হুট করে কর্মবিমুখ হলে চলবে না। এ ব্যাপারে ভেবেচিন্তে নিতে হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সাথে নানা বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করতে হবে, তবেই সমাধানের পথ পাওয়া যেতে পারে। মোট কথা, এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট খাত বা পেশার মানুষের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। তিনি বলেন, এসব ব্যাপারে আমিও অনেকের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছি এবং আশানুরূপ ফল পেয়েছি। একটি পর্যায়ে সিইও সলেডেড বলেন, অনেকের ধারণা, সাফল্যের মূলে রয়েছে বেশি পরিশ্রম। আসলে তা নয়। যে সমস্যার সমাধান নেই তা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়া ঠিক হবে না। এসব ব্যাপারে তিনি টিভিতে একটি শো করছেন, যার নাম ‘ম্যাটার অব ফ্যাক্ট’। এর দর্শক সংখ্যাও প্রচুর। তিনি ও তার স্বামী ‘পাওয়ারফুল’ নামে একটি ফাউন্ডেশন দেখভাল করছেন। এই ফাউন্ডেশন মেয়েদের কলেজে যেতে উৎসাহিত করে। এটা-সেটা দিয়ে সহযোগিতাও করে থাকে অনেককে। এসব করার কারণে তিনি সবার কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। সফলতার ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, মানুষের মনে বড় হওয়ার স্বপ্ন থাকতে হবে। আর এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে যথাযথ পরিশ্রম।

 


আরো সংবাদ