২১ অক্টোবর ২০১৯

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে মার্কিন সহায়তা কামনা

-

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ জন্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন। চিঠির ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে ভাসানচরে স্থানান্তরে সহযোগিতা না করায় জাতিসঙ্ঘের সংস্থাগুলোর ওপর বেজায় চটেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জাতিসঙ্ঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক অ্যান্তনিও ভিতোরিনো এবং জাতিসঙ্ঘের মানবিক ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাক্ষাৎ করতে এলে ড. মোমেন বলেন, ‘আপনাদের এখানে কাজ নাই, মিয়ানমার যান। আপনারা মিয়ানমারকে বোঝান, যাতে তারা রোহিঙ্গাদের নিয়ে যায়। রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করেন।’
অবশ্য এরপর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন কর্লিস বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগকে আমরা সমর্থন বা বিরোধিতা কোনোটাই করছি না। এ ব্যাপারে সরকারের সাথে আরো বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই। ভাসানচর নিয়ে সরকারের উদ্যোগটি আমরা আরো ভালোভাবে বুঝতে চাই।’
২০১৭ সালসহ বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতার শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা এখন নানা কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় অধিবাসী ও সরকারের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মাদকদ্রব্য বিক্রি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়া, ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া, সাগর পথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার প্রবণতা এগুলোর অন্যতম।
পম্পেওকে লেখা চিঠিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, মিয়ানমারের সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে বাংলাদেশকে চড়া মাশুল গুনতে হচ্ছে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি পুরো বিশ্বের জন্য একটি সমস্যা। এর সমাধানেও বিশ্বকে সাড়া দিতে হবে। রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা ও রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেন, রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য এই চরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে কক্সবাজারে গাদাগাদি করে থাকা রোহিঙ্গারা কিছুটা পরিত্রাণ পাবে। কক্সবাজারের চেয়ে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য থাকার ভালো ব্যবস্থা থাকবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু রাষ্ট্র জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরসহ অনেক দেশ মিয়ানামারের সাথে ব্যাপক ব্যবসায়-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ করছে। এ সব বন্ধু রাষ্ট্রের সহায়তায় মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকেরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পেলে জাতিসঙ্ঘ ও পশ্চিমা দেশগুলো ভাসানচর ইস্যুতে বিরোধিতা থেকে সরে আসতে পারে।
সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ড. মোমেন বলেন, ভাসানচরে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা খরচে রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করেছে সরকার। জাতিসঙ্ঘসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তরে বাধা দিচ্ছে। এ অবস্থায় আগামী বর্ষায় কক্সবাজারে থাকা রোহিঙ্গারা ভূমিধসসহ অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারালে তার জন্য বাংলাদেশ নয়, জাতিসঙ্ঘসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো দায়ী থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জোর করে কাউকে ভাসানচরে পাঠাবো না। যারা স্বেচ্ছায় যাবে তাদের জন্য একটি ভালো ব্যবস্থা থাকবে। আমরা নিজেদের অর্থ ব্যয়ে ভাসানচরকে বসবাস উপযোগী করে তুলেছি। ওখানে গেলে রোহিঙ্গারা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারবে। তারা মাছ ধরতে পারবে, গরু পালতে পারবে।


আরো সংবাদ




portugal golden visa
paykwik