২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

নাম বদলে যাচ্ছে দেশটির

মেসিডোনিয়া হয়ে যাবে নর্থ মেসিডোনিয়া -

বৃহৎ প্রতিবেশী দেশ গ্রিসের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত দেশের নাম পাল্টাতে সম্মত হয়েছে মেসিডোনিয়া। অনেকটা বাধ্য হয়েই নাম পাল্টাতে সম্মত হয়েছে দক্ষিণ ইউরোপের ছোট্টদেশটি। মেসিডোনিয়ার পার্লামেন্ট শুক্রবার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়ে একটি বিল পাস করেছে। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতিবেশী গ্রিসের সাথে বিরোধ মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে ন্যাটো জোটের সদস্য পদ পাওয়ার পথেও আর কোনা বাধা থাকবে না।

‘মেসিডোনিয়া’ নাম বদলে দেশটির নতুন নাম হবে রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া। অফিসিয়ালি পুরো নাম রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া।

মেসিডোনিয়াকে এই বিলে রাজি করাতে অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছে ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপ্রাস। যদিও মেসিডোনিয়ার বিরোধী দল কঠোর বিরোধীতা করছে দেশের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে। বিরোধীতার অংশ হিসেবে এদিন বিরোধী দলের ৩৯ এমপি পার্লামেন্টে আসেননি। তবে সরকারি দলের ৮১ এমপির সবাই পক্ষে ভোট দেয়ায় বিলটি পাস হতে সমস্যা হয়নি।

মেসিডোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জোরান জায়েভ পার্লামেন্টে এমপিদের উদ্দেশ্যে বলেন, কঠিন একটি কাজ এটি, তবে দেশটির জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী। গ্রিসের সাথে এই চুক্তি না করলে আমরা ন্যাটো ও ইইউ জোটের সদস্য হতে পারবো না। পার্লামেন্টে বিষয়টি পাস হওয়ার পর জায়েভকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গ্রিক প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাস।

দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ গ্রিসের সাথে নাম নিয়ে বিরোধ চলছে চারদিকে ভূখণ্ড বেষ্টিত ছোট্ট দেশ মেসিডোনিয়ার। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় একটি এলাকার নাম মেসিডোনিয়া। এই অঞ্চলের উত্তরে অবস্থিত স্বার্বভৌম মেসিডোনিয়া দেশটি। এবার সেটির নাম ‘নর্থ মেসিডোনিয়া’ হয়ে যাবে। মূল মেসিডোনিয়া থাকবে গ্রিসের প্রাচীন অঞ্চলটির নাম। দেশটির নাম মেসিডোনিয়া না রাখার দাবি সব সময়ই ছিলো গ্রিকদের। এটি নিয়ে সীমান্তের দুই পাড়ের লোকদের মধ্যে অনেক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। গ্রিকদের দাবি ‘মেসিডোনিয়া’ নামটি শুধুই তাদের। অনেক উত্তেজনার পর গত বছরের মাঝামাঝিতে মেসিডোনিয়ার সরকার রাজি হয় নাম পাল্টাতে। শুক্রবার যেটি পাস হলো পার্লামেন্টে।

এই বিরোধের জের ধরেই এতদিন মেসিডোনিয়ার ন্যাটো জোট ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেয়ার বিরোধীতা করে আসছে গ্রিস। যে কারণে ইউরোপের দেশ হয়েও গুরুত্বপূর্ণ দুটি জোটে সদস্য হতে পারেনি দেশটি। ন্যাটো মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ এই চুক্তি পাসের পর আশা প্রকাশ করেছেন, এবার গ্রিস আর ভেটো দেবে না এ বিষয়ে। ওই অঞ্চলে রাশিয়ার প্রভাব কমাতে মেসিডোনিয়ার ন্যাটো জোটে যোগ দেয়ার বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে পশ্চিমারা। যে কারণে তারা মেসিডোনিয়াকে রাজি করাতে ব্যাপক চেষ্টা করেছে।


আরো সংবাদ




gebze evden eve nakliyat Paykasa buy Instagram likes Paykwik Hesaplı Krediler Hızlı Krediler paykwik bozdurma tubidy