২৭ জুন ২০১৯

ঢাবিতে ছাত্রলীগের দুইপক্ষ মুখোমুখি : বৈশাখী কনসার্টের অনুমতি বাতিল

হামলার পর কনাসার্টস্থলে থাকা বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় - সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে চলছিল বৈশাখী কনসার্টের আয়োজন, কিন্তু শনিবার ভোররাতে সেখানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। কনসার্টস্থলে ছাত্রলীগের এক পক্ষের হামলা-অগ্নিসংযোগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের আয়োজনে বৈশাখী কনসার্টের অনুমতি বাতিল করেছে প্রশাসন।

শনিবার রাত ৯টার দিকে ঢাবি ভিসির দফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণবশত পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট-এর অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

এদিকে কনসার্টের অনুমতি বাতিলের কারণ জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বলেন,‘এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো মূল প্রোগ্রাম নয়। এটি ছাত্রদের প্রোগ্রাম। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের যে কোনো সময় কনসার্টের অনুমতি বাতিল করার এখতিয়ার রয়েছে।’

কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ বরণে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এই কনসার্টের আয়োজন করে। এতে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও ফিড ব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডের সঙ্গীত পরিবেশনের কথা ছিল।

এই কনসার্টের মঞ্চ তৈরিসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে শনিবার ভোররাতে ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের একটি গ্রুপ সেখানে মঞ্চ ভাংচুর এবং বিভিন্ন উপকরণে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, কনসার্টের মূল মঞ্চ এলোমেলো, পাশে মেলার স্টলগুলো ভাংচুর ও কিছু স্টলের তাঁবু উল্টে আছে, বেশ কয়েকটি ফ্রিজ ভেঙে পড়ে আছে। এছাড়া ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, এর বেশিরভাগ আবার আগুনে পোড়া।

কোমল পানীয় ব্রান্ড মোজোর মার্কেটিং বিভাগের অপারেশন হেড (ব্র্যান্ড) আজম বিন তারেক জানান, রাত ১টার পর এই হামলা হয়। ২০-২৫ জনের একটি দল এসে গণ্ডগোল বাঁধাতে গেলে আমি তাদের ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করি। এর পাঁচ মিনিটের মধ্যে আরও ১০০-১৫০ জন এসে আমাকেসহ আমার ওয়ার্কারদের বের করে দেয়। ১০-১২ মিনিটের মধ্যে পুরো জায়গায় ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে চলে যায়।’

হামলায় তাদের ২০-২৫ লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয় বলে জানান মোজোর এই কর্মকর্তা।

হামলার পরে রাতেই হাজার খানেক নেতা-কর্মী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন। এসময় তারা মোজো কর্তৃপক্ষকে আবারও কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে বলেন।

পাশাপাশি এই হামলার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারীদের দায়ী করেন রাব্বানী। তিনি বলেন, তিনি (শোভন) ডাকসু নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে ডাকসু ও ছাত্রলীগের আয়োজনে এত বড় প্রোগ্রামকে বানচাল করার জন্য তার (শোভন) অনুসারীদের দ্বারা এসব কাজ ঘটিয়েছেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে শোভনের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়।

এদিকে রাব্বানীর অভিযোগের বিষয়ে শোভনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা বলেন, সংগঠনের এত বড় আয়োজন নিয়ে সভাপতি শোভনকে কিছু জানানো হয়নি।

তাদের একজন বলেন,‘আয়োজনকে ঘিরে কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্য করেছেন ছাত্রলীগের অন্য তিন শীর্ষ নেতা। এই কারণে শোভনের অনুসারীরা এই অগ্নিকাণ্ড ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটায়।’

নিরাপত্তাজনিত কারণে অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রক্টর গোলাম রাব্বানী বলেন,‘একদম না। ছাত্রদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক দিক বিবেচনা করেই এই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।’


আরো সংবাদ

আগামীতে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ : এলজিআরডি মন্ত্রী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শক্তিশালী করলেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব সুপ্রিম কোর্টের ডিএজি ও এএজিদের পদত্যাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে প্রতীকী অনশন আজ প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে চান অদম্য প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা পূর্ণ তদন্তের আবেদন শুনতে হেগের আদালতে বেঞ্চ নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান বিশ্বকাপে বাবরের দারুণ সেঞ্চুরি দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের আভাস দিচ্ছে পাকিস্তান বিন্দুমাত্র সুযোগ থাকলেও ভারতের বিপক্ষে নামবো : মাহমুদউল্লাহ নির্যাতন বন্ধে সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

সকল