১৮ নভেম্বর ২০১৮

মাশরাফির কাছ থেকে শিখতে বললেন ওয়ালশ

মাশরাফি ও কোর্টনি ওয়ালশ। ছবি - সংগৃহীত

বাংলাদেশের তরুণ পেস বোলারদের উপর আরো বেশি ভরসা করা যাবে যদি তাদের সেরাটা বের করে আনা যায়, বলছিলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দুই বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তির চোখে এই দুই বছরে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে খুব একটা এগোয়নি।

২০১৬ সালে তিনি বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে যোগ দেন। তবে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে উন্নতি দেখছেন তিনি। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অভিজ্ঞ মাশরাফি মুর্তজার মতো এক পেসারকে দলে পেয়ে দারুণ খুশি ওয়ালশ। পেস বোলিং কোচের ধারণা, সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমানও।

ওয়ালশ স্বীকার করেছেন এখনো পেস বোলিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, এখনো পেস বোলারদের নিয়ে কাজ চলছে। বেশ ক’জন ভালো তরুণ পেসার উঠে আসছে। তাদেরকে আরো সুযোগ দেয়ার দরকার না হলে বুঝা যাবে না তাদের মধ্যে কী আছে। আপনি যত বেশি খেলবেন, আপনার শেখার সুযোগটা তত বেশি হবে। তরুণ বোলারদের আরো বেশি খেলতে দেয়া উচিত।

ওয়ালশ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা টেস্ট ক্রিকেট খুব বেশি পাই না। কিছু উন্নতি হয়েছে। আগেও বলেছি, আমার দায়িত্ব শেষে বাংলাদেশের পেস বোলারদের আমি খুব ভালো একটি অবস্থানে দেখতে চাই।’

দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই ওয়ালশ দেখছেন, পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাশরাফি। কাছ থেকে দেখে দেশের অন্য পেসারদের সঙ্গে মাশরাফির পার্থক্য ভালোভাবেই চোখে পড়েছে ওয়ালশের।

তিনি বলেন, ‘মাশরাফির অভিজ্ঞতা ও ওর স্কিলসেট অন্যদের থেকে অনেক আলাদা। আরও ভালো। বরাবরই সে দারুণ এক পেস বোলার। ইনজুরি না থাকলে এখনও হয়তো সে টেস্ট ক্রিকেট খেলত। কিন্তু ইনজুরির কারণে সে সব সংস্করণ খেলতে পারছে না। অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের জন্য যে খুবই উঁচুমানের পেস বোলার।

ওয়ালশ বলেন, ‘নিজের সামর্থ্যরে পুরোটাই সে দিতে চায়। তরুণদেরও এই ক্ষুধা থাকতে হবে। আমরা শুধু আড়াল থেকে কাজ করতে পারি। কিন্তু তরুণদের মাঠে নেমে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করতে হবে। ম্যাশ তার পারফরম্যান্সকে আত্মসম্মান হিসেবে দেখে। তরুণদেরও উচিত মাশরাফির কাছ থেকে শেখা।

হিথ স্ট্রিকের সময়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিং গড় ছিল ৪৪ দশমিক ৭৩ আর উইকেট প্রতি বল খরচ হয়েছে ৯০ দশমিক ৮ বল। ওয়ালশের সময়ে স্টাইক রেট কিছুটা ভালো হলেও (৮৭ দশমিক ৫) কিন্তু গড় বোলিং খারাপ হয়ে ৫৩ দশমিক ৬৬ হয়েছে।  

 

আরো দেখুন : সাকিবকে নিয়ে কেন এতো জোরাজুরি?

দুই দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ফিটনেস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান৷ ওই সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজেই দাবি করেছেন, তিনি মাত্র ২০-৩০ ভাগ ফিট৷ তাহলে এশিয়া কাপে কীভাবে খেলবেন তিনি?

সবশেষ ওয়েষ্ট ইন্ডিজ সফরে যেতে চাননি সাকিব৷ সেখানেও অনেকটা জোর করে তাকে পাঠানো হয়৷ হাতের আঙুলে যে ইনজুরি আছে, সেটাতে ব্যাথানাশক ইনজেকশন দিয়ে তাকে খেলতে হয়েছিল৷ এবারও একইভাবে তাকে খেলতে হবে৷ এশিয়া কাপের পরই তিনি অপারেশন করাবেন৷ সেভাবেই বিসিবি থেকে নির্দেশনা এসেছে৷ এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, সাকিবকে নিয়ে এতো জোরাজুরি কেন? তার কাছ থেকে সাময়িক সার্ভিসের চেয়ে তো দীর্ঘমেয়াদি সার্ভিস পাওয়াটাই জরুরি৷


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি)'র মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস সাকিবের ফিটনেস সম্পর্কে ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘আমরা যতদূর জানি, সাকিব ওর ইনজুরি নিয়ে কোনো কথা বলেনি৷ ও যেটা বলেছে সেটা হচ্ছে, তার ফিটনেস, মানে ও যেহেতু অনেকদিন খেলার মধ্যে নেই, তাই ওর শারীরিক ফিটনেসের কথা বলছে৷ সুতরাং সে দুবাই যাবে৷ ৯ সেপ্টেম্বর মাশরাফিদের পৌঁছানোর আগেই সাকিবের দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে৷ আর তার বিকল্প হিসেবে তো মুমিনুলও যাচ্ছে৷ দলটা এখন ১৬ সদস্যের হচ্ছে৷’’

জানা গেছে, এই বিতর্কের মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিসিবিকে ই-মেইল পাঠিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সাকিব৷ সেখানে তিনি দাবি করেছেন, নিজের ফিটনেস নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও ব্যাটিং-বোলিং করতে পারবেন না- এমন কথা তিনি বলেননি৷ এমনকি সাক্ষাৎকারটিকেও বলেছেন ‘হালকা কথোপকথন’৷

গত জানুয়ারিতে পাওয়া আঙুলের ব্যথা বয়ে বেড়াচ্ছেন সাকিব৷ আঙুলে ব্যথানাশক ইনজেকশন নিয়ে আফগান সিরিজ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে খেলেছেন তিনি৷ তারপর দেশে ফিরে এশিয়া কাপের আগেই অস্ত্রোপচার করানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের চাওয়া অনুযায়ী এশিয়া কাপ খেলেই অস্ত্রোপচারে সম্মত হয়েছেন বাংলাদেশের টেষ্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক৷ অস্ত্রোপচার ইস্যু সেখানেই সমাধান হয়ে গিয়েছিল৷ কিন্তু ফিটনেস নিয়ে তার মন্তব্যে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক৷

সাকিবের ফিটনেসের কথা ভেবে অবশ্য এর আগেই এশিয়া কাপের ১৫ সদস্যের দলের সাথে ১৬তম সদস্য হিসেবে যোগ করা হয় মুমিনুল হককে৷ অর্থাৎ, সাকিব দলের সাথে যাচ্ছেন, থাকবেন মুমিনুলও৷ জালাল ইউনুস বলেন, ‘‘সাকিব যদি এশিয়া কাপে যেতে চায়, আমরা বাধা দেব না৷ কিন্তু ২০-৩০ ভাগ ফিট মানে সে খেলার মতো অবস্থায় নেই, আনফিট৷ তার খেলা উচিত হবে না৷ দলের সাথে তাই ১৬তম সদস্য হিসেবে মুমিনুল হককে পাঠানো হচ্ছে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘সাকিব আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে তাকে খেলতে বাধ্য করা হবে না৷ আসলে সাকিব দলের সাথে থাকলে ৪০ ভাগ মনোবল এমনিতেই প্লেয়ারদের বেড়ে যায়৷’’

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জাতীয় দলের কোচ স্টিভ রোডস দাবি করেন, সাকিবের কথাটাই ছিল ভুল, ‘‘আমি বিশ্বাস করি না সে মাত্র ২০-৩০ ভাগ ফিট৷ আমার মনে হয় ও এর চেয়েও অনেক বেশি ফিট৷’’

কোচের এমন ভাবনার পেছনে কাজ করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সাকিবের পারফরম্যান্স৷ এই চোট নিয়েই তো জুলাই-আগষ্টের সফরে দারুণ খেলে এলেন সাকিব! দলের সাথে তার অনুশীলন না করাতেও কোনো সমস্যা দেখছেন না কোচ৷ জালাল ইউসুন বলেন, ‘‘সাকিবের সাথে কোচের কথা হয়েছে, সে কারণে কোচ এসব বলেছেন৷’’

ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘২০-৩০ ভাগ ফিট একজন খেলোয়ারকে কিভাবে দলে রাখা হলো সেটাই তো এখন বড় বিস্ময়৷ তার সাথে কী তাহলে আগে বোর্ড থেকে কথা বলা হয়নি৷ আর সাকিবের এই তথ্য আমারও বিশ্বাস হয় না৷ একজন প্লেয়ার ২০-৩০ ভাগ ফিট থাকার অর্থ তাকে হাসপাতালে থাকার মতো অবস্থা৷ সে কারণেই বলছি, সাকিব ঠিক বলেননি৷’’

সাকিব বারবারই খেলতে চাচ্ছেন না৷ আগের টুর্নামেন্টও খেলতে চাননি৷ তাহলে তাকে জোর করা হচ্ছে কেন? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আসলে সাকিব আমাদের দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার৷ তিনি না খেললে দু'জনকে খেলাতে হয়৷ তবে আমি মনে করি, তিনি খেলতে না চাইলে জোর করে খেলানো উচিত না৷ তার কাছ থেকে দেশের এখনো অনেক কিছু পাওয়ার আছে৷’’

এ নিয়ে কোনো ধরনের প্র্যাকটিস না করেই তিনটি টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছেন সাকিব? কেন তাকে এই সুযোগ বারবার দেয়া হচ্ছে?

জবাবে দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘প্র্যাকটিস না করা সাকিবের সমস্যা৷ এতে তারই ক্ষতি৷ এভাবে চলতে থাকলে তিনি নিজেই এক সময় আর খেলতে পারবেন না৷ আসলে শেষ কথা হলো, তিনি আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্লেয়ার, তিনি অনেকদিন খেলুন, এটা আমরাও চাই৷’’

সাকিব পুরোপুরি ফিট নন, এটাও মানছেন কোচ৷ তিনি বলেছেন, ‘‘সে পুরোপুরি ফিট নয়৷ কিন্তু ক্যারিবিয়ানে সে যেমন খেলেছে তেমনটাই যদি খেলতে পারে, তাহলে সেটি বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্পদে পরিণত হবে৷ এই ছেলেটি অপূর্ব একজন ক্রিকেটার৷ যদি সাকিব ৬০-৭০ ভাগ ফিট হয়ে থাকে, তাহলেই তার কাছ থেকে দল অনেক কিছুই পেয়ে যাবে৷’’


আরো সংবাদ