২৫ আগস্ট ২০১৯

বরগুনায় রিফাত হত্যা : দেড় মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি এজাহারভুক্ত চার আসামি

-

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হাইকোর্টে জামিন পাননি। জামিন আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল দিতে চাইলে মিন্নির আইনজীবীরা তাতে সম্মত হননি। পরে আদালত জামিন আবেদন ফেরত দেন।
পরে জেড আই খান পান্না সাংবাদিকদের বলেন, আমরা মর্মাহত। এখন অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি নিয়ে যাবো।

এদিকে ঘটনার দেড় মাস পারও এই মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিকে এখনও গ্রেপ্তারে পুলিশের কোনো তৎপরতা নেই। এদিকে আয়শার বাবা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি শুনছি, আমার মেয়েকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়ার জন্য পুলিশ জোর তৎপরতা শুরু করেছে। আমি সব সময় বলে আসছি, প্রভাবশালীকে বাঁচাতেই আমার নিরীহ মেয়েকে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করার পর থেকে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছি। প্রাণের ভয়ে এখন ঢাকায় চলে এসেছি।’

বরগুনার একাধিক আইনজীবীও একই কথা বলছেন। তারা বলেন, রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ১২ জন। আর সন্দেহভাজন আসামি ৪ থেকে ৫ জন। প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড গত ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ মামলায় নয়ন বন্ডের বাইরে এজাহারভুক্ত ৭ আসামি এবং আয়শাসহ সন্দেহভাজন ৮ আসামি মিলিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৫ জন। হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকাকে প্রধান আসামি করা হলে হত্যার অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তাদের মতে, ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী আয়শাকে হত্যা-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মামলার ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে। এখন তড়িঘড়ি করে অভিযোগপত্র দিলে বিচারের ক্ষেত্রে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আইনজীবীদের মত হলো, মামলাটি খুবই স্পর্শকাতর। তাই সময় নিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আলামত বিচার-বিশ্লেষণ করে ধীরে সুস্থে অভিযোগপত্র তৈরি করা উচিত। তা ছাড়া ১০ সাক্ষীর মধ্যে আয়শা ছাড়া আর কোনো প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী নেই। বাকি ৯ জনই মামলার বাদী আবদুল হালিম শরীফের আত্মীয় ও একই এলাকার বাসিন্দা। তারা কেউই ঘটনা নিজের চোখে দেখেননি। তাই আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আয়শার আইনজীবী ও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

রিফাত হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম সাক্ষী মিন্নিকে পুলিশ গত ১৬ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদ করে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৯টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরদিন ১৭ জুলাই মিন্নিকে আদালতের হাজির করে রিমান্ড চাইলে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একদিন পর ১৯ জুলাই মিন্নি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভিযোগ করেন, মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।


আরো সংবাদ

জামালপুরের ডিসির নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও ভাইরাল, ডিসির অস্বীকার (২৮৪৮১)কাশ্মিরে ব্যাপক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ (১৫২৬৫)কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নোবেল (১৪৮৭৭)কাশ্মির প্রশ্নে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে ধাঁধায় ভারত! (১৪৩৫০)৭০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ভারতের অর্থনীতি (১২৩৭৩)নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ : দুঘর্টনার নেপথ্যে মোটর সাইকেল! (১১৪৭৩)নিজের দেশেই বিদেশী ঘোষিত হলেন বিএসএফ অফিসার মিজান (১১০৪৫)সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশী নিহত (১০৫১৬)কাশ্মির সীমান্তে পাক বাহিনীর গুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত (৯৫০৯)চুয়াডাঙ্গায় মধ্যরাতে কিশোরীকে অপহরণচেষ্টা, মামাকে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতক নিহত (৯৩৯৫)



mp3 indir bedava internet