১৪ নভেম্বর ২০১৮

দুমকিতে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম

-

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ এসব স্কুলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশুনা চালানো হচ্ছে। এতে স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে এবং ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষাকার্যক্রম।
এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানালেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানায়, এ উপজেলায় ৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ২৭ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও এর অবকাঠামো।
বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ৭নং মধ্য পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং পাঙ্গাশিয়া নেছারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১নং লেবুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৭নং পশ্চিম মুরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩১নং কালেখা খলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ ছাড়াও ৪২নং পূর্ব চর গরবদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাদুয়া শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯নং উত্তর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২০নং চর বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২ নং উত্তর কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,২৪নং মুরাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩০নং এস.এম কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৮নং সন্তোষদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৭নং ঝাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৬নং চর বয়রা নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২১ নং পশ্চিম লেবুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩নং পাঙ্গাশিয়া নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৪নং উত্তর পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯নং উত্তর শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৪নং শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪৩নং দক্ষিণ লেবুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫নং দক্ষিণ পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২নং উত্তর কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২নং নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১২নং উত্তর কার্তিকপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫১নং দুমকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন এগুলোও রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায় । এসব ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় আতঙ্কের মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ বিদ্যালয়ের ভবন গুলোর ছাদ, ভিম ও দেয়াল থেকে খসে পড়েছে পলেস্টার। বেরিয়ে এসেছে ছাদ ও ভিমে মরীচিকা ধরা রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে শ্রেনিকক্ষে। সম্পৃতি ৭নং মধ্য পাঙ্গাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদের কংক্রিট খসে পড়ে ও ভিমের রড গুলো বেরিয়ে এসছে এবং ৩১নং কালেখা খলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা খুবিই জরাজীর্ণ যে কোন সময় নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে। ৩১ নং কালেখা খলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ আসমা বেগম বলেন বিকল্প কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রাথমিক(ভারপ্রাপ্ত) শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ মরিয়ম পারভীন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় গুলোর তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বরাদ্দ আসলেই নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে।


আরো সংবাদ