১৪ নভেম্বর ২০১৮

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইথিওপিয়া, আদ্দিস আবাবা যেন বেইজিং

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ইথিওপিয়া, আদ্দিস আবাবা যেন বেইজিং - সংগৃহীত

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আফ্রিকা মহাদেশের দেশ ইথিওপিয়া। দেশের সার্বিক উন্নতির সাথে সাথে পাল্টে যাচ্ছে রাজধানী আদ্দিস আবাবাও। আকাশচুম্বী আধুনিক অট্টালিকা, উন্নত রেল যোগাযোগ ও সুন্দর, ঝকঝকে তকতকে রাস্তাঘাট সবই গড়ে উঠেছে সেখানে।

চীনের বিনিয়োগে বদলে যাচ্ছে ইথিওপিয়া, বদলে যাচ্ছে আদ্দিস আবাবা। সমুদ্র স্তর থেকে প্রায় ২ হাজার ৩৫৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রাজধানীগুলোর একটা। ৩০ লক্ষাধিক নাগরিকের বাস এই শহরে। আদ্দিস আবাবার এক প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে পলি লোটাস এস্টেট নামে বিশাল এক অট্টালিকা। এটা তৈরি করেছে চীনের এক বেসরকারি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান শিহাই রিয়েল এস্টেট।

এমন শহরজুড়ে শত শত অট্টালিকা নির্মাণ করেছে চীনা কোম্পানি এবং তা অব্যাহত আছে। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক বিমানবন্দর, শহরের মধ্য দিয়ে আধুনিক রেলপথ, রাস্তাঘাট। এর সবই তৈরি হয়েছে চীনা বিনিয়োগে। সব মিলিয়ে আদ্দিস আবাবা দেখতে পুরো দস্তুর চীনের আর পাঁচটা শহরের মতোই।

১৯৯৫ সালে চীন সফর করেন সাবেক ইথিওপীয় প্রধানমন্ত্রী মেলেস জেনাউই, যেখানে দু’পক্ষ স্বাক্ষর করেছিল একটি অর্থনৈতিক চুক্তিতে। ২০০০ সালে চীন-আফিকা সহযোগিতা বিষয়ক থম সম্মেলন আয়োজন করে বেইজিং। এরপর ২০০৩ সালে আদ্দিস আবাবা দ্বিতীয় সম্মেলন আয়োজন করায় দু’দেশের সম্পর্ক আরো জোরদার হয়। আদ্দিস আবাবার ভাগ্য বদলের সেই শুরু।

গত দুই দশকে চীন আদ্দিস আবাবায় ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের রাস্তাঘাট, ১ কোটি ২৭ লাখ ডলারের গোরেটা ক্রসরোড, ৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে ইথিওপিয়ার প্রথম ছয় লেনের হাইওয়ে, ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ইথিও-জিবুতি রেলওয়ে নির্মাণ করে।এখানেই চীন নির্মাণ করেছে সাব-সাহারা অঞ্চলের প্রথম মেট্রোরেল সিস্টেম। এটা ঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রীকে বহন করতে সক্ষম। একই সাথে চলে আবাসন খাত, শিল্প খাত ইত্যাদিতে ব্যাপক বিনিয়োগ।

ঋণ দিয়ে আফ্রিকার দেশগুলোকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে আফ্রিকাতে আরও ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেছেন, আফ্রিকার যেসব প্রকল্পে চীন বিনিয়োগ করবে সেসব প্রকল্প যে শুধু মানুষের কাজে লাগবে তা-ই নয়, প্রকল্পগুলো পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখেই বানানো হবে এবং সেগুলো হবে টেকসই।

ইরিত্রিয়ার সাথে শান্তিচুক্তিতে সম্মত ইথিওপিয়া
আলজাজিরা, ০৭ জুন ২০১৮

১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে স্বাধীন হওয়া ইরিত্রিয়ার সাথে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইথিওপিয়া। ২০০০ সালে দুই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ এ চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। চুক্তিটি প্রথমবারের মতো পুরোপুরি মেনে নিতে সম্মত হলো ইথিওপিয়া। দেশটিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আবেই আহমদ নিযুক্ত হয়ে জরুরি অবস্থা তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই দুই দেশের মধ্যে এ শান্তিচুক্তি মেনে চলার ঘোষণা দেয়া হলো। যা বহুদিন ধরে চলতে থাকা সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলেও ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞেরা।

এ চুক্তিটিতে সম্মতি প্রসঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ফিতসুম আরেগা টুইটারে এক বার্তায় জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তি প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় উভয় দেশ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছিল। অভিন্ন স্বার্থে এ অবস্থার অবশ্যই পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ইথিওপিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘ইরিত্রিয়ান সরকারেরও উচিত কোনো রকম পূর্বশর্ত ছাড়াই ২০০০ সালের চুক্তি মেনে চলতে সম্মত হওয়া এবং আগের মতো শান্তি ফিরিয়ে আনতে আমাদের আহ্বানে সাড়া দেয়া।’

১৯৯৩ সাল থেকে ইথিওপিয়ায় মতায় থাকা ইসাইয়াস আফয়ার্কির পদত্যাগের পর ৪২ বছর বয়সী আবেই মতায় আসেন এবং এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে এক ভাষণে বলেন, আমরা আমাদের ইরিত্রিয়ার ভাই ও বোনদের সাথে সমন্বয় সাধনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ইরিত্রিয়া সরকারকে সংলাপ শুরু করতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়া থেকে বের হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভোট দেয় ইরিত্রিয়ার জনগণ এবং এরপরই দেশটির সমগ্র লোহিত সাগর উপকূল নিজ সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করে নিলে ইথিওপিয়া স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়। পরে ১৯৯৮-২০০০ সাল পর্যন্ত দুই বছর উভয় দেশ সীমানা নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ হতাহত হয়।


আরো সংবাদ