২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩০, ১৪ জিলহজ ১৪৪৫
`
২০১৮ সালের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার প্রস্তুতি সংখ্যা-১০২

বাংলা প্রথম পত্র গদ্য : এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

-

সুপ্রিয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের বাংলা প্রথম পত্রের ‘গদ্য : এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।
টিভিতে রাতুল একটি অনুষ্ঠানের শিরোনাম দেখল, তাতে লেখা ছিল ‘অগ্নিঝরা মার্চ’। সে তার বড় ভাইকে লেখাটির প্রকৃত অর্থ জিজ্ঞেস করল। তিনি তাকে বললেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালিকে স্বাধীনতা আদায়ের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণে বাঙালির প্রাণে জেগেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, তারা প্রস্তুত হতে শুরু করেছিল সশস্ত্র সংগ্রামের জন্য। আর যেহেতু মার্চ মাসে ঘটনাটি ঘটেছিল, তাই মুক্তিযুদ্ধের কথা উঠলেই মার্চ মাসকে ‘অগ্নিঝরা মার্চ’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
প্রশ্ন : ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবে জন্মগ্রহণ করেন?
খ) বঙ্গবন্ধু কেন প্রধানমন্ত্রিত্ব চাননি?
গ) উদ্দীপকটি ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ রচনার সঙ্গে কিভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ) বঙ্গবন্ধুর ভাষণই মার্চ মাসকে ‘অগ্নিঝরা মার্চ’ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছেÑ উদ্দীপক ও এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম রচনার আলোকে উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
উত্তর : ক) ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ।
খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার রা করতে চেয়েছিলেন, পদের মোহ তাঁর ছিল না। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাননি।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে মতা হস্তান্তর না করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন চেয়েছিলেন, কিন্তু ইয়াহিয়া সরকার মতা হস্তান্তর না করে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালায়। আবার অধিবেশন বসলে শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাসেম্বলি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রিত্ব চান না; তিনি চান সাধারণ মানুষের মুক্তি।
গ) ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ রচনায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ লিপিবদ্ধ হয়েছে। আর উদ্দীপকেও মার্চ মাসের কথা বলা হয়েছে বলে উভয় বিষয়বস্তু একই সম্পর্কে আবদ্ধ। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। ইয়াহিয়া সরকার আওয়ামী লীগের হাতে মতা হস্তান্তর করতে টালবাহানা শুরু করে। এ অবস্থার পরিপ্রেেিত ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এ ভাষণে নিহিত ছিল স্বাধীনতার বীজমন্ত্র।
উদ্দীপকের রাতুল টিভিতে ‘অগ্নিঝরা মার্চ’ লেখা শিরোনাম দেখে এ সম্পর্কে কৌতূহলী হয়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে সংগ্রামের কথা ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ উদ্দীপ্ত হয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। ফলে মার্চ মাস বাঙালির ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। আর ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ রচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চে দেয়া সেই ঐতিহাসিক ভাষণকে কেন্দ্র করে রচিত বলেই উদ্দীপকের বিষয়বস্তু ও আলোচ্য রচনার বিষয়বস্তু একই সূত্রে গাঁথা।
ঘ) ‘বঙ্গবন্ধুর ভাষণই মার্চ মাসকে অগ্নিঝরা মার্চ হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে’Ñ উক্তিটি যথার্থ। ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালিদের হাতে মতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। ফলে ১৯৭১ সালের ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলন এবং ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীজ রোপিত হয়। উদ্দীপকে ‘অগ্নিঝরা মার্চ’ লেখা দেখে রাতুল এর মর্মার্থ বড় ভাইয়ের কাছে জানতে চায়। তার বড় ভাই অগ্নিঝরা মার্চ বলতেÑ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণে বাঙালির প্রাণে জেগেছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন, তারা প্রস্তুত হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য। ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামের ভাষণটি এ স্যাই বহন করে। বঙ্গবন্ধু ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ কথাটির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এ দেশের মানুষের স্বাধীনতার ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে এসেছিল।
এ ঘোষণার পর বাঙালিরা আর পিছপা হয়নি। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিরা এ দেশ স্বাধীন করে। মার্চ মাসে স্বাধীনতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বেশ কিছু ঘটনা ঘটলেও ৭ মার্চের ভাষণটিই এ মাসটিকে ‘অগ্নিঝরা মার্চ’ আখ্যা দিয়েছেÑ তাই এ কথাটি যথার্থ।


আরো সংবাদ



premium cement