১৬ জুন ২০২৪
`

নরডিক দেশের যৌথ বিমানজোট

নরডিক দেশের যৌথ বিমানজোট। - ছবি : সংগৃহীত

কোপেনহেগেন থেকে রয়টার্সের এক সংবাদে জানা যায়, রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় যৌথ বিমান প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা করছে নরডিক দেশগুলো। সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের বিমান বাহিনীর কমান্ডাররা চলতি মাসে ২৪ মার্চ বলেছেন, তারা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবেলার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত নরডিক বিমান প্রতিরক্ষা তৈরির উদ্দেশ্যে এক অভিপ্রায়পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। চারটি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ন্যাটোর অধীনে কাজ করার ইতোমধ্যে পরিচিত উপায়গুলোর ওপর ভিত্তি করে যৌথভাবে কাজ করতে সক্ষম হওয়াই এর উদ্দেশ্য।

ডেনমার্কের বিমান বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল জান ড্যাম রয়টার্সকে বলেন, গত বছরের ফেব্রæয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর বিমান বাহিনীকে একীভ‚ত করার এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। ড্যাম বলেন, ‘সম্মিলিত নৌবহরকে ইউরোপের একটি বৃহৎ দেশের সাথে তুলনা করা যেতে পারে।’

নরডিক অঞ্চলটি ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ডের পাশাপাশি ফারো দ্বীপপুঞ্জ, গ্রিনল্যান্ড ও এল্যান্ড নিয়ে গঠিত। নরডিক অঞ্চল বা নরডেন, পাঁচটি সার্বভৌম রাষ্ট্র ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনের সমন্বয়কে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে। পাশাপাশি এই রাজ্যগুলোর সাথে সংযুক্ত তিনটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল : ফারো দ্বীপপুঞ্জ এবং গ্রিনল্যান্ড (ডেনমার্ক) ও এল্যান্ডকে (ফিনল্যান্ড) ধরা হয়। সাধারণভাবে স্ক্যান্ডিনেভিয়া নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ককে বোঝায়। নরডেন শব্দটি ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে ও সুইডেনকে বোঝায়। এগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর একটি গ্রæপ ও ইউরোপের বাকি অংশ থেকে পৃথক। নরডিক দেশগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনবহুল সুইডেন, যেখানে ১০ মিলিয়নেরও বেশি লোক রয়েছে। সবচেয়ে কম জনবহুল হলো আলান্দ দ্বীপপুঞ্জ, যার জনসংখ্যা ২৯ হাজার ৪৮৯ জন। আয়তনের দিক থেকে বৃহত্তম দেশ গ্রিনল্যান্ড এবং সর্বনিম্ন জনবহুল দেশগুলোর মধ্যে একটি। নরডিক দেশগুলো তাদের লোক সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত, যেমন সঙ্গীত ও নৃত্য, কারুশিল্প, কৃষিকাজ, লোকস্থাপত্য, পোশাক, রূপকথা, লোককাহিনী ও জমকালো উৎসব।
নরডিক দেশগুলোর জন্য সহযোগিতা নতুন নয়, যাদের একই ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি ভাগাভাগি করে নেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক এবং সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার অতীত ইতিহাস রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে গঠিত নরডিক কাউন্সিল ও নরডিক পাসপোর্ট ইউনিয়ন স্নায়ুযুদ্ধের যুগে নরডিক দেশগুলোর বিদ্যমান যথেষ্ট বৈচিত্র্যময় বৈদেশিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সত্তে¡ও বিভিন্ন সহযোগিতা বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

নরডিক দেশগুলো সর্বদা জাতিসঙ্ঘের শক্তিশালী সমর্থক। ১৯৫৬ সালে সুয়েজ-সিনাইতে প্রথম জাতিসঙ্ঘের জরুরি বাহিনী দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু হয়। জাতিসঙ্ঘের বিভিন্ন অভিযানে সৈন্য দিয়ে সহায়তার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। লেবানন ও বলকান অঞ্চলে পাশাপাশি শান্তি সহায়তা অভিযানে, উল্লেখযোগ্যভাবে নর্ডব্যাট ও নরডিক-পোলিশ ব্রিগেড হিসেবে সম্মিলিত নরডিক ইউনিট কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জার্মানির রামস্টেইন বিমান ঘাঁটিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে যুগান্তকারী বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমা সমরবিশারদরা। ফলে চারটি দেশের বিমান বাহিনীর সম্পদ একীভ‚ত হয়ে যাবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাটোর এয়ার কমান্ডের প্রধান জেনারেল জেমস হেকার, যিনি এ অঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর তত্ত্বাবধানও করেন। এ থেকে বোঝা যায়, কলকাঠি নাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সম্মতি ও পরিকল্পনা রয়েছে।

ডেনিশ বিমান বাহিনীর প্রধান সম্মিলিত নরডিক বিমানবহরকে একটি বৃহৎ ইউরোপীয় দেশের সাথে তুলনা করেছেন। এই চারটি দেশের মধ্যে প্রশিক্ষণ, পরিবহন, নজরদারি বিমান এবং হেলিকপ্টারসহ তিন শতাধক যুদ্ধবিমান রয়েছে বলে জানা গেছে। নরওয়ের মোট ১০৯টি যুদ্ধবিমান রয়েছে- ৫৭টি এফ-১৬, ৩৭টি এফ-৩৫, ১৫টি এফ-৩৫, ফিনল্যান্ডে মোট ১২৬টি- ৬২টি পি/এ-১৮ হরনেট জেট এবং ৬৪টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে। ডেনমার্কে মোট ৫৮টি এফ-১৬, ২৭টি এফ-৩৫ রয়েছে। সুইডেনে মোট ৯০টির সবই গ্রিপেন জেট। তবে এর মধ্যে কয়টি বিমান চলাচল করছে তা জানা যায়নি।

বিমান বাহিনীর নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক মোতায়েন, যৌথ আকাশসীমা রক্ষণাবেক্ষণ, যৌথ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলন হবে নিরাপত্তার প্রধান লক্ষ্য। যৌথভাবে প্রকাশিত একটি নথিতে লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা সম্পর্কে এক সংক্ষিপ্ত বিবরণও দেয়া হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এই যুগান্তকারী চুক্তিটি রাশিয়ার আগ্রাসন প্রতিরোধ বা এমনকি লড়াই করার ক্ষেত্রে জড়িত সবার জন্য অভিন্ন কৌশল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাহিনীর সমন্বয়ে এয়ার ডিফেন্স টাস্কিংয়ের পাশাপাশি আকাশপথে নজরদারি আরো দক্ষ ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

সুইডেন ও ফিনল্যান্ড ন্যাটোতে যোগদানের আবেদন জানায় এক বছর হয়ে গেল। দু’টি দেশ কুর্দি বিছিন্নতাবাদীদের মদদ দিচ্ছে, তুর্কি ঘোষিত সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে এ কারণে তুরস্ক বেঁকে বসে। দু’টি দেশ সময় চায় সন্ত্রাসীদের দেশছাড়া করতে ও নেতাদের তুরস্কের হাতে তুলে দিতে। এ জন্য তারা তুরস্কের সাথে চুক্তিও করে। ফিনল্যান্ড এগিয়ে গেলেও সুইডেন কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্টকহোমে তুর্কি দূতাবাসের সামনে সুইডিশ রাজনীতিবিদরা সমুসপালুদানকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয় সুইডেন। তখন বিক্ষোভের নামে কুরআন অবমাননা করে উগ্র ডানপন্থী রাজনৈতিক দল হার্ডলাইনের এ নেতা। এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বলে সমর্থন করে সুইডেন সরকার। পালাদান ইতোপূর্বেও কুরআন পুড়িয়েছে। তাকে কোনো সাজা ভোগ করতে হয়নি। এবার তার কারণে পুরো সুইডেন বিপাকে পড়ল।

তুর্কি দূতাবাসের সামনে পবিত্র কুরআন পোড়ানোর ঘটনার পর ন্যাটোর সদস্যপদ পেতে সুইডেনকে তুরস্ক আর সমর্থন দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। স্টকহোমে দেশটির বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডকে ‘বাসফেমি’ হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। এ সময় এরদোগান আরো বলেন, ধর্মীয় অবমাননাকে বাকস্বাধীনতার কথা বলে সমর্থন দেয়ার কৌশলের দিন শেষ।

এরদোগান আরো জানান, অধিকার আর স্বাধীনতার বুলি আওড়ানোর প্রয়োজন নেই সুইডিশ সরকারের। যদি সত্যিই অধিকার আর স্বাধীনতার প্রতি সম্মান থাকত, তুর্কি প্রজাতন্ত্র বা মুসলিমদের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতিও সম্মান দেখাত।

অন্য দিকে কুরআন অবমাননায় মুসলিম উম্মাহ ঐক্যবদ্ধভাবে নিন্দা জানিয়েছে। পবিত্র কুরআন অবমাননার কারণে সুইডিশ ও ডাচ পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে মিসরের শীর্ষ ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়াতুল আজহার।
হাঙ্গেরিও তুরস্ককে সমর্থন করেছে। দুই নেতা এই ইস্যুতে বৈঠকও করেছেন। হাঙ্গেরির ভিক্টর অরব ফিনল্যান্ড ও সুইডেনে ন্যাটোর অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

জানা যায়, ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিরা জোরোভ বলেছিলেন, হাঙ্গেরি যদি ইইউর কোভিড-১৯ পুনরুদ্ধার তহবিল থেকে ৫.৮ বিলিয়ন ইউরো অনুদান পেতে চায় তবে তাকে অবশ্যই তার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। ভিক্টর মনে করেন, এসব ইউরোপীয় কূট চাল। তিনি বলেন, প্রাপ্য তহবিল না দিলে ভিন্নপথ ধরবেন।

ন্যাটো প্রধান জেনস স্টলটেনবার্গ হেলসিঙ্কি সফরকালে তুরস্ক ও হাঙ্গেরি উভয়কেই সদস্যপদের ইস্যুতে সম্মতি দেয়ার জন্য জোর আহ্বান জানান। ন্যাটোর টাইম লাইন অনুসারে মার্চ মাস এক মোক্ষম সময় যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিমান ও নৌবাহিনীর আক্রমণ করা না হলে ইউক্রেন শেষ হয়ে যাবে। রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য গতি রুখে দিতে ন্যাটো সরাসরি সেনা না পাঠিয়ে বিভিন্ন ফ্রন্টের মাধ্যমে আক্রমণ জোরদার করতে চায়। সে হিসাবে অর্থ ও অস্ত্রের চালানের স্রোত দিয়েও ইউক্রেনকে রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাই বিমান ও সাগর পথে বাধা দেয়ার কৌশল নিয়েছে ন্যাটো।

পুতিন বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন। তিনি আগেভাগেই কৃষ্ণসাগর করায়ত্ত করেছেন, তার সাবমেরিন ও পরমাণুচালিত যানগুলো সেখানে অবস্থান নিয়েছে। মিসাইল ও বিমান হামলা প্রতিরোধের জন্য মূল ঘাঁটিগুলোকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সে অনুসারে হামলা অব্যাহত রেখেছেন। ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এখনো সদস্যপদ না পেলেও চারটি দেশ ন্যাটো কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।

অভিপ্রায়ের ঘোষণাটি নরডিক বিমান বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করার পথ প্রশস্ত করেছে। চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো- ইতোমধ্যে পরিচিত ন্যাটো পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে যৌথ বিমান অভিযানের জন্য নির্বিঘ্নে যুদ্ধ করার সক্ষমতা অর্জন। বিমান জোট সার্থকভাবে কাজ করতে পারলে অচিরেই তারা যৌথ নৌ বাহিনীও গঠন করবে বলে মনে করছেন সমরবিশারদরা।

ডেনিশ বিমান বাহিনীর কমান্ডারের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের ফলে বিমান বাহিনীকে একীভ‚ত করার পদক্ষেপ শুরু হয়েছিল। চুক্তিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন নরডিক প্রতিবেশীদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক চাপের মধ্যে রয়েছে। ক্রেমলিনের সামরিক ও ক‚টনৈতিক পদক্ষেপে ভীত নরডিক দেশগুলো তাদের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা এখন ন্যাটোর সহযোগী হিসেবে ঝামেলাবিহীনভাবে আক্রমণ চালনায় সহায়ক হবে। ন্যাটোতে যোগ দেয়ার ফিনল্যান্ডের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার ভালো লাগেনি। দেশটি হেলসিংকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দিয়েছিল। ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্তে মোতায়েনের জন্য ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে একটি নতুন সেনা কোর স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রাশিয়া। গত বছর আগ্রাসনের শুরুতে মস্কো ফিনল্যান্ডের সীমান্ত থেকে তাদের কিছু সেনা সরিয়ে নিয়ে ইউক্রেনে মোতায়েন করেছিল।

নরডিক চারটি দেশ আকাশসীমা রক্ষাব্যবস্থা আরো সংহত করতে নজরদারি সিস্টেম থেকে রাডার ডেটা যৌথভাবে ব্যবহার করতে পারবে। এ দিকে ন্যাটোতে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্তে সুইডেনকে গুরুতর সামরিক ও রাজনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করেছে রাশিয়া।

ইউক্রেন আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে ডেনমার্ক ও নরওয়েও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। নরওয়ে ও ডেনমার্ক উভয়েই ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করেছে যাতে তারা রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবেলায় সহায়তা করতে পারে।

নরডেফকো সমঝোতা স্মারকটি নরডিক দেশগুলোর বাইরের দেশগুলোর সাথে সহযোগিতার জন্য উন্মুক্ত। স্মারকের ৭ ধারায় বলা হয়েছে- অংশগ্রহণকারী ছাড়া অন্যদের সাথেও নরডিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কার্যক্রম বিস্তার করা যাবে। সামরিক পর্যায়ে এ ধরনের সহযোগিতার সূচনা রাজনৈতিক বা মন্ত্রীপর্যায়ে বা সামরিক স্তরের মাধ্যমে নিচের দিকের উদ্যোগ হিসেবে আসতে পারে। সম্ভাব্য ব্যবহারিক সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের সহযোগিতার জন্য পরিচালনার নীতি অনুসারে কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে পৃথক মূল্যায়ন করা হবে। মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন কমিটি প্রদত্ত ম্যান্ডেটের মধ্যে একটি নতুন তৃতীয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেবে।

নরডিক প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা হঠাৎ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০১৮ সালের নভেম্বরে, নরডিক প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা ‘ভিশন-২০২৫’ স্বাক্ষর করেছিলেন, যা ১৬টি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে ২০২৫ সালের দিকে নরডিক অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য রাজনৈতিক কাঠামো এবং আকাক্সক্ষা তুলে ধরে। বলা হয়েছে, এটি কেবল শান্তির সময়েই নয়, সঙ্কট বা সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রেও সমানভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

সন্ত্রাস, সাইবার ও হাইব্রিড চ্যালেঞ্জগুলোর ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে, ভিশন-২০২৫ মূল্যায়ন করে যে এসব ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন। তদুপরি লক্ষ্য হলো- নরডিক অঞ্চলে সামগ্রিক প্রতিরক্ষায় আন্তঃকার্যকারিতা, প্রতিরোধ ও সহযোগিতা জোরদার করা। নরডিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার উচ্চাকাক্সক্ষা নরডিক অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত। সুতরাং নরডিক-ট্রান্সআটলান্টিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা এবং বাল্টিক দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা ও সংলাপ আরো বিকাশের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি একটি ঘোষিত উচ্চাকাক্সক্ষা।

শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সহযোগিতার কাঠামোকে মজবুত করা। গভীর ও বিস্তৃত সহযোগিতার খাতকে গভীর ও বিস্তৃত করতে ইইউ, ন্যাটো ও জাতিসঙ্ঘের নেতৃত্বাধীন কার্যক্রমের মধ্যে শান্তি ও নিরাপত্তার কাজে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার সাথে আরো দক্ষ এবং টেকসই ইউনিটগুলোর সাথে ফ্রন্ট লাইনে কাজ করে অভিজ্ঞতা ও নির্ভুলতার স্বাক্ষর রাখা। উল্লেখ্য, বর্তমানে ডেনমার্ক ইইউ-অপারেশনে অংশ নেয় না।

এটি স্পষ্ট যে, বিমান জোটটি ন্যাটোর সহায়তাপুষ্ট পোশাকি নামের একটি সামরিক শাখা। ন্যাটোর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতায় বিমান আক্রমণ চালানোর জন্য এটির জন্ম। বর্তমান পরিস্থিতিতে নরডিক জোট রাশিয়ার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাতে পারে, সে ক্ষেত্রে রাশিয়ার যুদ্ধ আরো বিস্তৃত পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে। ইরানের সংযুক্তি, সৌদি আরবের সমর্থন ও চীনের সরাসরি অস্ত্র সহায়তা এই পটভ‚মিতে বিশ্লেষণ করতে হবে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ



premium cement
এবারের হজে যোগ দিলো ২০ লাখেরও বেশি মুসলিম আ’লীগ নেতার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় আইসক্রিম ফাক্টরি মালিক সরকারের নতজানু নীতির কারণে সীমান্তে আগ্রাসন : মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে তৎপর থাকার নির্দেশ বিজিবি প্রধানের বাংলাদেশ জাতীয় মুফতী বোর্ডের ‘কুরবানী ও ঈদুল আযহা’ শীর্ষক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত ইরানের নির্বাচনে কে হবেন নতুন প্রেসিডেন্ট ধলেশ্বরী নদী থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে আনছে ইসরাইল! চিন্তায় বাইডেন ঈদের দিন কি বৃষ্টি হবে! এক লাখ কোটি টাকার কোরবানির অর্থনীতি ‘শয়তানকে পাথর মারার’ মধ্যদিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেছেন হাজীরা

সকল