বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা শুরু

বিগত ছয় বছরে নানা প্রতিকূলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলায় এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় ও আদর্শ ‘স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তুলতে এই আন্তর্জাতিক আসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা শুরু
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা শুরু |সংগৃহীত

আজ থেকে রাজধানীর বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬’।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল মো: হাসান উজ জামান প্রধান অতিথি হিসাবে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী করেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রোমোটর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম (অব:), বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির নির্বাহী কর্মকর্তা কর্নেল মোহাসিনুল করিম (অব:)।

পাঁচ দিনব্যাপী এবারের আসরে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১১টি দেশের ২৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, হংকং, সিঙ্গাপুর, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, জাপান ও জার্মানি।

আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কধারী পেশাদার খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে এবারের টুর্নামেন্ট অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এবার পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ প্রায় ১৭ টি দেশের ৮৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় অংশগ্রহণের জন্যে রেজিস্ট্রশন করলেও পেশাদার স্কোয়াশ এসোসিয়েশনের বাধ্যবাধকতা এবং প্রতিযোগিতার ড্র সাইজের জন্যে প্রথম দিকের ২১ জন বিদেশী খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্ব র‌্যাঙ্কধারী ১১ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় আছেন। এবারের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ তরুণ প্রতিভা আমিনুল (৬৯৬তম), সাইমন (৭৭৫তম) ও পারভেজদের (৮৭৫তম) সাথে আরো রয়েছে মিসরের মো: গহর (বিশ্বের ৯১তম), জাপানের নওকি হারিস (১১৭তম), রভিন্দ্র লক্ষীশ্র (১৪৮তম), আয়ন ভিজালি (১৭৩তম), সিংঙ্গাপুরের জেরোম আও (১৮৫তম), বাহরাইনে ইউসুফ থানি (২২৪তম), হংকং-এর ইউলসন চেন (৩৩৭তম), জার্মানির ইউহোকম বিলিকভ (৩৪১তম), কুয়েতের বদর আলমঘারাবি (৩৫৬তম) ও ইরানের সিপার এতিমাডপোর মতো খেলোয়াড়রা অংশ নেবেন।

বিগত ছয় বছরে নানা প্রতিকূলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলায় এক নতুন জাগরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় ও আদর্শ ‘স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তুলতে এই আন্তর্জাতিক আসর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের মতে, স্কোয়াশকে নির্দিষ্ট গন্ডি থেকে বের করে তৃণমূল এবং সাধারণ মানুষের দ্বারে পৌঁছে দিতে ‘ক্লাসরুম স্কোয়াশ’ এবং ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’-এর মতো বৈপ্লবিক ও জনবান্ধব প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এর ফলে একসময় কেবল অভিজাতদের খেলা হিসেবে বিবেচিত স্কোয়াশ এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে জায়গা করে নিয়েছে। সীমিত সম্পদের দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশের এই সাফল্য ও তৃণমূল উন্নয়ন কার্যক্রম একটি অনুসরণযোগ্য বৈশ্বিক মডেল হতে পারে।

আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগতাটি আগামী ২৮ আগস্ট শেষ হবে।