২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮ ফাল্গুন ১৪৩০, ১০ শাবান ১৪৪৫
`

আগডুম বাগডুম : কবিতা

-

পড়ছে মনে মাকে
কামাল হোসাইন

মাগো তোমায় আজকে ভীষণ পড়ছে মনে খুব
মুখে আমার বোল ফোটে না, তাই হয়ে যাই চুপ
আমার সকল কাজকর্ম হাহাকারে ছাওয়া
ঝিম মেরে মা বসেই থাকি হয় না নাওয়া-খাওয়া

কেমন যেনো উদাস থাকি, ব্যাকুল সারাক্ষণ
হঠাৎ শুনি সবুজ সবুজ পাতার আলাপন
আমার বুকের কান্না বুঝি বুঝতে ওরা পারে
অব্যক্ত এক ইশারাতে বুঝায় বারেবারে!

বলছে বুঝি কেনো এমন কষ্ট নিয়ে থাকো
দুঃখ ছেড়ে মায়ের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রাখো
সারাজীবন কারো বলো মা থাকে কি ঘরে?
মায়ের কথা ভেবে কেনো কাঁপছ বিষম জ্বরে!
বরং তাকে দোয়ায় রাখো থাকেন যেন ভালো
প্রয়াণদিনে অমন করে মুখ করো না কালো।

তবু আমার মন মানে না, ডুকরে কেঁদে উঠি
না ফেরাদের দলে তুমি বাঁধলে মাগো জুটি।
সেই জুটিতে ভিড়বো কবে জানি না মা আমি
জানেন কেবল এই পৃথিবীর যিনি অন্তর্যামী।

 


আমাদের গ্রাম
জাহাঙ্গীর চৌধুরী

আঁকাবাঁকা মেঠোপথ গেছে বহুদূর,
দিবানিশি শোনা যায় পথে হাঁটা সুর।
সকালে কৃষক যায় কাঁধে নিয়ে হাল,
জেলে সব মাছ ধরে খোঁজে বিলখাল।
ঋতুরাজ এলে জাগে ফুল পাখি গান,
আনন্দে ভরে সদা মানুষের প্রাণ।
গ্রীষ্মের মজা ফল রসে ভরে মুখ,
ছেলেবুড়ো খেয়ে খুব প্রাণে পায় সুখ।

বরিষায় নদী করে স্রোতে কলকল,
ভেঙে নেয় দুই তীরে দুখীর সম্বল।
শরতের বনে জাগে সবুজের মেলা,
আকাশের গায় ওড়ে সাদা মেঘ ভেলা।
নবান্নে গান বাজে হেমন্ত সুর,
মনকাড়া পিঠা খেয়ে দুখ করি দূর।
শীতের হিমেলা ক্ষণ গাছে গাছে পাতা,
মানুষেরা খোঁজে লেপ কম্বল কাঁথা।
এই হলো আমাদের ঠিক বারোমাস,
সুখেদুখে রচি কতো কতো ইতিহাস।

 


স্মৃতির পাতা
এম ডি জিয়াবুল

হেলায় জীবন পার করেছি
শেষ করেছি বেলা,
শিশু কালের অতীত স্মৃতি
হায়রে কতো খেলা।
চিকন সুতোর লাটাই হাতে
উড়াই যখন ঘুড়ি,
পাড়ার লালু মদন কালু
কত ছিলো জুড়ি।
কলা পাতার ছাউনি ঘেরা
পুতুল পুতুল বিয়ে,
অতীত সে সুর জাগায় মনে
অবাক স্মৃতি নিয়ে।
কলা গাছের ভেলায় চড়ে
দিতাম নদী পাড়ি,
রঙ্গ রসের স্মৃতির প্রদীপ
কোথায় গেলো ছাড়ি?
ভালোবাসার কতো প্রীতি
শৈশব ছিল ঘিরে,
তিরিশ বছর পার করেছি
কী করে পাই ফিরে!

 

 

খোকা
হাসু কবির

মিষ্টি মধুর হাসি যখন
দেখি খোকার মুখে
দুঃখ ব্যথা দূরে পালায়
চিত্ত ভরে সুখে।

দেখলে তার ওই মায়াভরা
চাঁদের মতো মুখটা
অসীম শান্তি দোলা দিয়ে
সুখে ভরে বুকটা।

দুষ্টুমিটা করে যখন
ভালো লাগে খুবই
শান্ত ধরা অশান্ত হয়
হয়ে গেলে চুপই।

হাজার স্বপ্ন তাকে নিয়ে
সফল মানুষ হবে
যতই বাধা বিপদ আসুক
সত্য ন্যায়ে রবে।

 

শরৎ এলে
শেখ শান্ত

গন্ধেভরা ছন্দেভরা ফুরফুরে সব
মিষ্টি হাওয়া
নীল গগনে শুভ্র পরীর খুশি মনে
আসা-যাওয়া-
সোনাবরন সুয্যি মামার স্বচ্ছ কিরণ
উঠে হেসে
বিলের রানি আয়নাজলে পাপড়ি মেলে
থাকে ভেসে !
খালের জলে চান্দা পুঁটি ধীরে চলে
আহা! কী রূপ !
শরৎ এলে ফুল পরীরা পাখা মেলে
ভাল্লাগে খুব !

 

 

শরতের মেঘ
সরোয়ার রানা

শরতের মেঘ দেখে
মন ভরে যায়
খুকি বলে ক্যানভাস
যার জুড়ি নাই।

দুধ সাদা মেঘ যেনো
পরীদের ডানা
উড়ে উড়ে ঘুরে ফিরে
নাই কোনো মানা।

খুব ভোরে খোকা দেখে
ওই দূর আকাশে
নদী চলে এঁকে বেঁকে
কী দারুণ আঁকা সে!

হাতি ঘোড়া কত পাখি
ভাসে তার গায়ে
পাল তোলা নৌকা
ডানে আর বাঁয়ে।

মেঘেদের গায়ে আঁকা
কত কারুকাজ
ফুলে ফলে যেনো ভরা
কি দারুণ সাজ।

মেঘেদের গায়ে আঁকে
মুক্তির ছবি
রাঙা লাল ভরে যায়
ডুবে গেলে রবি।

 


রোদের উঁকি
মোহাম্মদ কুতুবউদ্দিন

রোদের উঁকি দুয়ারে
খুকুর দল কই রে
শোরগোলে উঠ রে
লাগাও হইচই রে।

ঘড়ির কাঁটা টিকটিক
রোদের আলো ঝিকঝিক
আর নয় ঘুমে ঘুমে
মাখ গায়ে রোদ চুমে।

পাখি দল ডানা নেড়ে
হাসে খেলে মাঠ জুড়ে।
ঠোঁটে থাকে ধান আঁটি
খুকুরা বিছায় পাটি।

তই তই কক কক
খুকু করে বকবক।
এই যাহ! যা না
ধান খেতে মানা।


আরো সংবাদ



premium cement