২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫
`

তারাবি মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি

-

মাহে রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল সালাতুত তারাবি । তারাবি রোজার বিশেষ অনুষঙ্গ। তারাবি আরবি শব্দ। তার একবচন তারবিহাতুন। অর্থ অবসাদ দূর করা, বিশ্রাম করা ইত্যাদি । যেহেতু ২০ রাকাত তারাবিতে চার রাকাত পর পর বিশ্রাম করা হয়-এজন্য এ নামাজকে তারাবির নামাজ বলা হয়।

তারাবির অর্থ যেখানে অবসাদ দূর করা, আরাম করা, বিশ্রাম করা। সেখানে আমাদের সমাজে তারাবি মানে তাড়াতাড়ি পড়া। চার রাকাত পর পর বিশ্রাম হয় না। বরং বিদ্যুৎ গতিতে আমরা তারাবি পড়ি। এর কারণে রুকু-সেজদা ঠিকমতো আদায় হয় না। এমনকি কখনো দ্রুত তেলাওয়াত করতে গিয়ে কুরআনের শব্দ বিকৃত হয়ে যায়।

যে ইমাম দ্রুত তারাবি পড়াতে পারেন তাকে বাহবা দেয়া হয় । পক্ষান্তরে যে ধীরস্থিরভাবে তারাবি পড়ান, তিনি উপেক্ষিত থাকেন। অথচ এটা শরীয়তে কাম্য নয়। নামাজ পড়া হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। একমনে ধীরস্থিরতার সাথে নামাজ পড়া ব্যতীত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়। মুমিন ব্যক্তি তো সারাদিন রোজা রাখার পরও ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়েও তারাবির নামাজে আল্লাহর পবিত্র কালাম শ্রবণে প্রশান্তি লাভ করে।

তারাবির হুকুম
তারাবির নামাজ পুরুষ ও মহিলার জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা। বিনা ওজরে কেউ ছাড়লে গোনাহগার হবে। আর জামাতের সাথে তারাবির নামাজ পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। মহল্লার কেউ যদি না পড়ে তাহলে সবাই গোনাহগার হবে । রমজান মাসে তারাবি নামাজের মধ্যে একবার কুরআন খতম করা সুন্নত।

তথ্যসূত্র : ফাতাওয়ায়ে শামী : ২/৪৪, ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ১/১১৬)

লেখক : শিক্ষক, শেখ জনূরুদ্দীন রহ: দারুল কুরআন মাদরাসা, চৌধুরীপাড়া, ঢাকা

 


আরো সংবাদ



premium cement