অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন আজহার আলীর

Printed Edition
আজহার আলী ও স্ত্রী এলেজা বেগম : নয়া দিগন্ত
আজহার আলী ও স্ত্রী এলেজা বেগম : নয়া দিগন্ত

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

ভাঙাচোরা ঘর। বৃষ্টি এলেই চাল ও বেড়া দিয়ে পানি পড়ে। সেই ঘরেই অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইউনিয়নের মোসলেমাবাদ আইগেনীপাড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী আজহার আলী। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারিয়ে তিনি এখন কর্মহীন। আর তার স্ত্রী এলেজা বেগম প্রায় ছয় মাস ধরে প্যারালাইজড হয়ে শয্যাশায়ী। অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না তিনি।

গত রোববার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পাকা সড়কের পাশে জরাজীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন আজহার আলী ও তার স্ত্রী। ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। বৃষ্টি হলে চাল ও বেড়া দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়লেও অর্থের অভাবে ঘরটি সংস্কার করতে পারছেন না তারা।

স্থানীয়রা জানান, একসময় দিনমজুরের কাজ করে স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালাতেন আজহার আলী। বয়স বাড়ার সাথে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এখন আর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। ফলে উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে সংসারে দেখা দিয়েছে চরম অভাব।

আজহার আলীর একমাত্র ছেলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অন্যত্র বসবাস করেন। অসুস্থ বাবা-মায়ের নিয়মিত খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বৃদ্ধ দম্পতি অনেকটা একাই দিন কাটাচ্ছেন।

এলেজা বেগমের দুই পা অবশ হয়ে যাওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। স্ত্রীকে দেখাশোনার পাশাপাশি সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন আজহার আলী।

আজহার আলী বলেন, বয়সের কারণে এখন আর কাজ করতে পারেন না। স্ত্রীও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা করাতে পারছেন না। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঘরটি মেরামতের সামর্থ্যও নেই। সরকারি সহায়তা ও বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারবেন বলে জানান তিনি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন, এলেজা বেগমের শারীরিক প্রতিবন্ধিতা থাকলে তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে কিছু ওষুধ দিয়ে সহযোগিতা করা সম্ভব হলেও আর্থিক সহায়তার জন্য তাদের দপ্তরে কোনো ফান্ড নেই।

অসহায় দম্পতির চিকিৎসা, ঘর সংস্কার ও প্রয়োজনীয় সহায়তায় সরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।