হারিয়ে যাচ্ছে লাল ঝুটির কাঠঠোকরা পাখি

Printed Edition
হারিয়ে যাচ্ছে লাল ঝুটির কাঠঠোকরা পাখি
হারিয়ে যাচ্ছে লাল ঝুটির কাঠঠোকরা পাখি

শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)

একসময় গ্রামবাংলার বনজঙ্গল ও গাছপালায় অহরহ দেখা মিলত মাথায় লাল ঝুটির কাঠঠোকরা পাখির। বনপথে চলার সময় গাছের কাণ্ডে ঠোঁট ঠোকার ‘ঠক ঠক’ শব্দ জানান দিতো কাছেই আছে পাখিটি। কিন্তু বৈরী পরিবেশ, বনজঙ্গল কমে যাওয়া ও গাছ কাটার কারণে এখন ক্রমেই কমে যাচ্ছে এই পাখির সংখ্যা। একই সাথে হারিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে দেশীয় আরো অনেক প্রজাতির পাখিও।

কাঠঠোকরা দেখতে আকর্ষণীয়। মাথায় লাল ঝুটি, হলুদ, কালো ও লালচে পালক এবং লম্বা শক্ত ঠোঁট- এই পাখির প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধারণত আমড়া, শিমুলসহ পুরনো বড় গাছের কাণ্ডে ঠোঁট দিয়ে গর্ত করে বাসা বানায় এরা। গাছের কাণ্ডে ঠোঁট ঠোকার শব্দ দূর থেকেও শোনা যায়। তবে মানুষের উপস্থিতি টের পেলেই দ্রুত উড়ে গিয়ে আত্মগোপন করে এরা।

বেড়ার বিভিন্ন গ্রাম ও বনজঙ্গল ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও এসব এলাকায় নিয়মিত কাঠঠোকরার দেখা মিলত। এখন বিচ্ছিন্ন কিছু বনাঞ্চল ও পুরনো গাছপালা ছাড়া এ পাখির দেখা পাওয়া কঠিন। নির্বিচারে গাছ কাটা, আবাসস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশের পরিবর্তনই এর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাণিবিদদের মতে, কাঠঠোকরা শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না; গাছের কাণ্ডে থাকা ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভালো ভূমিকা রাখে। এ পাখিসহ দেশীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পুরনো গাছ ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ করা জরুরি।