মতলব উত্তর উপজেলায় মাদককারবারি মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

Printed Edition

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মাদকের ব্যাপক বিস্তারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ খুচরা বিক্রেতা ও সেবনকারীরা ধরা পড়লেও মূল অর্থ জোগানদাতা ও হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অত্যন্ত কৌশলে মাদকের কারবার চালানো হচ্ছে। ছোটখাটো বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান হলেও মূল সরবরাহকারী এবং নেপথ্যের নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যাটি স্থায়ীভাবে দূর হচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যেমন উঠতি বয়সের তরুণরা বিপথগামী হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবার ও সমাজে বাড়ছে নানা অস্থিরতা।

স্থানীয় অধিবাসী মো: আল আমিনের মতে, মাঝে মধ্যে খুচরা মাদকসহ কয়েকজন আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও মূল চালান যারা নিয়ে আসে, তারা ধরা পড়ে না। ফলে সমস্যার আসল সমাধান হচ্ছে না। সুলতানাবাদ ইউনিয়নের মো: রবিউল হক বলেন, শুধু গ্রেফতার যথেষ্ট নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহ লাইন ও পেছনের অর্থদাতাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতাও জরুরি।

মাদকের এমন ভয়াবহতায় উদ্বেগ জানিয়ে মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন বলেন, মাদক একটি সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্র থেকেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, শুধু সেবনকারী বা খুচরা বিক্রেতা নয়, যে পর্যায়েরই হোক না কেন, মাদকের মূল কারবারিদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক নির্মূল করতে হলে কেবল বিচ্ছিন্ন অভিযান পরিচালনা করলেই চলবে না। মাদকের উৎস শনাক্ত করা, সরবরাহের পথ বন্ধ করা, মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করা- এই চারটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগোতে হবে।

মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, পুলিশ প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে এবং আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতার পাশাপাশি মাদকের মূল উৎস ও নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রয়েছে। এই অভিযানে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।